মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৪:০৭
শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ছিলেন ‘এক উম্মত’

শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ছিলেন ‘এক উম্মত’

প্রতিরোধের সাইয়্যেদ আপস ও হীন স্বার্থপরতার কাছে নতি স্বীকার করেননি

হাওজা ইলমিয়ার পরিচালক বলেন: শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ সত্যিকার অর্থেই ছিলেন একটি উম্মত; এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি আপস, নীরবতা ও হীন স্বার্থপর হিসাব-নিকাশের কাছে নতি স্বীকার করেননি। তিনি কোনো একটি নাম, একটি সংগঠন বা একটি ভূগোলের সীমারেখায় আবদ্ধ ছিলেন না। তাঁকে কেবল লেবাননের বীর হিজবুল্লাহর মহাসচিব-এই আনুষ্ঠানিক পরিচয়ে চেনা যায় না।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হাওজা ইলমিয়ার পরিচালক আয়াতুল্লাহ আলী রেজা আরাফি, হিজবুল্লাহর গৌরবময় মহাসচিব শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সম্মানিত পরিবারের প্রতি এক বার্তায় বলেন: শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ সত্যিকার অর্থেই ছিলেন একটি উম্মত।

তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি কোনো একটি নাম, একটি সংগঠন বা একটি ভূগোলের সীমারেখায় আবদ্ধ ছিলেন না এবং তাঁকে কেবল লেবাননের বীর হিজবুল্লাহর মহাসচিবের আনুষ্ঠানিক পদবির মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যায় না।

হাওজা ইলমিয়ার পরিচালক আরও জোর দিয়ে বলেন, শহীদ নাসরুল্লাহ তাঁর সময়ে এমন এক আলেমের প্রতিচ্ছবি ছিলেন, যিনি দ্বীনকে সমাজের বৃহৎ দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন, নির্জন ও স্বাচ্ছন্দ্যনির্ভর কোনো ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ করেননি। তিনি ছিলেন এমন এক আলেম, যিনি গভীর ধর্মীয় জ্ঞানকে দায়িত্বের সঙ্গে, ঈমানকে আমলের সঙ্গে, বেলায়াতকে দৃঢ় অবস্থানের সঙ্গে এবং আহলে বাইত (আ.)-এর মাযহাবকে মানুষের মর্যাদা রক্ষা ও মজলুমদের সাহায্যের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে জীবিত এবং রিজিকপ্রাপ্ত।

মুজাহিদ আল্লামা শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ (রহ.)-এর সম্মানিত পরিবারের প্রতি

হিজবুল্লাহর গৌরবময় মহাসচিব মুজাহিদ আল্লামা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর গৌরবময় শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকীর প্রাক্কালে আমরা এই মহান শহীদের নাম ও স্মৃতি এবং আপনাদের-এই শহীদের সম্মানিত পরিবারের-মহত্ত্ব, প্রতিরোধ ও ধৈর্যকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ সত্যিকার অর্থেই ছিলেন একটি উম্মত। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি কোনো একটি নাম, একটি সংগঠন বা একটি ভূগোলের সীমারেখায় আবদ্ধ ছিলেন না। তাঁকে কেবল লেবাননের বীর হিজবুল্লাহর মহাসচিবের আনুষ্ঠানিক পরিচয়ে চেনা যায় না।

শহীদ নাসরুল্লাহ তাঁর যুগে এমন এক আলেমের প্রতিচ্ছবি ছিলেন, যিনি দ্বীনকে নির্জন, স্বাচ্ছন্দ্যনির্ভর ও বৃহৎ সামাজিক দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ করেননি। তিনি ছিলেন এমন এক আলেম, যিনি গভীর ধর্মীয় জ্ঞানকে দায়িত্বের সঙ্গে, ঈমানকে আমলের সঙ্গে, বেলায়াতকে দৃঢ় অবস্থানের সঙ্গে এবং আহলে বাইত (আ.)-এর মাযহাবকে মানুষের মর্যাদা রক্ষা ও মজলুমদের সাহায্যের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।

“নাসরুল্লাহ ছিলেন একটি উম্মত”-এই অভিব্যক্তি তাঁর বহুমাত্রিক ও সর্বাঙ্গীণ ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। তিনি ছিলেন একজন ধর্মীয় আলেম, সামাজিক নেতা, প্রজন্মের প্রশিক্ষক, মজলুমদের মুখপাত্র, কৌশলগত উপলব্ধিসম্পন্ন একজন কমান্ডার এবং এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁর মধ্যে আমাদের সময়ে শিয়া আলেম সমাজের বিচক্ষণ, সাহসী ও মর্যাদাপূর্ণ নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটেছিল।

শহীদ নাসরুল্লাহকে ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর আদর্শধারা এবং শহীদ উম্মতের ইমাম, হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী (দামাত বারাকাতুহু)-এর ধারাবাহিকতায় বুঝতে হবে। এই আদর্শধারা আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় সভ্যতাভিত্তিক, মর্যাদাকেন্দ্রিক ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে এবং ৬১ হিজরির আশুরার চিরন্তন বাণী-“হায়হাত মিন্‌নায-যিল্লাহ” (অপমান আমাদের থেকে বহু দূরে)-কে সত্য ও মিথ্যার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কার্যকর ও পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করে।

এই আদর্শধারায় একজন ধর্মীয় আলেমকে তাঁর সময়কে চিনতে হবে, মানুষের ব্যথা ও দুর্দশা অনুভব করতে হবে, শত্রুকে যথাযথভাবে ও অন্তর্দৃষ্টির সঙ্গে শনাক্ত করতে হবে, সন্দেহ সৃষ্টি ও কৃত্রিম হিসাব-নিকাশের প্রভাবে বিচ্যুত হওয়া যাবে না এবং বিপদের মুহূর্তে মাঠের প্রান্তে নয়; বরং দায়িত্বের কেন্দ্রে এবং উম্মতের অগ্রভাগে অবস্থান করতে হবে।

শহীদ নাসরুল্লাহ তাঁর যুগের ভাষা বুঝতেন। তিনি গণমাধ্যমের কার্যপ্রণালি, জনমত ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তিনি তাঁর শ্রোতাদের বুঝতেন এবং জনগণের সঙ্গে আন্তরিকতা ও স্পষ্টতার সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি সমাজের হৃদয়ে আশার সঞ্চার করতেন এবং শত্রুর হিসাব-নিকাশের ভিত্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতেন। এটিই ছিল তাঁর সময়-সচেতন আলেম হওয়ার প্রকৃত অর্থ।

নাসরুল্লাহ ছিলেন একটি উম্মত। কারণ এমন এক সময়ে, যখন কিছু আরব ও মুসলিম সরকার ও শাসক আপস, নীরবতা অথবা হীন স্বার্থপর হিসাব-নিকাশের কাছে নতি স্বীকার করেছিল, তিনি নির্ভয়ে মহান রাসূল (সা.)-এর উম্মতের দুঃখ-কষ্টের কথা বলেছিলেন-অবরুদ্ধ গাজা থেকে প্রতিরোধী ইয়েমেন, আহত লেবানন থেকে শুরু করে এমন সব জাতির কথা, যারা দখলদারিত্ব, যুদ্ধ ও অপমানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। মজলুমদের পক্ষে তাঁর অবস্থান কোনো সাময়িক বা প্রচারণামূলক অবস্থান ছিল না; বরং এটি ছিল একটি বিশ্বাসগত ও মানবিক নীতি, যার ওপর তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অবিচল ছিলেন।

ঠিক এ কারণেই তিনি ইসরায়েলি শত্রু ও তার মার্কিন সমর্থকের প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছিলেন। কারণ তারা ভালোভাবেই জানত, নাসরুল্লাহর কণ্ঠ কোনো একজন ব্যক্তির কণ্ঠ নয়; বরং তা ছিল উম্মতের ইচ্ছার অনুবাদ।

আজ লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ, সব অপরাধ, চাপ ও ত্যাগ এবং শহীদ নাসরুল্লাহর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, এখনও এমন এক পবিত্র বৃক্ষ, যার শিকড় জনগণের ঈমান, উম্মতের সন্তানদের সংগ্রাম এবং শহীদদের রক্তে প্রোথিত। আল্লাহর অনুমতিতে এটি ইসরায়েলি শাসনের ভিত্তিকে আরও বেশি নড়বড়ে করে দেবে।

নিঃসন্দেহে আমাদের প্রিয় শহীদের পবিত্র রক্ত, হিজবুল্লাহর সকল শহীদ, প্রতিরোধ ফ্রন্টের শহীদ, ১২ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের শহীদ, রমজানের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের শহীদ এবং ইসলামী বিপ্লবের শহীদদের নেতা ইমামের পবিত্র রক্তের সঙ্গে মিলিত হয়ে অচিরেই সত্যের ফ্রন্টের পূর্ণ বিজয়, বাতিলের ফ্রন্ট এবং দখলদার ইহুদিবাদী শাসন ও আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।

بفضله و منه

আলী রেজা আরাফি হাওজা ইলমিয়ার পরিচালক

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha