শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬ - ১৪:৫৩
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান হিজবুল্লাহ প্রধানের

হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম বলেছেন, প্রকৃত ইসলামী ঐক্যের অর্থ হলো মুসলিম বিশ্বের প্রকৃত শত্রুর মোকাবিলা করা এবং সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলকে বিভক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী ও ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে কাসেম বলেন, মুসলিম ঐক্যের লক্ষ্য হওয়া উচিত মুসলমানদের শক্তিশালী করা এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানো। এর অর্থ হলো মুসলিম উম্মাহকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করা এবং সাম্প্রদায়িক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভেদ কাটিয়ে ওঠা।

তিনি বলেন, মুসলমানদের কাঙ্ক্ষিত ঐক্যের অর্থ হলো “আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিভাজনমূলক প্রকল্পের মোকাবিলা করা, যার লক্ষ্য আমাদের অঞ্চলকে খণ্ড-বিখণ্ড করা”। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বিরোধ পেছনে ফেলে প্রকৃত শত্রুর বিরুদ্ধে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে হবে।

কাসেমের মতে, এ ধরনের ঐক্যের দুটি ফল হবে—বিভাজন প্রতিহত করে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং সেই ঐক্যকে জাতীয় ও মানবিক ঐক্যে সম্প্রসারিত করা। তিনি বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনকে কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে ধরে ঐক্যবদ্ধ হব, কারণ ফিলিস্তিন পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎকে প্রতিফলিত করে।”

ফিলিস্তিনের প্রশ্ন কোনো সাম্প্রদায়িক ইস্যু নয় উল্লেখ করে কাসেম একে “ইসলামি, জাতীয়, আরব ও মানবিক ইস্যু” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন তাদের দুর্ভোগে থাকা ভাইদের পাশে দাঁড়ানো এবং শত্রুদের অঞ্চলে প্রবেশের বিষয়ে নিষ্ক্রিয় না থাকে।

তিনি বলেন, “আমাদের অঞ্চলকে নিরাপদ করতে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া প্রতিষ্ঠা এবং ঔদ্ধত্যের অবসানের সময় এসেছে।”

কাসেম আরও বলেন, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরান, ইয়েমেন ও ইরাকে দেওয়া ব্যাপক ত্যাগ ও আত্মত্যাগ এই অঞ্চলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি প্রকল্পকে থামিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি এবং আমরা পরাজিত হব না। প্রকৃত পরাজয় তখনই হবে, যখন আমরা আত্মসমর্পণ করব এবং সবকিছু শত্রুর হাতে তুলে দেব।”

লেবানন সরকারের সমালোচনা করে হিজবুল্লাহ প্রধান অভিযোগ করেন, সরকার ২৭ অক্টোবরের চুক্তি থেকে সরে গিয়ে শত্রুপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় প্রবেশ করেছে।

তিনি বলেন, “এই আলোচনা যুদ্ধ বন্ধ করেনি; বরং যুদ্ধকে বৈধতা দিয়েছে। কোনো কিছু অর্জন না করেই এটি শত্রুর কাছে একটি অপমানজনক আত্মসমর্পণ।”

কাসেম আরও জানান, হিজবুল্লাহ তথাকথিত “ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট” বা কাঠামোগত চুক্তির বিরোধিতা করে এবং এটি বাতিলের দাবি জানায়। তার ভাষায়, চুক্তিটি “অবৈধ, বেআইনি ও অপমানজনক” এবং এটি কোনো অধিকার পুনরুদ্ধার না করেই লেবাননের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha