মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:২৭
স্মৃতিকথা: পবিত্র মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সৈয়দ মুসা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ

প্রায় তিন দশক আগের এক স্মরণীয় সাক্ষাৎ আজও হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। ১৯৯৭ সালের দিকে পবিত্র মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সৈয়দ মুসা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সেই মুহূর্তে তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর নৈতিক উপদেশ, পিতৃসুলভ ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞাময় কথন এক তরুণ তালিবে ইলমের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। সেই সাক্ষাতের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে তাঁর বিনয়, আধ্যাত্মিকতা ও জ্ঞানগভীরতার পাশাপাশি জাঞ্জানের আলেমসমাজের ঐতিহ্য এবং বিশ্বজুড়ে শিয়াদের কাছে তাঁর মর্যাদার নানা দিক।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভালোভাবে মনে আছে, যখন আমি পবিত্র কোমে গিয়েছিলাম এবং জামেয়াতুল মুস্তাফা আল-আলামিয়্যায় ভর্তি হই এবং তখন আমার তালিবি জীবনের প্রাথমিক পর্যায় ছিল, মাদরাসায়ে আল-মাহদি (আজ্জা.)-এর পক্ষ থেকে পবিত্র মাশহাদে একটি যিয়ারত সফরে গিয়েছিলাম।

মাদরাসার দায়িত্বশীলদের সমন্বয়ে আমরা পবিত্র মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আল-উযমা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ ও শারাফয়াবি (সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে উপস্থিত হওয়া) করতে গিয়েছিলাম। তাঁর উত্তম উপদেশে আমি খুবই প্রভাবিত হয়েছিলাম এবং আমার অন্তরে এক বিশেষ প্রশান্তি অনুভব করেছিলাম।

তিনি সংক্ষিপ্ত নৈতিক বাক্য বলতেন, তাঁর কথার গাম্ভীর্য আমার কাছে পিতৃসুলভ মনে হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে কথা বলতেন। একজন তালিবে ইলমের সফলতার রহস্য তিনি আমাদের কাছে অত্যন্ত সংক্ষেপে, সহজ ভাষায় এবং কয়েকটি গাম্ভীর্যপূর্ণ ও সুন্দর শব্দে উপস্থাপন করেছিলেন।

এই আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সাক্ষাৎটি সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে। সেদিন আমরা সব অ-ইরানি তালিবে ইলম পবিত্র মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আমিদ জাঞ্জানি (রহ.)-এর সম্মানিত বাসভবনে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও শারফয়াবি করতে গিয়েছিলাম।

তাঁর বাসভবনের প্রবেশদ্বারে তাঁর যোগ্য সন্তান আমাদের অ-ইরানি তালিনে ইলমদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলেন। তাঁর বয়স ছিল কম, সম্ভবত তখন তাঁর বয়স প্রায় ষোলো বা সতেরো বছর ছিল।

কিন্তু; তাঁর মহানুভবতা যেন এক মহান ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটাচ্ছিল। তিনি রুহানি পোশাক পরিধান করেছিলেন এবং মাথায় বড় পাগড়ি ছিল, তাঁর নূরানি চেহারা চতুর্দশ রাতের চাঁদের মতো আলোকিত ছিল। তাঁর মুখে হালকা হাসি ছিল এবং তাঁর অন্তরে যেন এক শক্তিশালী ব্যক্তি লুকিয়ে আছে।

আমি নিজেকে বললাম: এমন পিতার জন্য সন্তান এমন হওয়া স্বাভাবিক। তারা ঠিকই বলে যে, আলেমের সন্তান জ্ঞানের অর্ধেক।

আমি নিজেকে বললাম: জাঞ্জানের জনগণের জন্য আফরিন (শাবাশ), তাঁরা কত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এই দুই ব্যক্তিত্ব যেন দুই জগৎ ধারণ করে আছেন। জ্ঞানগত, আধ্যাত্মিক, নৈতিক দিক থেকে এবং...

আমরা ইমাম যামানা (আজ্জা.), বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা, জাঞ্জানের সম্মানিত জনগণ এবং বিশ্ব শিয়াবিশ্বের প্রতি আয়াতুল্লাহ আল-উজমা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর বিরহ/মৃত্যুতে সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ডক্টর মুহাম্মদ জয়নুল আবেদিন, (নেপাল)

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha