হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনেয়ীর বিবৃতিটি নিচে তুলে ধরা হলো—
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিরাপত্তা আল্লাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত। প্রিয় ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে—বড় শহর থেকে শুরু করে গ্রাম ও মহল্লার ক্ষুদ্রতম জনবসতি পর্যন্ত, দুর্গম আবহাওয়া ও বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক পরিবেশের পাহাড়ি সীমান্ত থেকে সমুদ্র পর্যন্ত, সমতল ভূমি ও বনাঞ্চল থেকে দেশের একেবারে কেন্দ্রীয় অঞ্চল পর্যন্ত—নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ইরানের আইন প্রয়োগকারী পুলিশ বাহিনী (ফারাজা)-এর আত্মত্যাগী ও পরিশ্রমী সদস্যদের সাহসিকতা ও বীরত্বের ফল। তাঁরা দেশের নিরাপত্তার অন্যতম সুদৃঢ় স্তম্ভ।
নিরাপত্তা সমাজে সামাজিক ও নৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনসাধারণের স্বস্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কল্যাণ নিশ্চিত করে। এ ধরনের মূল্যবান সেবা আল্লাহর পথে জিহাদের পাশাপাশি সমাজের দৃঢ় সমর্থনও লাভ করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফারাজার বিভিন্ন পর্যায়ের—কমান্ড ও সদর দপ্তর থেকে শুরু করে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত—গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় এ প্রভাবের প্রমাণ আরও সুস্পষ্ট হয়েছে। অপরাধী মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুপক্ষ ফারাজার সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এতে এ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
কিন্তু সমাজের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ভিত্তিগুলোর ওপর শত্রুপক্ষের এই ব্যর্থ প্রচেষ্টা ও বিদ্বেষপূর্ণ হামলা—যার কোনো নজির ইতিহাসে নেই—ফারাজার সাহসী সদস্যদের তাঁদের দায়িত্ব থেকে সামান্যতমও বিচ্যুত করতে পারেনি। এমনকি রাস্তাঘাটে ও যানবাহনের মধ্যেও তাঁরা নিজেদের কর্মস্থল ও ঘাঁটিতে যেসব দায়িত্ব পালন করতেন, সেগুলো অব্যাহত রেখেছেন।
এ কারণে ইরানের নিপীড়িত অথচ দৃঢ়চেতা জনগণ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরলস পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞ। অন্যদিকে, সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মতো ফারাজার সদস্যরাও সমাজের গভীর থেকে উঠে এসেছেন। জনগণের আস্থা অর্জনকারী আচরণের মাধ্যমে তাঁরা এ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও জোরদার করতে পারেন।
নিরাপত্তারক্ষীদের পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ অনেক সময় কিছু মানুষের কাছে স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে হতে পারে। অথচ তাঁদের এই অবহেলিত অবস্থান ও প্রচারের আড়ালে থেকে দায়িত্ব পালনই আল্লাহর দরবারে তাঁদের প্রতিদান আরও বাড়িয়ে দেয়।
নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা মানবসম্পদ, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার—সব দিক থেকে বাড়ানো ফারাজার দায়িত্ব পালনের মান উন্নয়ন ও কাজ সহজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, যেমন তথ্য বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবহার, এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ফারাজার মর্যাদাবান শহীদদের জন্য আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা ও সন্তুষ্টি কামনা করছি। বাহিনীর সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেনাসদস্য, সাহসী ও বীর সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিশেষ করে ফারাজার সাহসী, অক্লান্ত পরিশ্রমী ও বিচক্ষণ কমান্ডারের প্রতি এবং তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমাদের নেতা ইমাম মাহদীর (আ.ফা.) দোয়ার বরকতে ইসলামি ইরানের নিরাপত্তা, শক্তিমত্তা ও মর্যাদা আরও উন্নত করতে তাঁরা যেন আগের চেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারেন—এই প্রত্যাশা করছি।
সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনেয়ী
১৬ মেহর, ১৪০৫ হিজরি সৌরবর্ষ (৮ অক্টোবর, ২০২৬)
আপনার কমেন্ট