রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬ - ০৮:৩৩
ইসলামি ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

মুসলমানদের মধ্যকার বিভেদ ও দ্বন্দ্ব দূর করে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমরা।তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও নেতৃত্বের আদর্শ অনুসরণ করলে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও জোরদার হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ (১২–১৭ রবিউল আউয়াল) উপলক্ষে শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘মহানবীর আগমন: হেদায়েত ও ঐক্যের আলোকবর্তিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বাংলাদেশ ইমামিয়া ওলামা সোসাইটি।

শনিবার বিকেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামি ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রাহিমি জাহানাবাদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আল-কুদস কমিটি বাংলাদেশের সভাপতি ড. শাহ কাওসার মুস্তফা আবুল উলাই এবং ঢাকাস্থ আল-মুস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি।

ইসলামি ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

রাজধানীর গাউসুল আজম জামে মসজিদের খতিব ও শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন।

ইসলামি ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

খুলনা ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল ও বাংলাদেশ ইমামিয়া ওলামা সোসাইটির সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাইয়্যেদ ইব্রাহিম খলিল রাজাভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর ড. মাহদি মৌলায়ী অরনি।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। তিনি মানুষকে অজ্ঞতা ও জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার পাশাপাশি মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তারা বলেন, মহানবী (সা.) সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ। পবিত্র কুরআনে তাঁকে ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সততা, ন্যায়পরায়ণতা, চারিত্রিক মাধুর্য ও মানবিক গুণাবলি তৎকালীন সমাজের মানুষকে আকৃষ্ট করেছিল। তাঁর আদর্শ ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ মানবজাতির জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ আদর্শ। তাঁর জীবন ও শিক্ষা অনুসরণ করলে মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান বিভেদ ও দ্বন্দ্ব অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার শিক্ষা মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকেই পাওয়া যায়।

তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা অনুসরণ করে মুসলমানদের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও জোরদার করতে হবে। তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই মুসলিম উম্মাহ শান্তি, ঐক্য ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে।

ইসলামি ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

ইসলামি ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha