হাওজা নিউজ এজেন্সি: ‘মুহাম্মাদি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গবেষণামূলক বিষয়সমূহ’ শীর্ষক ১২ খণ্ডের এই সংকলনটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের ১৫০০তম বার্ষিকী, ঐক্য সপ্তাহ এবং কোমে অনুষ্ঠিত ইসলামি ঐক্যবিষয়ক ৪০তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বৈজ্ঞানিক অধিবেশন উপলক্ষে প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইরানের হাওযা ইলমিয়ার পরিচালক আয়াতুল্লাহ আলী রেজা আরাফি এবং বিশ্ব ইসলামী মাজাহিব ঐক্য পরিষদের মহাসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন হামিদ শাহরিয়ারি উপস্থিত ছিলেন।

পুনরাবৃত্তিহীন ৬০ হাজার গবেষণামূলক বিষয়
এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকর্মটি হাওযায়ে ইলমিয়ার গবেষকদের এক দশকের ধারাবাহিক গবেষণা প্রচেষ্টার ফল। মহানবী (সা.)-এর ব্যক্তিত্ব, জীবন, সীরাত ও শিক্ষা-দর্শনের বিভিন্ন দিককে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপনের লক্ষ্যে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
সংকলনটিতে ইসলামি ও মানবিক শিক্ষার বিভিন্ন শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে ২৮টি গবেষণাক্ষেত্রে ৬০ হাজার গবেষণামূলক বিষয় ও প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব বিষয়ের মধ্যে একটিও পুনরাবৃত্তি করা হয়নি।
এ ছাড়া আরও ৫ হাজার বিশেষায়িত ও প্রয়োগভিত্তিক গবেষণামূলক বিষয় প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো আরও পরিমার্জন, শ্রেণিবিন্যাস ও সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করার পর ভবিষ্যতে গবেষকদের জন্য প্রকাশ করা হবে।
মুহাম্মাদি জ্ঞানকে প্রয়োগযোগ্য তত্ত্বে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা
এই মূল্যবান সংকলনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ঘিরে সমকালীন বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্নের আলোকে নানা বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে ৬০ হাজার গবেষণামূলক প্রশ্ন ও সমস্যা চিহ্নিত, উপস্থাপন ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর সীরাত, হাদিস ও জ্ঞান-প্রজ্ঞা নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি নতুন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গবেষণার ক্ষেত্র অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে।

সংকলনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো—রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস ও জ্ঞান-প্রজ্ঞাকে কীভাবে বাস্তবজীবনে প্রয়োগযোগ্য ও কার্যকর তত্ত্বে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণার পথ উন্মুক্ত করা।
কোম হাওযায়ে ইলমিয়ার পক্ষ থেকে মানবসমাজের জন্য উপহার
‘মুহাম্মাদি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার গবেষণামূলক বিষয়সমূহ’-এর ১২ খণ্ডের এই সংকলনকে বিশ্ব ইসলামী অঙ্গনে একটি অনন্য গবেষণাকর্ম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
কোম হাওযা ইলমিয়া এবং আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)-এর মাযহাবের অনুসারীদের পক্ষ থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বরকতময় অস্তিত্বের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে এটি মানবসমাজ, ইসলামবিষয়ক গবেষক এবং নবী-গবেষকদের জন্য উপহার হিসেবে পেশ করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কেবল একটি সূচনাপর্ব। পরবর্তী ধাপে এসব গবেষণার বিষয়কে অগ্রাধিকার অনুযায়ী সাজানো, সেগুলোর ব্যাখ্যা ও অনুসরণ করা এবং পর্যায়ক্রমে গবেষণার বিষয়গুলোকে প্রবন্ধ, গ্রন্থ, বৈজ্ঞানিক সেমিনার, মুক্তচিন্তার গবেষণা অধিবেশন এবং তাত্ত্বিক গবেষণার ফলাফল হিসেবে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মহানবী (সা.)-কে নিয়ে নতুন বৈজ্ঞানিক ও সভ্যতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি
এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা-সংকলনটি কোম হাওযা ইলমিয়া, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-অধিদপ্তর, গবেষণা উপ-অধিদপ্তর এবং হাওযা ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় গবেষণায় সহায়তাকারী সচিবালয়ের সহযোগিতায় প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকলন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে একটি নতুন সভ্যতাভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। একই সঙ্গে এটি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন মাজহাব ও চিন্তাধারার মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং জ্ঞানভিত্তিক ঐক্য ও সম্প্রীতি জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।
সুতরাং, ১২ খণ্ডের এই সংকলনকে শুধু গবেষণার বিষয়সমূহের একটি তালিকা হিসেবে নয়; বরং মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষাকে সমকালীন জ্ঞানচর্চা, মানবিক প্রয়োজন এবং সভ্যতাগত প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করার একটি বৃহৎ গবেষণা-প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপনার কমেন্ট