হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হাওজায়ে ইলমিয়ার প্রধান আয়াতুল্লাহ আলী রেজা আরাফি হযরত জয়নাবে কুবরা (সা.আ.)-এর সৌভাগ্যময় জন্মদিন ও নার্সিং দিবস উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে যুক্ত নার্সদের নিঃস্বার্থ সেবার প্রশংসা করেছেন এবং তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
নিজ বার্তায় তিনি সূরা মায়িদার ৩২ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করে বলেন, যে ব্যক্তি একজন মানুষের জীবন রক্ষা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।
আয়াতুল্লাহ আরাফি নার্সদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নিজেদের সেবার মাধ্যমে আল্লাহর বান্দাদের সেবায় জয়নবি ধৈর্যের পরিচয় তুলে ধরছেন। হযরত জয়নব কুবরা (সা.আ.)-এর শুভ জন্মদিনকে নার্সিং দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা এ কথার সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, রোগীদের শারীরিক পরিচর্যা এবং উচ্চতর মানবিক মূল্যবোধে অটল থাকার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, হযরত জয়নাব (সা.আ.) কেবল কারবালায় আহত ও অসুস্থদের সেবা করার মহান ব্যক্তিত্বই ছিলেন না; বরং ইতিহাসের কঠিনতম মুহূর্তগুলোতে ধৈর্য, অবিচলতা ও দৃঢ়তার প্রতীকও ছিলেন। আজ নার্সরা আত্মত্যাগ, নিবেদন ও মানবসেবার সেই পথেই চলছেন।
আয়াতুল্লাহ আরাফি আরও বলেন, হাওজায়ে ইলমিয়াগুলো নার্সদের দিন-রাতের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিঃস্বার্থ সেবাকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। নার্সিং দিবস তাদের সকল প্রচেষ্টার প্রশংসা করার শ্রেষ্ঠ সুযোগ, যারা চিকিৎসা ও রোগীসেবার ময়দানে ভালোবাসা ও বিশ্বাসের সঙ্গে রোগীদের কষ্ট লাঘব করেন এবং সমাজে আশার আলো ছড়িয়ে দেন।
তিনি বলেন, নার্সরা কেবল রোগী ও অসুস্থ দেহকে সান্ত্বনা দেওয়ার মাধ্যম নন; বরং তাদের সহানুভূতিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ, পবিত্র চরিত্র এবং রোগীদের সম্মান ও মর্যাদার যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে ইসলামি নৈতিক শিক্ষার বাস্তব চিত্রও উপস্থাপন করেন। তাদের নিষ্ঠাপূর্ণ সেবা আল্লাহর দরবারে মহান ইবাদত ও প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা, যার প্রতিদান সংরক্ষিত রয়েছে।
বার্তার শেষে আয়াতুল্লাহ আরাফি সকল দায়িত্বনিষ্ঠ ও পরিশ্রমী নার্সকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের সুস্থতা, সাফল্য ও আরও তৌফিকের জন্য দোয়া করেছেন এবং হযরত জয়নব কুবরা (সা.আ.)-এর উসিলায় মানবসেবার পথে অবিচল থাকার তৌফিক কামনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল্লাহর রহমত সর্বদা নার্স ও তাদের পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক।
আপনার কমেন্ট