হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, সমাজের সাধারণ মানুষ ও বিশেষ সচেতন ব্যক্তিদের ধারণা, তাঁদের মধ্যকার পার্থক্য এবং সামাজিক বিষয়গুলো উপলব্ধি ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে শহীদ ইমামের বক্তব্যের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।
আওয়াম ও খাওয়াসের পরিচয় নির্ধারণের মানদণ্ড কী?
‘খাওয়াস’ কারা? তাঁরা কি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ? এর উত্তর হলো-না। কারণ, খাওয়াসদের মধ্যে যেমন শিক্ষিত মানুষ রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন নিরক্ষর ব্যক্তিও। কখনো কোনো ব্যক্তি নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও খাওয়াসদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। অর্থাৎ, তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি কী করছেন।
তিনি নিজের উপলব্ধি ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কাজ করেন-যদিও তিনি পড়াশোনা করেননি, বিদ্যালয়ে যাননি, কোনো শিক্ষাগত সনদ অর্জন করেননি কিংবা আলেমের পোশাক পরেননি। তবুও বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর যথেষ্ট উপলব্ধি রয়েছে।
ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের আগে আমি ইরানের ইরানশাহর শহরে নির্বাসিত ছিলাম। এর কাছাকাছি একটি শহরে আমাদের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের একজন ছিলেন চালক, আরেকজন স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। মোটকথা, প্রচলিত অর্থে তাঁরা বিশেষ সাংস্কৃতিক বা জ্ঞানচর্চার পরিমণ্ডলের মানুষ ছিলেন না। বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাঁদের সাধারণ মানুষ (আওয়াম) বলা হতো। কিন্তু বাস্তবে তাঁরা ছিলেন খাওয়াসদের অন্তর্ভুক্ত।
তাঁরা নিয়মিত আমাদের সঙ্গে দেখা করতে ইরানশাহরে আসতেন এবং তাঁদের শহরের আলেমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার কথা আমাদের জানাতেন। তাঁদের শহরের সেই আলেমও ভালো মানুষ ছিলেন; কিন্তু তিনি ছিলেন আওয়ামদের অন্তর্ভুক্ত।
বিষয়টি লক্ষ করুন! একজন ডাম্প ট্রাকের চালক ছিলেন খাওয়াসদের অন্তর্ভুক্ত, অথচ একজন আলেম ও সম্মানিত জামাতের ইমাম ছিলেন আওয়ামদের অন্তর্ভুক্ত!
উদাহরণস্বরূপ, সেই আলেম বলতেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাম উচ্চারণ করা হলে আপনারা একবার দরুদ পড়েন, অথচ ‘আকা’-অর্থাৎ ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর নাম উচ্চারণ করা হলে তিনবার দরুদ পড়েন কেন? তিনি বিষয়টি বুঝতে পারতেন না।
তখন সেই চালক তাঁকে উত্তর দিতেন: যেদিন আমাদের আর কোনো সংগ্রাম করতে হবে না, ইসলাম সর্বত্র বিজয়ী হবে এবং বিপ্লব সফল হবে, সেদিন আমরা শুধু তিনবার নয়, একবার দরুদও পড়ব না! কিন্তু আজ এই তিনবার দরুদ পড়াটাই হলো সংগ্রাম!
চালক বিষয়টি বুঝেছিলেন, কিন্তু সেই আলেম বুঝতে পারেননি!
সূত্র: শহীদ নেতার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বক্তব্য। মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত ২৭তম ডিভিশনের কমান্ডার ও যোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রদত্ত ভাষণ।
আপনার কমেন্ট