হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের একটি তাফসিরের পাঠে তিনি বলেন, মুমিনের চিন্তার উভয় দিকই যুক্তি ও প্রমাণের সীমারেখায় আবদ্ধ। কোনো বক্তব্য সত্য বলে গ্রহণ করতে হলে যেমন প্রমাণ প্রয়োজন, তেমনি তা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করতেও প্রমাণ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “তুমি যদি অনুসারী হও, তবে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে অনুসরণ করো। আর তুমি যদি অনুসরণীয় ব্যক্তি হও, তবে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে নেতৃত্ব দাও।”
ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর সেই তাৎপর্যপূর্ণ বাণী—যা মরহুম শায়খ কুলাইনি (রহ.) তাঁর আল-কাফি গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে বর্ণনা করেছেন—এ বিষয়েই দিকনির্দেশনা দেয়।
ইমাম (আ.) বলেছেন, মুমিনদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তাঁদের চিন্তার উভয় দিকই যেন বন্ধ। দুই পাশে রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া।
কোনো বক্তব্যকে সত্য বলে গ্রহণ করতে গেলে সামনে বাধা এসে দাঁড়ায়। তখন প্রশ্ন ওঠে, ‘তুমি যদি কোনো কিছুকে সত্য বলে গ্রহণ করতে চাও, তবে তোমার প্রমাণ কোথায়?’
আবার কোনো বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করতে গেলেও একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তখন বলা হয়, ‘তুমি যদি কোনো কিছুকে অস্বীকার করতে চাও, তবে তোমার প্রমাণ কোথায়?’
ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর এই বাণী অত্যন্ত সুদৃঢ় ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ خَصَّ عِبَادَهُ بِآیَتَیْنِ مِنْ كِتَابِهِ أَنْ لَا یَقُولُوا حَتَّی یَعْلَمُوا وَ لَا یَرُدُّوا مَا لَمْ یَعْلَمُوا.
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কিতাবের দুটি আয়াতের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের জন্য এই নির্দেশনা নির্দিষ্ট করেছেন—তারা যেন জ্ঞান ছাড়া কোনো কথা না বলে এবং যে বিষয়ে তাদের জ্ঞান নেই, তা প্রত্যাখ্যান না করে।
এই হাদিসের বর্ণনায় বিভিন্ন পাঠভেদ রয়েছে। কোথাও ‘খাসসা’ (বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করেছেন), কোথাও ‘হাদ্দা’ (উৎসাহিত করেছেন), আবার কোথাও ‘হাসসানা’ (সুরক্ষিত করেছেন) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, এই নীতির প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে কিংবা এর মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
ইমাম (আ.)-এর বক্তব্যের মর্ম হলো, কোনো কিছুকে ‘হ্যাঁ’ বলে গ্রহণ করতে চাইলে হাতে প্রমাণ থাকতে হবে; আবার ‘না’ বলে প্রত্যাখ্যান করতে চাইলেও প্রমাণ থাকতে হবে।
এরপর তিনি পবিত্র কোরআনের দুটি আয়াত পাঠ করেন।
প্রথম আয়াত:
أَ لَمْ یُؤْخَذْ عَلَیْهِمْ مِیثاقُ الْکِتابِ أَنْ لا یَقُولُوا عَلَی اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ.
তাদের কাছ থেকে কি কিতাবের অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলবে না?
[সুরা আ'রাফ, আয়াত ১৬৯-এর অংশবিশেষ।]
দ্বিতীয় আয়াত:
بَلْ کَذَّبُوا بِما لَمْ یُحِیطُوا بِعِلْمِهِ.
বরং যে বিষয়ে তারা পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি, তারা তা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
[সুরা ইউনুস, আয়াত ৩৯-এর অংশবিশেষ।]
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি বলেন, মুমিনের চিন্তার উভয় দিক উন্মুক্ত প্রান্তরের মতো নয় যে, সে ইচ্ছামতো যেকোনো দিকে এগিয়ে যাবে। বরং উভয় দিকেই কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান করতে চাইলে যেমন প্রমাণ থাকতে হবে, তেমনি গ্রহণ করতে চাইলেও প্রমাণ থাকতে হবে।
এটাই জ্ঞান ও গবেষণাভিত্তিক জীবনযাপনের পথ। সত্যকে গ্রহণ কিংবা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে জ্ঞান ও যুক্তির ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি এর চেয়ে স্পষ্টভাবে আর কীভাবে তুলে ধরা যায়?
তিনি বলেন, মুমিনের চিন্তার উভয় দিকই সীমারেখায় আবদ্ধ। সে কোথায় যাবে? কোনো বক্তব্যের পক্ষে মাথা নত করে ‘হ্যাঁ’ বললেও তার হাতে যথাযথ প্রমাণ থাকতে হবে; আবার মাথা তুলে ‘না’ বললেও তার হাতে থাকতে হবে যুক্তি ও প্রমাণ।
সূত্র: আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলির তাফসিরের পাঠ, ১০ জুন ২০১৫।
আপনার কমেন্ট