হাওজা নিউজ এজেন্সি: আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি তাঁর ‘তাফসিরে তাসনিম’ গ্রন্থে বলেন, কোরআনের বার্তা প্রতিটি যুগে সেই যুগের উপযোগী ভাষায় বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ঐশী ওহির অর্থ ও মর্মের সঙ্গে নির্দিষ্ট শব্দের অপরিহার্য কোনো সম্পর্ক নেই। মানুষের পারস্পরিক ভাব বোঝার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো শব্দ। তবে ভাষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য বিকশিত হওয়ার আগেও মানুষ ইশারা, শব্দ ও মুখভঙ্গির মাধ্যমে একে অপরের উদ্দেশ্য বুঝত।
শব্দের ভাষা ছাড়াও ভাব ও অর্থ প্রকাশের আরও অনেক মাধ্যম রয়েছে। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘লিসানুল কওম’ বা জনগণের ভাষা হলো চলচ্চিত্র, দৃশ্য ও ক্যামেরার ভাষা। এগুলো অর্থ ও জ্ঞান প্রচারের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। তাই কোরআনের বার্তা পৌঁছে দিতে এ মাধ্যমগুলোও কাজে লাগানো উচিত।
কোরআনের কাহিনিগুলো চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জন্য চমৎকার চিত্রনাট্যের ভিত্তি হতে পারে। তবে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের কল্পনা ও প্রবৃত্তিকে যেন বুদ্ধি ও বিবেকের ওপর প্রাধান্য না দেওয়া হয়। বরং তারা যদি উপলব্ধি ও প্রজ্ঞার সাহায্যে কল্পনাশক্তিকে বুদ্ধির অধীন রাখেন, তাহলে তাদের নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রভাব আরও গভীর হবে।
কারণ, বর্তমান বিশ্বে চলচ্চিত্রের ভাষা সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়। বইয়ের তুলনায় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কোনো বক্তব্য, অর্থ ও ধারণা মানুষের মন ও চিন্তায় আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। আজকের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে চলচ্চিত্র ও শিল্পের ভাষায় কথা বলা হলে এর প্রভাব বই ও বক্তৃতার চেয়ে কম নয়; বরং কখনো কখনো আরও বেশি হতে পারে।
ইমাম আলী (আ.)-কে তুলে ধরতে চাই মানসম্মত চলচ্চিত্র
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি বলেন, ইমাম আলী (আ.)-কে নিয়ে একটি যথার্থ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে অনেক পরিশ্রম প্রয়োজন। এমন চলচ্চিত্র হওয়া উচিত, যা শুধু ইতিহাসের ঘটনা, বর্ণনা কিংবা জামাল, সিফফিন ও নাহরাওয়ানের যুদ্ধের কাহিনি তুলে ধরবে না; বরং এমন একজন ইমামকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করবে, যিনি পার্থিব পথের চেয়ে আসমানি পথ সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন।[১]
এ ধরনের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শিল্পের ভাষায় ইমাম আলী (আ.)-এর এমন সব খুতবার মর্মও তুলে ধরা সম্ভব, যার একটি সম্পর্কে বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ও শরহে নাহজুল বালাগা-এর লেখক ইবনে আবি আল-হাদিদ বলেছেন, “গত পঞ্চাশ বছরে আমি এই খুতবাটি এক হাজারেরও বেশি বার পড়েছি; আর প্রতিবারই এর মধ্যে আমার জন্য নতুন কোনো ভয় ও উপদেশের শিক্ষা সৃষ্টি হয়েছে।”
পাদটীকা: [১] নাহজুল বালাগা, খুতবা ১৮৯।
সূত্র: আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি, তাফসিরে তাসনিম, খণ্ড ৪০, পৃষ্ঠা ৮৪–৮৫।
আপনার কমেন্ট