শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:৩০
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বৈতনীতি অন্যায়: পাকিস্তান শিয়া আলেম পরিষদের প্রধান

হাওজা নিউজ এজেন্সি— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পরমাণু নীতিতে দ্বৈত মানদণ্ডের সমালোচনা করেছেন পাকিস্তান শিয়া আলেম পরিষদের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা সৈয়দ সাজিদ আলী নাকভি। তিনি বলেছেন, একদিকে ‘আধিপত্যবাদী ও ইহুদিবাদী শক্তিগুলোর’ আগ্রাসন ও নৃশংসতার ক্ষেত্রে নীরবতা দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনাকারী দেশগুলোর ওপর চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।

বিশ্ব নৌ দিবস (২৪ সেপ্টেম্বর), আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র সম্পূর্ণ বিলোপ দিবস (২৬ সেপ্টেম্বর) এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ দিবস (২৯ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা সৈয়দ সাজিদ আলী নাকভি বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমার সুরক্ষা এবং নৌপথের নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য প্রতিবছর বিশ্ব নৌ দিবস পালিত হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিকাশ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতের প্রভাব স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাঁর ভাষায়, আগ্রাসন, আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদী নীতির ধারাবাহিকতা বিশ্বশান্তি, বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবসগুলোর প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তান শিয়া আলেম পরিষদের প্রধান বলেন, এমন এক সময়ে এসব দিবস পালিত হচ্ছে, যখন অতীতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মানবতা ও মানবসভ্যতার ওপর অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। অথচ বর্তমানে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তির ব্যবহারে জোর দেওয়া একটি দেশের পরমাণু কর্মসূচি চাপ ও বৈরী পদক্ষেপের মুখে রয়েছে।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু শক্তির ব্যবহার সব দেশের মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে যেসব দেশ বিপজ্জনক পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী এবং অতীতে এসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে কিংবা ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে, তাদের আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিবিধানের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করা উচিত।

মাওলানা সৈয়দ সাজিদ আলী নাকভি আরও বলেন, ‘ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর’ পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে কার্যকর ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া, অথচ শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনাকারী দেশগুলোর ওপর চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আচরণে দ্বৈত মানদণ্ডের স্পষ্ট প্রতিফলন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, লাগামহীন শক্তি প্রয়োগ এবং আধিপত্যবাদী নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই মানসিকতার ধারাবাহিকতা বিশ্বকে এমন এক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার পরিণতি কোনো একটি অঞ্চল বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব থেকে বিশ্বের কোনো অংশই নিরাপদ থাকবে না।

পাকিস্তান শিয়া আলেম পরিষদের প্রধান জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, আন্তর্জাতিক দিবসগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্‌যাপন ও বিবৃতির মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে যুদ্ধ, আগ্রাসন, আধিপত্যবাদ এবং ধ্বংস ও সর্বনাশের দিকে নিয়ে যায়—এমন প্রবণতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, এখনো পরিস্থিতি সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সব দেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের ন্যায়সংগত ও সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘকে তার সক্ষমতা ও প্রভাব কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha