রবিবার ৮ জুন ২০২৫ - ১৮:৩৬
বিশ্বব্যাপী ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর শাসনামলের সময়কাল

ইমাম মাহদী (আ.ফা.) প্রতিষ্ঠিত ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা এমন একটি সরকার যা তার পরে আর কোনো সরকার থাকবে না। বাস্তবে, এটি মানবজাতির জন্য একটি নতুন ইতিহাসের সূচনা হবে যা সম্পূর্ণভাবে ঐশ্বরিক সার্বভৌমত্বের অধীনে পরিচালিত হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মানবজাতি দীর্ঘকাল ধরে অত্যাচার ও জুলুমের শাসন অতিক্রম করার পর, বিশ্ব ঐশ্বরিক সার্বভৌমত্বের (divine governance) দিকে অগ্রসর হবে এবং শাসনভার সৎ ও ন্যায়পরায়ণ শাসকদের হাতে ন্যস্ত হবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অবশ্যম্ভাবী প্রতিশ্রুতি। 

ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া ন্যায়পরায়ণ শাসন পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এবং আর কখনও অত্যাচার ও অত্যাচারীদের শাসন ফিরে আসবে না। 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা শেষ নিষ্পাপ ইমামের শাসনের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং শেষে বলেছেন: 
لَأُدِیمَنَّ مُلْکَهُ وَ لَأُدَاوِلَنَّ الْأَیَّامَ بَیْنَ أَوْلِیَائِی إِلَی یَوْمِ الْقِیَامَةِ
[যখন মাহদী (আ.ফা.) শাসনক্ষমতায় আসবেন,] আমি তাঁর শাসনকে স্থায়ী করব এবং কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর শাসনভার আমার অলী-বন্ধুদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রদান করতে থাকব।
[কামাল আল-দ্বীন, খণ্ড- ১, পৃষ্ঠা- ২৫৬]

এখানে আল্লাহ তা'আলা ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর শাসনকে একটি স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর নির্দেশিত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় চলবে। অর্থাৎ, ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর প্রতিষ্ঠিত ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থাই শেষ ও চূড়ান্ত ব্যবস্থা হবে, যার পরে অন্য কোনো শাসন আসবে না।)

বাস্তবে, এটি মানবজাতির জন্য একটি নতুন ইতিহাসের সূচনা হবে যা সম্পূর্ণভাবে ঐশ্বরিক সার্বভৌমত্বের অধীনে পরিচালিত হবে। 

ইমাম বাকির (আ.) বলেছেন,
دَوْلَتُنَا آخِرُ الدُّوَلِ وَ لَنْ یَبْقَ أَهْلُ بَیْتٍ لَهُمْ دَوْلَةٌ إِلَّا مُلِّکُوا قَبْلَنَا لِئَلَّا یَقُولُوا إِذَا رَأَوْا سِیرَتَنَا إِذَا مُلِّکْنَا سِرْنَا مِثْلَ سِیرَةِ هَؤُلَاءِ۔
আমাদের সরকারই শেষ সরকার। আমাদের আগে শাসনকারী কোনো বংশ বা গোষ্ঠী অবশিষ্ট থাকবে না—তারা সবাই আমাদের শাসন শুরুর আগেই ক্ষমতায় আসবে। এটা এজন্যই যে, যখন তারা আমাদের শাসনপদ্ধতি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তারা যেন এ কথা না বলতে পারে যে, 'যদি আমরাও শাসন করতাম, তাহলে তাদের মতোই করতাম।
[আল-গায়বা, শেখ তুসী, পৃষ্ঠা- ৪৭৩]

ইমাম বাকির (আ.) থেকে বর্ণিত হাদীসটি ইমাম মাহদী (আ.ফা)-এর শাসনের সর্বশেষ ও পূর্ণতা দানকারী চরিত্রকে তুলে ধরে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর শাসনই হবে মানব ইতিহাসের চূড়ান্ত ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা, যার পরে অন্য কোনো শাসনব্যবস্থার প্রয়োজন হবে না।

সুতরাং, ইমাম মাহদী (আ.ফা.)’র আবির্ভাবের পর ঐশ্বরিক শাসনের স্থায়িত্বকাল ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর ব্যক্তিগত শাসনামল থেকে আলাদা। হাদীস অনুসারে, তিনি তাঁর অবশিষ্ট জীবন শাসন করবেন এবং শেষে ইন্তেকাল করবেন। 

নিঃসন্দেহে, তাঁর শাসনামল এমন একটি সময় পর্যন্ত স্থায়ী হবে যাতে বিশ্বব্যাপী পরিবর্তন ও সর্বত্র ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। তবে এই লক্ষ্য কত বছরে অর্জিত হতে পারে তা অনুমান করা কঠিন এবং এ বিষয়ে ইমামগণের হাদীসের দিকে ফিরে যেতে হবে। অবশ্য, ঐশী সাহায্য, যোগ্য সাহাবী এবং বিশ্বব্যাপী ঐশ্বরিক সার্ভভৌমত্বের জন্য প্রস্তুতির কারণে, ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর মিশন অপেক্ষাকৃত স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হতে পারে। 

ইমাম মাহদী (আ.)-এর শাসনামলের সময়কাল সম্পর্কিত হাদীসগুলো বিভিন্ন রকম। কিছু হাদীসে ৫ বছর, কিছুতে ৭ বছর, আবার কিছুতে ৮, ৯ বা ১০ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু হাদীসে ১৯ বছর ও কয়েক মাস, কোনো কোনো সূত্রে ৪০ বছর এবং কী ৩০৯ বছর পর্যন্তও উল্লেখ রয়েছে।

এই সকল হাদীস থেকে ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর শাসনামলের প্রকৃত সময়কাল নির্ধারণ করা সহজ কাজ নয়। তবে কিছু শিয়া আলেম আধিক্য ও প্রসিদ্ধির ভিত্তিতে সাত বছর সংক্রান্ত হাদীসগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অন্যদিকে কিছু মনীষী অন্য বর্ণনাসমূহের আলোকে মত প্রকাশ করেছেন যে, যদিও ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর শাসনকাল সাত বছর স্থায়ী হবে, কিন্তু তাঁর শাসনের প্রতিটি বছর আমাদের বর্তমান সময়ের দশ বছরের সমান মূল্যবান ও ফলপ্রসূ হবে।

এই ধারাবাহিক আলোচনা চলবে...

গ্রন্থসূত্র: ‘নেগীনে অফারিনেশ’ থেকে (প্রয়োজনীয় সম্পাদনা ও পরিমার্জনের ভিত্তিতে) গৃহীত

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha