হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে হ্যালোইন উৎসবের দিন ও রাতে অসন্তুষ্ট তরুণদের ব্যাপক বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। ফ্রান্সে প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
হ্যালোইনের রাতে দেশটিতে সংঘর্ষ, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৭৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শত শত মানুষ আহত হন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় ৫১৫টি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং ৩৬টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফ্রান্সে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণা
সোমবার থেকে ফরাসি শিক্ষার্থীরা দুই সপ্তাহের শরৎকালীন ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরবে। এরই মধ্যে কয়েকটি সংগঠন আবারও উচ্চবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধের আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেশটিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন শুক্রবারও ধর্মঘট অব্যাহত রাখার এবং শনিবার দেশব্যাপী নতুন বিক্ষোভ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জার্মানি ও অস্ট্রিয়াতেও বিক্ষোভ
হ্যালোইনের রাতে জার্মানি ও অস্ট্রিয়াতেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জার্মানির বিভিন্ন স্থানে জেনারেশন জেডের তরুণরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আরও বেশি বাজেট, সামাজিক ন্যায়বিচার, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং জলবায়ু সুরক্ষার দাবি জানান।
বিশেষ করে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও কোলনে বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি সহিংস ঘটনা ঘটে। জার্মান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এতে শতাধিক মানুষ আহত হন এবং ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। সেখানে আটজনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। আতশবাজির অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৫০০টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জার্মানিতে বিক্ষোভ নিষিদ্ধের উদ্যোগ
সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জার্মানির কর্মকর্তা রোমান পোজেক তরুণদের আরও বিক্ষোভ আয়োজনের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, আগামী ২০ নভেম্বর নির্ধারিত কর্মসূচি আদৌ অনুষ্ঠিত হতে পারবে কি না, তা আগে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাবেশ করার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার হলেও শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই সহিংস বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
শনিবারের অস্থিরতার পর ফ্রাঙ্কফুর্ট কর্তৃপক্ষও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে তরুণদের ২০ নভেম্বরের নির্ধারিত বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। প্রয়োজনে আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
জার্মানিতে অন্তত ২৫০ জন গ্রেপ্তার
জার্মান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় অন্তত ২৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শত শত তদন্ত শুরু হয়েছে। শুধু ফ্রাঙ্কফুর্টেই ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৮৭টি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পর্তুগালেও সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তার
শনিবার পর্তুগালেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাজধানী লিসবন ও পোর্তো শহরে মোট ১৩ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন, যাদের মধ্যে ১৩ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
পোর্তোতে বিক্ষোভের সময় সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা অস্ত্র বের করেছিলেন বলে গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, পুলিশ তা নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও হোসে সেগুরো তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার কমেন্ট