হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, রমজান মাস ইসলাম ধর্মে সবচেয়ে পবিত্র মাসগুলোর মধ্যে একটি। শিয়াদের মতে, এই মাস রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের মাস, যেখানে রোজা শুধু খাবার-পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়। কুরআন ও আহলে বাইতের (আ.) হাদিসসমূহে এই মাসের বহু ফজিলতের উল্লেখ রয়েছে।
১. গুনাহ মাফ ও রহমতের মাস,
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
যে ব্যক্তি ঈমান ও আন্তরিকতার সঙ্গে রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
ইমাম আলী (আ.) বলেছেন:
রমজান মাস হলো বান্দার জন্য সঞ্চয়কৃত সম্পদ।
২. জান্নাত লাভের সুবর্ণ সুযোগ
হাদিসে বলা হয়েছে:
জান্নাতে একটি দরজা আছে যার নাম 'রাইয়ান', রোজাদার ব্যতীত কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।
৩. কুরআন নাজিলের মাস
আল্লাহ বলেন:
রমজান মাস, যে মাসে কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত ও সঠিক পথের দিশারী। (সূরা আল-বাকারা (১৮৫)
৪. শবে কদরের বরকত
রমজান মাসের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রাত হলো লাইলাতুল কদর। আল্লাহ বলেন:
লাইলাতুল কদর এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সূরা আল-কদর: ৩)
এই রাতে আল্লাহ মানুষের আগামী বছরের তাকদির নির্ধারণ করেন, আর ইমাম মাহদী (আ.) এর ওপর সেই তাকদির নাজিল করা হয় |
৫. জাহান্নাম থেকে মুক্তি
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
রমজানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক নরক থেকে মুক্তির।
৬. দোয়া কবুল হওয়ার সময়
রাসুল (সা.) বলেছেন:
তিন ব্যক্তির দোয়া কখনও ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসকের, রোজাদারের ইফতারের সময়, এবং মজলুমের দোয়া।
৭. আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জন:
ইমাম বাকির (আ.) বলেছেন:
রোজা হৃদয়ের ময়লা দূর করে দেয়।
এটি শুধু বাহ্যিক না খেয়ে থাকার নাম নয়, বরং আত্মার প্রশিক্ষণ ও শুদ্ধির একটি প্রক্রিয়া।
৮. কিয়ামতের দিন রোজার সুপারিশ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
রোজা ও কুরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে।
৯. গুনাহ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন:
তোমাদের রোজা শুধু খাবার ও পানীয় থেকে হওয়া উচিত নয়, বরং তোমাদের চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরও রোজা রাখুক।
১০. ইমাম মাহদী (আ.) এর আগমনের জন্য দোয়া
এই মাসে ইমাম মাহদী (আ.) এর আগমনের জন্য বিশেষ দোয়া করেন, কারণ এই মাস দোয়া কবুলের মাস।
উপসংহার :
রমজানের রোজা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ লাভের একটি সোনালী সুযোগ। এটি মানুষের গুনাহ মোচনের মাস, কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাস, এবং সর্বোপরি আত্মার মুক্তির মাস।
লেখা: সৈয়দ আলী আকবর
আপনার কমেন্ট