রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ - ২০:৪৬
জিহাদ ও শাহাদতের অমৃত ধামে চির অমর শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ

তাশয়ী'-ই জানাযা, শেষ বিদায় ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলাকালে বেশ কয়েকবার ইসরাইলী জঙ্গি বিমান সমূহ লেবাননের রাজধানী বৈরুতের আসমানে একদম নীচু দিয়ে উড়ে প্রচণ্ড শব্দ করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে।

হৌজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম 
ইন্না 'আলাল্ 'আহ্দ্ 
  জিহাদ ও শাহাদতের অমৃত ধামে চির অমর শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ'
    সাইয়েদুল মুকাওয়ামাহ্ (প্রতিরোধ সংগ্রাম ও জিহাদের সাইয়েদ বা নেতা) শাহীদুল কুদস (কুদসের শহীদ অর্থাৎ আল-কুদস মুক্ত ও উদ্ধারের পথে শহীদ) আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ্‌‌ যিনি মর্দে মুজাহিদ ( বীরপুরুষ মুজাহিদ) মর্দে ময়দান (জিহাদ ও সংগ্রামের ময়দানের সিংহপুরুষ) ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদ ও সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিযবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল। আরব-আজমের নয়নমণি,সবার প্রিয়পাত্র ছিলেন, আছেন ও থাকবেন শহীদ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ। 
    পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এবং ফিলিস্তীন দখলদার ও মুসলিম উম্মাহর প্রথম ক্বিবলাহ্ আল-কুদস জবরদখলকারী ইসরাইল বিরোধী লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিযবুল্লাহর (মহান আল্লাহর দল) মহান নেতা ও তৃতীয় সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ্‌ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সহকারী, হিযবুল্লাহ আন্দোলনের নির্বাহী প্রধান ও (শহীদ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের পর হিযবুল্লাহ আন্দোলনের) ৪র্থ সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ সাইয়েদ হাশেম সাফীয়ুদ্দীনের শেষবিদায়,শেষকৃত্য ও তাশয়ী'-ই জানাযার অনুষ্ঠান লক্ষ লক্ষ মিলিয়নের অধিক অগণিত শোকাহত জনতার অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ রোববার ভোর ৫ টা থেকে এবং তা এখনও (৬:২৬) চলছে।আর এ অনুষ্ঠান আজ সন্ধ্যায় শহীদ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহর দাফন পর্যন্ত বৈরুতে চলতে থাকবে। আগামী কাল শহীদ সাইয়েদ হাশেম সাফীয়ুদ্দীনের লাশ দক্ষিণ লেবাননে দাফন করা হবে। উল্লেখ্য যে আজ বৈরূতে প্রচণ্ড শীত, শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রা,বরফপাত ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে লেবাননের জনতা লেবাননের বিভিন্ন স্থান ও অঞ্চল থেকে সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ ও সাইয়েদ হাশেম সাফীয়ুদ্দীনের শেষ বিদায়,শেষকৃত্য ও তাশয়ী'য়ে জানাযা অনুষ্ঠানে যোগদান করছেন।
এই তাশয়ী'-ই জানাযা, শেষ বিদায় ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলাকালে বেশ কয়েকবার ইসরাইলী জঙ্গি বিমান সমূহ লেবাননের রাজধানী বৈরুতের আসমানে একদম নীচু দিয়ে উড়ে প্রচণ্ড শব্দ করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে। আর  ৩:৩৩ আবারো ৪টি ইসরাইলী জঙ্গি বিমান বৈরূতের আকাশের নীরবতা ভঙ্গ করে প্রচণ্ড শব্দ করে উড়ে গেল যা আমিও শুনতে পেলাম টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার কালে। আর এটাই হচ্ছে ইসরাইল এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ বিশেষ করে মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) আগ্রাসী রক্তপিপাসু চেহারা ও চরিত্র।এরা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না,কোনো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি মোটেও এরা শ্রদ্ধাশীল নয়। অথচ লেবাননের নয়া প্রশাসন ও সরকার কি এ ধরনের আগ্রাসী রক্তপিপাসু জান্তা দখলদার ইসরাইলী সরকারের সাথে মৈত্রী ও শান্তি চুক্তি করার ব্যাপারে খোশবীন্ (আশাবাদী)?!! এইমাত্র প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ: এই অল্প কিছু ক্ষণ আগে ইসরাইলী জঙ্গি বিমান লেবাননের নাবাতীয়া এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ব্যাপারে কোনো কিছু এখনো জানা যায় নি। এরপর বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে ইসরাইল আগ্রাসী যুদ্ধবাজ রক্তপিপাসু। কিন্তু লেবাননের জোযেফ ঔনের সরকার এই রক্তপিপাসু ইসরাইলী জান্তা সরকারের সাথে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ বিশেষ করে বিশ্ব খাদক মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) সাথে সন্ধি করতে চায় যা থেকে প্রমাণিত হয় যে লেবাননের জোযেফ ঔনের নয়া সরকার পশ্চিমা ও প্রতিক্রিয়াশীল আরব দেশগুলোর পুতুল সরকার ছাড়া আর কিছুই নয়।
   শহীদ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ ,শহীদ সাইয়েদ হাশেম সাফীয়ুদ্দীন এবং ফিলিস্তীন, লেবানন ও সকল মুসলিম দেশের শহীদগণ চির অমর।কারণ তাঁরা মহান আল্লাহর পথে মুজাহিদ ও শহীদ।মুজাহিদকে মহান আল্লাহ ইহ্দাল হুসনায়াইন (إحدی الحسنیین) অর্থাৎ দুটো উত্তম বিষয় বা সবচেয়ে সুন্দর প্রতিদান ও পরিণতির একটি দান করেন। আর এ দুটো উত্তম ও সবচেয়ে সুন্দর প্রতিদান ও পুরস্কার হচ্ছে বিজয় ও শাহাদাত এবং এ দুটোই হচ্ছে আল্লাহর রাহে মুজাহিদের পরম সফলতা। আর মুজাহিদ ও সংগ্রামী যখন শহীদ হন তখন তিনি হন পবিত্র কুরআনের এই আয়াত সমূহে বর্ণিত চিরস্থায়ী সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অধিকারী চির অমর চির জীবিত যা আসলে কল্পনাই করা যায় না। আয়াতগুলো:


سوره مبارکه آل عمران آیه ۱۶۹وَلا تَحسَبَنَّ الَّذينَ قُتِلوا في سَبيلِ اللَّهِ أَمواتًا ۚ بَل أَحياءٌ عِندَ رَبِّهِم يُرزَقونَ


(হে নবী!) যারা মহান আল্লাহর রাহে (পথে) নিহত হয় তাদেরকে কখনোই  তুমি মৃত বিবেচনা করো না বরং তাঁরা জীবিত স্বীয় প্রভুর সান্নিধ্যে তাঁরা রিযিক (জীবিকা) প্রাপ্ত (আল-ই ইমরান:১৬৯)।

لا تَقولوا لِمَن یُقتَلُ فی‌ سَبیلِ اللهِ ‌اَمواتٌ بَل اَحیاءٌ وَ لکِن لا تَشعُرون


যারা মহান আল্লাহর পথে নিহত (শহীদ) হয় তাদেরকে তোমরা মৃত বলো না বরং তাঁরা জীবিত কিন্তু তোমরা (তা) বুঝতে পারো না ( সূরা-ই বাকারাহ্:১৫৪)।
   হে শহীদ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ! তুমি ও তোমার শহীদ সঙ্গী-সাথীগণ দেখতে পাচ্ছ প্রত্যক্ষ করছ: তোমাকে ও তোমার সহকারী বন্ধু ও সঙ্গী সাইয়েদ হাশেম সাফীয়ুদ্দীনকে লেবাননের অগণিত লক্ষ লক্ষ বা মিলিয়নের অধিক শোকাহত জনতা কিভাবে শোকানলে দগ্ধ হয়ে শেষ বিদায় জানাচ্ছে এবং বলছে: "লাব্বাইক ইয়া নাসরাল্লাহ্ ইন্না 'আলাল্ 'আহ্দ্ (নিশ্চয়ই আমরা প্রতিজ্ঞার উপর বহাল ও প্রতিষ্ঠিত আছি)।" শুধু লেবাননের নয় একই সময় আজ ইরানে ইরাকে ইয়ামানে মিলিয়ন মিলিয়ন জনতা তোমাদের জন্য সড়ক ও জনপথ সমূহে নেমে এসে শোক প্রকাশ করছে ও শেষ বিদায় জানাচ্ছে এবং আজ মাগরিব ও এশার নামাজের পর ইরান ইরাক এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তোমাদের জন্য শামে গরীবানের অনুষ্ঠানে তোমাদের জন্য পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত,দুআ,তাওয়াসসুল ও শোক পালন করবে।হে সাইয়েদু শুহাদাইল মুকাওয়ামাহ্ (প্রতিরোধ আন্দোলনের শহীদদের নেতা) আমাদের জন্য শাফায়াত করো মহান আল্লাহর দরবারে। তুমি পৌঁছে গেছ তোমার ইস্পিত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে,অনন্ত ধামে, অনন্ত চিরস্থায়ী জীবনের সর্বোন্নত পর্যায় ও সর্বশীর্ষে যা তুমি সব সময় কামনা করতে।আর তুমি শহীদ হয়েছ মহান আল্লাহর দ্বীনের সবচেয়ে জঘন্য ঘৃণ্য শত্রু যায়নবাদী ইসরাইলের হাতে। আর এটাই তো তোমার সুমহান মর্যাদা,সম্মান ও গৌরবের জন্য যথেষ্ট। বিশ্ববাসী এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোয় বহু স্বাধীনচেতা তোমার জন্য শোক করছে। তোমার জন্য বিশ্বের সকল স্বাধীনচেতা মুক্তমনা আজ শোকাহত ও দু:খ ভারাক্রান্ত। সবাই শোক প্রকাশ করছে। তোমার জন্য রোগশয্যায় মৃত্যু হতো নিতান্ত কলঙ্কজনক। তাই তোমাকে মহান আল্লাহ পুরস্কৃত করেছেন শাহাদাত দিয়ে। শাহাদাত তোমার শোভন ও সৌন্দর্য (যাইন)। 
    শহীদ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ নিজের জৈষ্ঠ্য সন্তান সাইয়েদ হাদী নাসরুল্লাহকে ইসরাইল ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ইসলামী প্রতিরোধ সংগ্রাম ও জিহাদের সংগ্রামে উৎসর্গ করেছিলেন। ১৯৯৭ সালে সাইয়েদ হাদী নাসরুল্লাহ দখলদার আগ্রাসী ইসরাইলী বাহিনীর বিরুদ্ধে  রণাঙ্গনে শাহাদাত বরণ করেন। তাই কেন তিনি লেবানন, ফিলিস্তিন,ইরাক,ইয়ামান,সিরিয়া , আরব,আফ্রিকীয় বরং সকল মুসলিম দেশ ও বিশ্বের সকল স্বাধীনচেতা মুক্তমনা ব্যক্তির প্রিয়পাত্র হবেন না ?!!! ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের সকল নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে শহীদ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ নিজেদের জান,মাল ও প্রিয়জনদের খোদার রাহে উৎসর্গ করে জনগণকে আম জনতাকে এ পথে দাওয়াত ও আহ্বান জানিয়েছেন ও জানান। আর এজন্যই তাদের এত জনপ্রিয়তা। তাদের শোকে জনগণ আসলেই প্রিয়জন হারানোর শোকে মুহ্যমান হয়ে যায়। সালামুন আলাইকুম ইয়া শুহাদাআ ইযযাতিল উম্মাহ,ইয়া শুহাদাআল কুদস্ আস-সালামু আলাইকা ইয়া নাসরাল্লাহ (তোমাদের ওপর সালাম হে উম্মাহর ইযযত ও সম্মানের শহীদ গণ ,হে কুদসের শহীদ গণ! তোমার ওপর সালাম হে নাসরাল্লাহ্ । হে মহান আল্লাহর আওলিয়া (বন্ধু) হে শহীদগণ! আমাদের জন্য দুআ করো তোমরা যাতে মহান আল্লাহ আমাদেরকেও তোমাদের পথ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করে শাহাদাতের পরম সৌভাগ্য দান করেন। ইন্না 'আলাল 'আহ্দ্ ( নিশ্চয়ই আমরা প্রতিজ্ঞার ওপর অটল ও অবিচল আছি)।
  মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান 
  ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha