হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি আজ সোমবার তাঁর সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে এই দিনে শাহাদাতবরণকারীদের স্মরণ করে তিনি আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান ঘটনাবলির কেন্দ্রবিন্দু এখনো অধিকৃত ফিলিস্তিন এবং সেখানে অব্যাহত গণহত্যা। আমরা সবাই জানি, এ অঞ্চলের সব নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ হলো ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী।
তিনি বলেন, ইসরাইলের নির্বাচনের পর লেবানন ও গাজায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বেড়েছে। শীত মৌসুমের প্রাক্কালে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের দুর্দশা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একধরনের অসাড়তার মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছে। এর ফলে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে, আর তা হলো হত্যাকাণ্ডকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া।
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাসহ সব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো এসব অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিকভাবে বিচার ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর চাপের মধ্যে রয়েছে।
বিভিন্ন দেশে ইরানের নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ
বিভিন্ন দেশে ইরানের নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, মোট পাঁচটি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাইপ্রাসে শামসিজাদেহকে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। একইভাবে বুরকিনা ফাসোতে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাপানে নাজারি, নিউজিল্যান্ডে নাজরাবাদি এবং কিরগিজস্তানে সাঈয়িকে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়িকে পাঠানো চিঠি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, চিঠি লেখার ধরনে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক বিষয়। তবে আমাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে, তাদের শুধু কোনো কার্যকর উদ্যোগই নেই তা নয়, বরং তারা কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোও ধ্বংস করে দেয়।
গত দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র কেবল যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছে। তারা কখনো চলমান প্রক্রিয়া নষ্ট করেছে, আবার কখনো আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট উদ্যোগগুলো ধ্বংস করেছে। ইসলামাবাদ প্রক্রিয়ার প্রধান মার্কিন আলোচকও ছিলেন এই চিঠির লেখক। এ পরিস্থিতিতে যেকোনো নতুন উদ্যোগের বিষয়ে আমাদের সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে।
ইরান সাত দিনের একটি উদ্যোগ প্রস্তাব করেছে এবং এ বিষয়ে অপর পক্ষের মতামতও শুনেছে। উভয় পক্ষের উদ্বেগ ও বিবেচ্য বিষয়গুলো বিনিময় করা হয়েছে। এখনো এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের প্রস্তাব বহাল রয়েছে। বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং ইরানের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। এসব শর্ত পূরণ হলে পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
চিঠির জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবেন সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিজেই। কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকার বিষয়ে বলতে চাই, আলোচনার ভিত্তি হচ্ছে ইরানের সাত দফা প্রস্তাব। এটিকে সংক্ষিপ্ত করে দুই দিনের মধ্যেই বাস্তবায়নযোগ্য করা হয়েছে। এটি ইরানের সদিচ্ছার প্রমাণ। তবে পুরো বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।
আলোচনার দায়িত্বে রয়েছেন গালিবাফ
দুই দিনের প্রস্তাব, কাতারের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফর এবং ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রীর কাতার সফর ও মধ্যস্থতার ফলাফল সম্পর্কে বাকায়ি বলেন, ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রীর দোহা সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইরান ও কাতারের মধ্যে লেনদেন ও সহযোগিতা সহজতর করা। এ সফরে মজিদ গারিবাবাদিও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়গুলো অত্যন্ত জটিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জটিলতা আরও বেড়েছে। তবে বার্তা আদান-প্রদান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকেই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলো প্রচলিত কূটনৈতিক পদ্ধতিতে মার্কিন পক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এসব দাবি বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।
অবরোধ অব্যাহত রেখে নিরাপত্তার কথা বলা যায় না। ইরানের কাছ থেকে একতরফাভাবে প্রতিশ্রুতি আশা করাও যুক্তিসংগত নয়। ইরানের দাবিগুলো আগে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার একটি যৌক্তিক পন্থা।
আলোচনাকারী প্রতিনিধিদলের গঠন সম্পর্কেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। মেজর জেনারেল রেজায়ি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। এই পরিষদে প্রত্যেকেরই নিজস্ব ভূমিকা ও অবস্থান রয়েছে। আমাদের প্রধান আলোচক হলেন মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। আলহামদুলিল্লাহ, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মধ্যে নজিরবিহীন ঐক্য ও সমন্বয় রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ ভিত্তিহীন
জার্মানি, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জবাবে বাকায়ি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। ইহুদিবিদ্বেষ একটি ইউরোপীয় ঘটনা; ইরানের ধর্ম ও সংস্কৃতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
তারা বারবার একই অভিযোগ তুলে ধরছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণমাধ্যমও এসব অভিযোগ প্রচার করছে। অথচ ইহুদিদের প্রতি সবচেয়ে সদয় জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ইরানিরা অন্যতম।
তিনি বলেন, ইয়াজদ শহরেই ১৪টি সিনাগগ রয়েছে এবং সমগ্র ইরানে সিনাগগের সংখ্যা প্রায় ১০০টি। ইরানে ইহুদি নবীদের সমাধিগুলোর দিকে তাকান। ইহুদিদের পবিত্র স্থানগুলোর ওপর আমরা কতটি হামলার ঘটনা দেখেছি? বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এটিকে ইউরোপের ঘটনাবলির সঙ্গে তুলনা করুন। ইউরোপে প্রতিদিন ইহুদি ব্যক্তি ও তাঁদের সমাধিস্থল বা ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের কাছে প্রশ্ন করতে হবে, সেখানে কী ঘটছে? এসব ঘটনার সঙ্গে ইরানের কী সম্পর্ক?
ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা। এসব ঘটনার একটি অংশ ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর সংঘটিত অপরাধের প্রতিক্রিয়াজনিত পরিস্থিতির ফল।
বিস্তার রোধ চুক্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি সম্পর্কে তাসনিম নিউজের প্রশ্নের জবাবে বাকায়ি বলেন, আমরা অবশ্যই এসব বিষয় তুলে ধরব এবং মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করব। তবে অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বুঝেছি, বিশ্ব অনেক ক্ষেত্রেই শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
এ ধরনের হুমকির বিষয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের নীরবতায় আমরা দুঃখিত। প্রকৃতপক্ষে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় হুমকি।
কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি উচ্চারণ করাটাই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির লঙ্ঘনকে উৎসাহিত করার শামিল। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করছে। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো নিজেদের রক্ষার ব্যাপারে আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কথার চেয়ে তাদের কর্মকাণ্ডই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতারণামূলক কোনো কর্মকাণ্ডে দুটি পক্ষ থাকে-প্রতারক এবং প্রতারিত ব্যক্তি। আমরা প্রতারিত হব না। গত দুই বছরে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে পূর্ণ সচেতনতা নিয়েই আমরা সবকিছু বিবেচনা করছি।
যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মতামত থাকতে পারে। তবে দেশটির কর্মকর্তাদের পরজীবীর মতো আচরণে মার্কিন জনগণও ক্লান্ত। তাই এটা অসম্ভব নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যেও এমন লোক রয়েছেন, যাঁরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি পক্ষের পেছনে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করছে, যারা আমাদের অঞ্চলে অপরাধ সংঘটন ছাড়া আর কিছুই করছে না।
এ পরিস্থিতিতে আমরা বিভিন্ন মতামত বিবেচনায় রাখছি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করছে-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসলে কার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে? সব পথ কি তেল আবিবের দিকেই গিয়ে শেষ হয়? এ প্রশ্নের উত্তর যুক্তরাষ্ট্রকেই দিতে হবে।
কোনো দেশ যেন নিজেদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ না দেয়
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তা আনোয়ার গারগাশের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আস্থার পরিবেশ ইরান নষ্ট করেনি। নিজেদের ভুলের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে কোনো সমাধান পাওয়া যায় না। অতীতের ভুল নীতি থেকে সরে আসতে হবে।
ইরান তার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়টি নীরবে মেনে নিতে পারে না এবং এর কোনো জবাব দেবে না-এমনটা ভাবারও সুযোগ নেই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এসব দেশের কিছু দেশ শুধু বাধা দিতেই ব্যর্থ হয়নি, বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে উৎসাহও দিয়েছে।
আস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। এই অঞ্চলের কোনো দেশের সঙ্গেই ইরানের শত্রুতা নেই। আমরা বিশ্বাস করি, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকা উচিত। একই সঙ্গে আমরা প্রত্যাশা করি, কোনো দেশই যেন তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ না দেয়।
ইরানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের কারণে কুয়েতের নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে
কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে ইরানি নাগরিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বাকায়ি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।
আমরা কুয়েত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ইরানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের কারণে নিজেদের নাগরিকদের হয়রানি করা বন্ধ করুন। ইরানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা প্রতিবেশীসুলভ সুসম্পর্কের নীতিতে বিশ্বাসী।
যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে
যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে বাকায়ি বলেন, যুদ্ধ তো ইতোমধ্যেই চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অবরোধও চলমান যুদ্ধেরই একটি অংশ। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠাতে সম্মত নয় ইরান
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্টভাবে বলেন, না, আমরা এতে সম্মত নই।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অতীতেও শান্তিপূর্ণ ছিল, এখনো শান্তিপূর্ণ
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি থেকে বেরিয়ে আসার দাবি সম্পর্কে বাকায়ি বলেন, আলোচনার অপর পক্ষ গণমাধ্যমের বক্তব্য ও আলোচনা পর্যবেক্ষণ করছে। আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে যা ঘটছে, সে বিষয়ে আমাদের কৃত্রিম প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই।
গত ১৫ বছরের ঘটনাবলি বিবেচনা করে আমাদের জনগণের মনে একটি যৌক্তিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ-এটি প্রমাণ করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু অপর পক্ষ বারবার অজুহাত খুঁজছে। এমনকি অপর পক্ষ সেই ব্যক্তিকেও হত্যা করেছে, যিনি পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ও ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার ফতোয়া দিয়েছিলেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সব সময় শান্তিপূর্ণ ছিল এবং এখনো শান্তিপূর্ণ রয়েছে। অপর পক্ষ বারবার ইরানের পক্ষ থেকে হুমকির কথা বলে যাচ্ছে। তাদের এই আচরণ দেখে মনে হয়, তারা জেনেশুনেই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছে।
এটি একটি বাস্তব আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে আমরা এখনো এনপিটির সদস্য রয়েছি এবং নিজেদের চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আপনার কমেন্ট