বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৯:১৭
ইরানের বিরুদ্ধে ইরাকি কুর্দিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের মার্কিন-ইসরায়েলি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ: ক্বালিবফ

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবফ বলেছেন, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনার জন্য ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল। তবে সেই ষড়যন্ত্র সফলভাবে নস্যাৎ করা হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মঙ্গলবার তেহরানে সফররত কুর্দিস্তানের প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে)-এর প্রধান বাফেল তালাবানির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ক্বালিবফ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন সম্ভবত ইরানের পক্ষ থেকে এত তীব্র প্রতিরোধ এবং এত বড় মাত্রার সামরিক ও রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখোমুখি হবে বলে প্রত্যাশা করেনি।

ইরানের সংসদ স্পিকার  বলেন, “আমেরিকানদের শুরু করা এই যুদ্ধে আমাদের মহান জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী দেখিয়ে দিয়েছে, কীভাবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী (জায়নিস্ট) সরকারকে মোকাবিলা করতে পারে।”

আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে ক্বালিবফ বলেন, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ও সামরিক অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করেছিল।

তালাবানিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তবে এই অঞ্চলে আপনাদের মতো বন্ধুদের সহযোগিতা এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে শত্রুর এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছে।”

তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ক্বালিবফ সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখবে।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে—বিশেষ করে ইরান ও ইরাকের মধ্যে। তাঁর ভাষায়, তারা এখন “ইরাকের স্থলভূমি ও আকাশ—উভয় স্থান থেকেই সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।”

তিনি বলেন, পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থা জোরদারের মাধ্যমে এ ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া উচিত নয় এবং “যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী (জায়নিস্ট) সরকারের অশুভ কর্মকাণ্ডের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”

ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে বাফেল তালাবানিও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে ক্বালিবফের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

ক্বালিবফের সঙ্গে বৈঠকে তালাবানি তাঁর প্রয়াত পিতা ও সাবেক ইরাকি প্রেসিডেন্ট জালাল তালাবানির কথা উল্লেখ করেন। ক্বালিবফ তাঁকে “মহৎ ব্যক্তি” এবং ইরানের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে স্মরণ করেন।

বাফেল তালাবানি বলেন, পিইউকে আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং তাঁর পিতার অনুসৃত রাজনৈতিক পথেই ফিরে এসেছে। কঠিন সময়ে ইরানের ঐতিহাসিক সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইরান ও ইরাকের সংগ্রাম গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় আমাদের সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে পাশে থেকেছে। তাই আমরা আপনাদের যুদ্ধ ও দুর্ভোগকে নিজেদের যুদ্ধ ও দুর্ভোগ হিসেবে দেখি এবং আপনাদের বিজয়কে নিজেদের বিজয় মনে করি।”

পিইউকে প্রধান আরও বলেন, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তাঁর দল দেবে না।

তিনি বলেন, “ইরান ও ইরাকের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তি বাস্তবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

এখানে উল্লিখিত নিরাপত্তা চুক্তিটি ২০২৩ সালে তেহরান ও বাগদাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিকে নির্দেশ করে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha