বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০১:৩৪
জ্ঞান ও নৈতিকতাই আগ্রাসীদের হাত ‘কেটে দেওয়ার’ হাতিয়ার: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনেয়ী নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষা একটি প্রতিরক্ষামূলক হাতিয়ার।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মঙ্গলবার নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় চালুর প্রাক্কালে এক বার্তায় আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনেয়ী বলেন, ঈমান ও নৈতিকতার সঙ্গে সমন্বিত জ্ঞান এমন একটি ‘লোহার ঢাল’, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন মোকাবিলায় সক্ষম।

তিনি বলেছেন, “বর্তমানে এমন এক সময়ে, যখন আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার বর্বরতা—বিশেষত অপরাধী মার্কিন সরকার ও কৃত্রিমভাবে প্রতিষ্ঠিত ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর—ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তাকওয়া ও নৈতিকতার সঙ্গে সমন্বিত শক্তি এমন এক লোহার ঢাল ও ধারালো তরবারি, যা মানবতার বিরুদ্ধে আগ্রাসনকারীদের হাত কেটে দিতে পারে।”

ইরানে নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনাকে সামনে রেখে দেওয়া এই বার্তায় দেশটির ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

তিনি শিক্ষার্থীদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো সময়কে জ্ঞান সম্প্রসারণ, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং পরিবার, সহনাগরিক ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, জ্ঞানের সীমানা সম্প্রসারণ এবং বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জনের মাধ্যমে ইরানের উন্নয়নে অবদান রাখা শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব।

তিনি শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, ফারসি ভাষা এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতীকগুলো সংরক্ষণের আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনেয়ী শিক্ষার্থীদের ইরানের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট নিহতদের স্মরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হওয়ার সময় কিছু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভূত হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ২৯৬ জন ইরানি শিক্ষার্থী এবং ৬৫ জনের বেশি শিক্ষক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রথম দিন সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটিতে মার্কিন বাহিনী মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরপর দুটি হামলা চালায়। এতে ১৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, শহীদ শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও শিক্ষকদের অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভূত হবে। তিনি বলেন, “এই শোক আমাদের চিন্তাকে সৎ ও অসত্যের মধ্যকার প্রকৃত সংগ্রাম এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার লড়াইয়ের দিকে পরিচালিত করবে।”

প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, তাঁদের অবদান আরও বেশি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।

শিক্ষকদের জীবিকা নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগের কথাও তিনি স্বীকার করেন এবং তাঁদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনেয়ী আরও বলেন, পূর্ববর্তী প্রজন্মের যেসব শিক্ষার্থী ইরানকে রক্ষা করেছেন, তাঁরা বর্তমানে শ্রেণিকক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ হিসেবে কাজ করবেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের অভিনন্দন জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, তরুণ প্রজন্ম বিজ্ঞান, শিক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও সাফল্য অর্জন করবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha