হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইয়েমেনের জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার প্রধান আলী তাইসির আজ সোমবার বলেন, তাইজ প্রদেশে সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের মরদেহের অবমাননা, তাদের মরদেহ বিকৃত করা ও নগ্ন করে দেওয়া একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ এবং মানবিক মর্যাদার গুরুতর লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, এসব ভাড়াটে যোদ্ধা যে অপরাধ করেছে, তা ইসলামের ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ইয়েমেনের গোত্রীয় রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
মৃতদের মর্যাদা লঙ্ঘন, তাদের মরদেহের ছবি ধারণ এবং সেগুলো প্রচার করা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা সম্মান ও মানবিক মর্যাদার ন্যূনতম মানদণ্ড থেকেও বঞ্চিত।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী প্রথম জেনেভা কনভেনশনের ৩৪ নম্বর ধারা এবং তৃতীয় জেনেভা কনভেনশনের ১৩০ নম্বর ধারা মৃতদের মরদেহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সেগুলোর সুরক্ষা এবং অবমাননা নিষিদ্ধ করাকে বাধ্যতামূলক করেছে।
তিনি যোগ করেন, রোম সংবিধির ৮(২)(খ) ও ৮(২)(গ) ধারা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড মানবিক মর্যাদার ওপর আক্রমণ ও অমানবিক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
আলী তাইসির উল্লেখ করেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষাতেও শত্রুপক্ষের মৃতদেহের অবমাননা করতে নিষেধ করা হয়েছে।
ইয়েমেনের জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার প্রধান সৌদি সরকারকে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করে এই অপরাধের জন্য তাকেও দায়ী করেন।
তিনি তাইজের গোত্রগুলোর প্রতি এ কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের থেকে নিজেদের দূরে রাখার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের প্রতি অপরাধী ও তাদের কমান্ডারদের যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
শেষে তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা এই অপরাধের অডিও-ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষণ করেছে, যাতে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে উপস্থাপন করা যায় এবং অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা যায়।
আপনার কমেন্ট