কখওনো কখনো মানুষ বাহ্যিকভাবে সুন্দর বেশভূষা ও মধুর ভাষার আড়ালে ধর্মকে নিজেদের পার্থিব স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ইমাম সাদিক (আ.)-এর সুস্পষ্ট সতর্কবার্তায় এ ধরনের ব্যক্তিদের শুধু পথভ্রষ্টই নয়, বরং মহান আল্লাহর প্রতি ঔদ্ধত্য প্রদর্শনকারী হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। এ বর্ণনায় মানুষের কথার বাহ্যিক সৌন্দর্য এবং অন্তরের প্রকৃত অভিপ্রায়ের মধ্যকার গভীর বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট নৈতিকতাবিদ মরহুম আয়াতুল্লাহ মুজতবা তেহরানির বক্তব্য তুলে ধরা হলো।
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন,
وَ أَلْسِنَتُهُمْ أَحْلَی مِنَ الْعَسَلِ.
‘তাদের জিহ্বা মধুর চেয়েও মিষ্টি।’
ইমাম (আ.) কত সুন্দরভাবেই না বিষয়টি তুলে ধরেছেন! তারা যখন কথা বলে, তখন মধুর চেয়েও মিষ্টি ভাষায় কথা বলে।
এরপর তিনি বলেন,
وَ أَعْمَالُهُمُ الْبَاطِنَةُ أَنْتَنُ مِنَ الْجِیَفِ.
‘কিন্তু তাদের অন্তরের গোপন কর্মকাণ্ড মৃত প্রাণীর পচা দেহের চেয়েও অধিক দুর্গন্ধময়।’
অর্থাৎ, তাদের অন্তরে যা চলছে, তা অত্যন্ত ঘৃণ্য। মুখে এক কথা বললেও অন্তরে থাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিপ্রায়। তাদের কথার সঙ্গে মনের উদ্দেশ্যের কোনো মিল নেই; বরং তারা অন্য কোনো স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।
এরপর ইমাম (আ.) বলেন,
أَ فَبِی یَغْتَرُّونَ أَمْ إِیَّایَ یُخَادِعُونَ أَمْ عَلَیَّ یَجْتَرُونَ...
‘তারা কি আমার ওপর ভরসা করে এমন ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে? নাকি আমাকে প্রতারিত করতে চায়? নাকি আমার বিরুদ্ধেই দুঃসাহস দেখাচ্ছে?’
অর্থাৎ, তারা কি মহান আল্লাহকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করছে? নাকি তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করছে? নাকি তাঁর দ্বীনকে দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার বানিয়ে তাঁর প্রতিই ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের সাহস করছে?
[ওয়াসায়েলুশ শিয়া, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ৩৫৭]
আপনার কমেন্ট