হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমাম রেজা (আ.) হাওযা কমপ্লেক্সের পরিচালক এবং তেহরান প্রদেশের হাওজা ইলমিয়ার পরিষদের প্রধান উস্তাদ আলী আকবর রাশাদ, ইমাম রেজা (আ.) হাওজা ইলমিয়ায় নৈতিক শিক্ষার ক্লাসে শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নৈতিক ও জিহাদি ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক এবং ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর ধারণা ব্যাখ্যা করেন।
তিনি নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ ও শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের পারস্পরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর মতো ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আলোচনা করার সময় শুধু তাঁদের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকাণ্ডের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত নয়; বরং তাঁদের নৈতিক ও অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিত্বের দিকগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ; বাহ্যিক অঙ্গনে জিহাদের ভূমিকা
উস্তাদ রাশাদ বলেন, নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। যে ব্যক্তি নফসের বিরুদ্ধে জিহাদে বিজয়ী হতে পারেনি, সে শত্রুর বিরুদ্ধেও সফল হতে পারবে না এবং মূলত এমন জিহাদের যোগ্যতা ও সক্ষমতাই অর্জন করতে পারবে না।
তেহরান প্রদেশের হাওজা ইলমিয়ার পরিষদের প্রধান আরও বলেন, মানুষ বাহ্যিক শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজের অভ্যন্তরীণ শত্রুর সঙ্গে লড়াই করতে হবে। তাকে নিজের নফস, প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা ও অন্তরের দুর্বলতার বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে, যাতে বাহ্যিক অঙ্গনে ভূমিকা রাখার প্রস্তুতি অর্জন করতে পারে।
তিনি ‘জিহাদে আকবর’-এর ধারণা উল্লেখ করে বলেন, মানুষকে নিজের অস্তিত্বের সঙ্গে জিহাদ করতে হবে, নিজের সত্তার বিভিন্ন দিককে সমন্বিত করতে হবে এবং এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে, যাতে সে নিজের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে এবং তার অস্তিত্বের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ক্রমাগত দ্বন্দ্ব ও সংঘাত না থাকে।
প্রতিরোধ ফ্রন্ট; ব্যাপক প্রতিরোধের অঙ্গন
ইমাম রেজা (আ.) হাওজা কমপ্লেক্সের পরিচালক এরপর ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর ধারণা ব্যাখ্যা করে বলেন, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর ব্যক্তিত্ব বোঝার জন্য প্রথমে আমাদের জানতে হবে প্রতিরোধ ফ্রন্ট কী, কারা এতে অংশগ্রহণ করে এবং তারা কিসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
উস্তাদ রাশাদ ‘ফ্রন্ট’ শব্দটির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ফ্রন্ট কোনো সীমিত ও ছোট পরিসর নয়; বরং এর অর্থ হলো সম্মুখভাগ ও মোকাবিলার স্থান-অর্থাৎ যেখানে মানুষ কোনো একটি প্রবাহ বা শক্তির মুখোমুখি হয় এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
তিনি বলেন, এ ভিত্তিতে প্রতিরোধ ফ্রন্ট হলো কুফর, আধিপত্যবাদ, দখলদারিত্ব, আগ্রাসন, হত্যা ও লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধের অঙ্গন।
তেহরান প্রদেশের হাওজা ইলমিয়ার পরিষদের প্রধান ‘ইসলামী প্রতিরোধ’ নামটির প্রসঙ্গে বলেন, আমরা যখন ইসলামী প্রতিরোধ ফ্রন্টের কথা বলি, তখন এমন মুসলমানদের বোঝানো হয়, যারা ইসলামের বিধান ও শিক্ষার ভিত্তিতে এই ফ্রন্টে অংশ নিয়েছেন। তবে ধীরে ধীরে এই ফ্রন্ট ইসলাম ও মুসলমানদের ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করেছে।
ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর চিন্তায় ইসলামী প্রতিরোধের শিকড়
উস্তাদ রাশাদ ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের গড়ে ওঠার ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, ইসলামী প্রতিরোধ একটি বিস্তৃত ফ্রন্টে পরিণত হওয়ার আগে ইরানে ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর নেতৃত্বে এর সূচনা হয় এবং তাঁর দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে তা বিকশিত হয়।
ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের আগের বছরগুলোতে ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইমাম বিপ্লবের বিজয়ের বহু বছর আগে থেকেই অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার এবং একই সঙ্গে ইহুদিবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।
ইমাম রেজা (আ.) হাওজা কমপ্লেক্সের পরিচালক বলেন, অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং বিদেশি ও আন্তর্জাতিক ঔপনিবেশিকতা ও আধিপত্যবাদের মোকাবিলা ছিল ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর চিন্তা ও সংগ্রামের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। ইসলামী প্রতিরোধের শিকড়ও এই চিন্তাধারার মধ্যেই নিহিত।
তিনি বলেন, ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের পর এই আন্দোলন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে এবং সীমিত একটি আন্দোলন থেকে আরও বিস্তৃত একটি ফ্রন্টে পরিণত হয়।
বিপ্লবের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া থেকে প্রতিরোধ ফ্রন্টের বিস্তার
উস্তাদ রাশাদ ‘বিপ্লবের রপ্তানি’ ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বিপ্লবের রপ্তানি বলতে শুধু একটি রাজনৈতিক বা সামরিক মডেল ছড়িয়ে দেওয়াকে বোঝায়নি; বরং এর অর্থ ছিল স্বৈরাচার, ঔপনিবেশিকতা ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের বার্তা এবং নিপীড়িত ও স্বাধীনতাকামী জাতিগুলোর প্রতি সমর্থন ছড়িয়ে দেওয়া।
লেবাননে প্রতিরোধ আন্দোলনের গড়ে ওঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লেবাননে হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এমন একটি পরিস্থিতিতে, যেখানে দেশটির সমাজ শিয়া, সুন্নি ও খ্রিস্টানদের সমন্বয়ে গঠিত ছিল, প্রতিরোধ আন্দোলন সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়।
তেহরান প্রদেশের হাওজা ইলমিয়ার পরিষদের প্রধান বলেন, হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো ধীরে ধীরে ধর্মীয় ও ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়।
প্রতিরোধ; ধর্মীয় ও মাজহাবি সীমানার ঊর্ধ্বে
উস্তাদ রাশাদ জোর দিয়ে বলেন, প্রতিরোধ ফ্রন্ট শুধু একটি মাজহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিয়া আন্দোলনগুলোর পাশাপাশি সুন্নি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোষ্ঠীও এই ফ্রন্টে রয়েছে এবং দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করছে।
তিনি বলেন, এমনকি অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও এমন মানুষ রয়েছেন, যারা ইহুদিবাদের বিরোধিতা করেন। ইহুদিবাদ ও ইহুদি ধর্মকে এক করে দেখা উচিত নয়। ইহুদিবাদ একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক আন্দোলন এবং এর বিরোধিতা শুধু মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
বিভিন্ন দেশে ইহুদিবাদের বিরোধিতাকারী কিছু ইহুদির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য ঐশী ধর্মের অনুসারীরাও জুলুম, দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে পারেন। এমনকি ধর্মীয় আন্দোলনের বাইরেও বিভিন্ন ধরনের চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুলুম ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
উস্তাদ রাশাদ এই ধারাকে ‘বিশ্ব নিপীড়িতদের ফ্রন্ট’ গঠনের ধারণার ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইমাম খোমেনি (রহ.) বিশ্ব নিপীড়িতদের একটি ফ্রন্ট গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে যে দিগন্তের কথা তুলে ধরেছিলেন, এটি তারই অংশ।
আঞ্চলিক পরিবর্তন; ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ
তেহরান প্রদেশের হাওজা ইলমিয়ার পরিষদের প্রধান এরপর আঞ্চলিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এসব ঘটনা গভীরভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রশ্ন করা উচিত-কেন আমেরিকা সরাসরি ইসরায়েলি শাসনের পাশে দাঁড়ায় এবং কেন প্রতিরোধ মোকাবিলায় বিপুল অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করা হয়?
তিনি বলেন, বর্তমান আঞ্চলিক ঘটনাবলিকে শুধু একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা উচিত নয়। বর্তমানে যা ঘটছে, তা ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হতে পারে এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের গতিপথ এমনকি আরও বিস্তৃত পরিবর্তনও প্রভাবিত হতে পারে।
উস্তাদ রাশাদ জোর দিয়ে বলেন, আমাদের বুঝতে হবে আমরা ইতিহাসের কোন পর্যায়ে অবস্থান করছি এবং বর্তমান ঘটনাবলিকে স্বল্পমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিশ্লেষণ করা উচিত নয়।
শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ; ইমাম ও প্রতিরোধের আদর্শধারার ফসল
ইমাম রেজা (আ.) হাওজা কমপ্লেক্সের পরিচালক তাঁর বক্তব্যের আরেক অংশে শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে ‘মহান মুজাহিদ এবং জিহাদ ও প্রতিরোধের প্রতীক ও আদর্শ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ একটি সাধারণ পরিবার ও পরিবেশ থেকে উঠে এসেছিলেন। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা, ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর আদর্শধারা এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের পরিবেশে তিনি বেড়ে ওঠেন এবং এই ফ্রন্টের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
তিনি বলেন, সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর ব্যক্তিত্বের মহত্ত্ব শুধু তাঁর রাজনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর নিষ্ঠা, বিনয়, জনগণের প্রতি ভালোবাসা, জিহাদি চেতনা এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উস্তাদ রাশাদ আঞ্চলিক জনগণের কাছে শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর অবস্থান সম্পর্কে বলেন, জনগণ ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর ও পিতৃসুলভ। তিনি লেবাননের বিষয়াদি ও প্রতিরোধের কর্মকাণ্ডের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ অনুভব করতেন।
ইমাম খোমেনি (রহ.) ও ইসলামী বিপ্লবের নেতার প্রতি গভীর ভালোবাসা
শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর ইসলামী বিপ্লবের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইমাম খোমেনি (রহ.), ইসলামী বিপ্লব এবং ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা কেবল রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল না; বরং তা ইমামের আদর্শধারা ও ইসলামী বিপ্লবের আদর্শের প্রতি তাঁর গভীর বিশ্বাস থেকে উৎসারিত ছিল।
তেহরান প্রদেশের হাওজা ইলমিয়ার পরিষদের প্রধান বলেন, সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ প্রতিরোধকে শুধু লেবাননের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করতেন না। তিনি নিজেকে একটি বৃহৎ ফ্রন্টের অংশ মনে করতেন-এমন একটি ফ্রন্ট, যা দখলদারিত্ব, আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে।
সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাত ও প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা
উস্তাদ রাশাদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের প্রসঙ্গে বলেন, এই মহান ব্যক্তিত্বের শাহাদাত প্রতিরোধ ফ্রন্টের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় ক্ষতি হলেও এর অর্থ প্রতিরোধের পথের সমাপ্তি নয়।
তিনি বলেন, প্রতিরোধ কোনো এক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি একটি আন্দোলন, চিন্তাধারা ও আদর্শ। কোনো একজন কমান্ডারের শাহাদাতের মাধ্যমে তা থেমে যায় না।
ইমাম রেজা (আ.) হাওজা কমপ্লেক্সের পরিচালক শায়খ নাঈম কাসেমের ব্যক্তিত্বের কথাও উল্লেখ করে বলেন, জিহাদি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি চিন্তাগত ও জ্ঞানগত সক্ষমতার অধিকারী এবং সমকালীন বিষয় ও বর্তমান সমস্যাবলি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে প্রতিরোধ আন্দোলনের একাধিক প্রজন্ম রয়েছে এবং তাদের কমান্ডারদের শাহাদাতের কারণে এই আন্দোলনের অগ্রযাত্রা থেমে যায় না।
উস্তাদ রাশাদ এই পথের ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ শাহাদাতবরণ করেছেন, কিন্তু তাঁর পথ অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলোও এই পথে এগিয়ে আসবে।”
তালাবারা; ভবিষ্যৎ নির্মাণকারী প্রজন্ম
তেহরান প্রদেশের হাওজা ইলমিয়ার পরিষদের প্রধান তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে ইমাম রেজা (আ.) হাওজা ইলমিয়ার তালাবাদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের জানতে হবে তোমরা কোন সময়ে বাস করছ এবং ইতিহাসের কোন অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছ।
তিনি বলেন, কখনো কখনো আল্লাহ মানুষকে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে স্থান দেন, কিন্তু মানুষ নিজেই সেই অবস্থানের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে না। তাই তোমাদের জানতে হবে তোমরা কোথায় আছ এবং তোমাদের ওপর কী দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।
উস্তাদ রাশাদ বলেন, তোমরা এমন একটি প্রজন্ম, যারা ভবিষ্যতের ইতিহাস নির্মাণ করতে পারো। তাই নিজেদের ছোট করে দেখো না এবং সময় নষ্ট করো না। তোমাদের জন্য প্রতি পাঁচ মিনিটও মূল্যবান।
তিনি বলেন, এই অবস্থান, হাওজা, শিক্ষকদের এবং জ্ঞানার্জন ও আত্মগঠনের সুযোগকে মূল্য দিতে হবে। ভবিষ্যতের বৃহৎ ফ্রন্টগুলোতে ভূমিকা রাখতে চাইলে আজ থেকেই আত্মগঠন ও নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করতে হবে।
ইমাম রেজা (আ.) হাওজা কমপ্লেক্সের পরিচালক ভবিষ্যতের চিন্তাগত ও সামাজিক পরিবর্তনে তালাবাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, নিজেদের ভবিষ্যতের ভূমিকা পালনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে এবং মনে রাখতে হবে, ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তনগুলোর সময় তোমাদের ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হতে পারে।
তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষে ইমাম খোমেনি (রহ.), প্রতিরোধ ফ্রন্টের শহীদদের এবং বিশেষভাবে শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদদের পথ ও আদর্শ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর জোর দেন এবং ইমাম খোমেনি (রহ.), শহীদগণ, প্রতিরোধ ফ্রন্টের সকল মুজাহিদ ও শহীদের রূহের জন্য আল্লাহর রহমত ও উচ্চ মর্যাদা কামনা করেন।
আপনার কমেন্ট