হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসরাইলের অ্যারো (Arrow) মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি থাড (THAAD: Terminal High Altitude Area Defense) মিসাইল ব্যাটারি মোতায়েন করেছে।
সম্প্রতি ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে এই দুটি সিস্টেমই ব্যবহৃত হয়েছে। ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি অ্যারো মিসাইল ও মার্কিন থাড মিসাইলের মাধ্যমে একসাথে প্রতিহত করা হয়। হেব্রনে প্রতিরোধের পর পাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে এটিই প্রমাণিত হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যায়।
গত অক্টোবরে ইরানের রেকর্ডসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাইডেন প্রশাসন ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে থাড ব্যাটারি প্রেরণ করে।
থাড ও অ্যারো উভয়ই ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তৈরি করা হয়, যখন ইরাকের স্কাড মিসাইল প্রতিরোধে প্যাট্রিয়ট সিস্টেম (Patriot) ব্যর্থ হয়েছিল। প্যাট্রিয়ট মূলত বিমানবিধ্বংসী ব্যবস্থা হিসেবে তৈরি হলেও পরবর্তীতে ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরোধে রূপান্তরিত হয়। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বুঝতে পারে যে এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।
খরচ ও প্রযুক্তিগত পার্থক্য:
- অ্যারো ইন্টারসেপ্টর: প্রতি ইউনিটের মূল্য ২–৩ মিলিয়ন ডলার।
- থাড ইন্টারসেপ্টর: প্রতি ইউনিটের মূল্য ১২–১৫ মিলিয়ন ডলার (অ্যারোর চেয়ে ৪–৫ গুণ বেশি)।
এই উচ্চ মূল্যের কারণে থাড সিস্টেম শুধুমাত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সৌদি আরবের মতো ধনী দেশগুলিই ক্রয় করেছে। জার্মানি থাডের পরিবর্তে ইসরাইলের অ্যারো ৩ (Arrow 3) সিস্টেম বেছে নিয়েছে।
থাড (THAAD) ও অ্যারো (Arrow) সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতার ইতিহাস:
১. প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের ব্যর্থতা (১৯৯১ উপসাগরীয় যুদ্ধ): থাড ও অ্যারো সিস্টেমের উন্নয়নের পেছনে মূল কারণ ছিল ১৯৯১ সালে ইরাকের স্কাড মিসাইল প্রতিরোধে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের ব্যর্থতা। প্যাট্রিয়টের সফল প্রতিরোধ হার ছিল মাত্র ৯–৪০% (বিতর্কিত তথ্য), যা মার্কিন ও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষকে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় বাধ্য করে।
২. থাড (THAAD)-এর সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা:
- উচ্চ খরচ: প্রতি ইন্টারসেপ্টরের মূল্য ১২–১৫ মিলিয়ন ডলার, যা বড় আকারের হামলা মোকাবিলায় অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে।
- জটিল লক্ষ্যবস্তুতে চ্যালেঞ্জ: হাইপারসনিক মিসাইল বা অত্যাধুনিক ম্যানেউভারিং ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে থাডের কার্যকারিতা এখনো পরীক্ষাধীন।
- রিয়েল-টাইম ডেটা নির্ভরতা: শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রের ট্র্যাজেক্টরি সঠিকভাবে শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে রাডার ও সেন্সর নেটওয়ার্কের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল।
২. অ্যারো সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা:
- পরিসরের সীমা: অ্যারো ২ ও ৩ প্রধানত মধ্য-পরিসরের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরোধে ডিজাইন করা হয়েছে। দীর্ঘ-পরিসরের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) প্রতিরোধে এর সক্ষমতা সীমিত।
- স্যাচুরেশন অ্যাটাকের ঝুঁকি: একসাথে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টর মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।
- প্রযুক্তিগত গ্লিচ: ২০১৭ সালে একটি প্রতিরক্ষা মহড়ায় অ্যারো ৩ সিস্টেমের সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে বিলম্বের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
৪. যৌথ অপারেশনের চ্যালেঞ্জ: থাড ও অ্যারোর সমন্বিত ব্যবহারে ডেটা শেয়ারিং, কমান্ড কন্ট্রোল, এবং টার্গেট প্রায়োরিটাইজেশনের জটিলতা দেখা দিতে পারে, বিশেষত বড় আকারের হামলার সময়।
৫. রিয়েল-ওয়ার্ল্ড ট্রায়ালের অভাব: থাড ও অ্যারো সিস্টেমের বেশিরভাগ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করা হয়েছে। ইরান, ইয়েমেনের হুথি, বা হামাসের মতো গেরিলা কৌশলে পরিচালিত জটিল হামলার বিরুদ্ধে এর বাস্তব-বিশ্বের কার্যকারিতা এখনো সম্পূর্ণ প্রমাণিত নয়।
আপনার কমেন্ট