রবিবার ১ নভেম্বর ২০২৬ - ১৮:৩৬
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল: ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার ২৭৪ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত

হাওজা নিউজ এজেন্সি— উপগ্রহচিত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন ২৪টি ঘাঁটির অন্তত ২৭৪টি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার উপগ্রহচিত্র, বিস্তারিত উপগ্রহ ও স্থলচিত্র, ইরানের সামরিক বিবৃতি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭.১ বিলিয়ন ডলারে। এর বাইরে পেন্টাগন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এই অঙ্ক ১৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পুনর্নির্মাণে ব্যয় হবে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যুদ্ধ শুরুর পর ২০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। জুলাইয়ে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আহত হয়েছেন চার শতাধিক সেনা।

যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। এ সময় কুয়েতের ১৩টি স্থাপনায় অন্তত ১১৯টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তা কেন্দ্রেও তীব্র হামলা হয়। ১৩ মার্চ তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ১ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দাবি করেন। তবে উপগ্রহচিত্রে রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাসহ ১৫টির বেশি প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে নতুন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমে আসে। ৮ এপ্রিল থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন করে মাত্র তিনটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় মার্কিন সেনাবাহিনী কুয়েতের আরিফজান ও ক্যাম্প বুয়েরিংসহ ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে। হেগসেথের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচিত ঘাঁটিগুলো থেকে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

৭ জুলাই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের হামলার ধরনে পরিবর্তন আসে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘাঁটির বদলে জর্ডানের মতো দূরবর্তী স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হয়। ১৭ জুলাই জর্ডানের মুফাক আল-সালতি বিমানঘাঁটিতে হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। উপগ্রহচিত্রে ওই ঘাঁটির অন্তত ১৯টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যায়ে ইরানের হামলার নির্ভুলতা বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর গড় আকার আগের তুলনায় অর্ধেক হয়ে যায়। এতে ছোট অবকাঠামো ও সেনাদের আবাসস্থল লক্ষ্য করে হামলার দিকে মনোযোগ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতি ও যুদ্ধের ব্যয় সম্পর্কে সীমিত তথ্য প্রকাশ করেছে এবং গোপন ব্যয়ের হিসাব প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পেন্টাগন কিছু ঘাঁটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের বাইরে সরিয়ে নেওয়া এবং কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha