বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:২৩
কীভাবে জীবনসঙ্গীর মন ভালো রাখা যায়? দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ৫ উপায়

দাম্পত্যজীবনে ভালোবাসা ও মানসিক ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবারবিষয়ক পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রেজা ইউসুফজাদেহ। তাঁর মতে, জীবনসঙ্গীকে সময় দেওয়া, মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার অনুভূতিকে বোঝা ও স্বীকৃতি দেওয়া, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ভালোবাসা স্পষ্টভাবে প্রকাশ—এই বিষয়গুলো দাম্পত্যসম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও প্রাণবন্ত করতে পারে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: দাম্পত্যজীবনের স্থায়িত্ব ও প্রশান্তি অনেকাংশেই স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক যত্ন, ভালোবাসা এবং মানসিক চাহিদার প্রতি মনোযোগের ওপর নির্ভর করে। দৈনন্দিন ব্যস্ততা ও নানা উদ্বেগের মধ্যেও কীভাবে জীবনসঙ্গীর মন ভালো রাখা যায়—এ প্রশ্ন অনেকেরই। এর জন্য সবসময় বড় কোনো আয়োজন বা ব্যয়বহুল উদ্যোগের প্রয়োজন নেই; বরং কিছু সহজ ও কার্যকর আচরণই সম্পর্কের মধ্যে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে পারে।

পরিবারবিষয়ক পরামর্শক ও বিশেষজ্ঞ হুজ্জাতুল

কীভাবে জীবনসঙ্গীর মন ভালো রাখা যায়? দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ৫ উপায়

ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রেজা ইউসুফজাদেহ দাম্পত্যসম্পর্কে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা বাড়াতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়ের কথা তুলে ধরেছেন।

প্রশ্ন: জীবনসঙ্গীর মন ভালো রাখতে কী করা উচিত?

উত্তর: দাম্পত্যসম্পর্কের মানোন্নয়ন ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে নিম্নোক্ত পাঁচটি বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে—

১. জীবনসঙ্গীকে ‘গুণগত সময়’ দিন
প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শুধু দুজনের জন্য বরাদ্দ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে এই সময়কে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা যেতে পারে—যেমন দুই দফায় ৩০ মিনিট কিংবা চার দফায় ১৫ মিনিট করে।

তবে এখানে সময়ের চেয়ে সময়ের গুণগত মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় মোবাইল ফোন দূরে রাখা, টেলিভিশন বন্ধ রাখা এবং সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে কথা বলা উচিত। মনোযোগ দিয়ে পাশে থাকা এবং তার কথা শোনা—জীবনসঙ্গীকে সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়ার অন্যতম উপায়।

২. মনোযোগ দিয়ে শুনুন এবং জীবনসঙ্গীকে গুরুত্ব দিন
প্রত্যেক মানুষেরই প্রয়োজন—সে যেন শোনা ও দেখা হয়। জীবনসঙ্গীর পোশাক, আচরণ কিংবা দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন এলে তা লক্ষ্য করা এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো তাকে এই অনুভূতি দেয় যে, সে আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

একইভাবে, তার কথা, কষ্ট ও উদ্বেগ মনোযোগ দিয়ে শোনা দাম্পত্যজীবনে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনার অন্যতম কার্যকর উপায়।

৩. জীবনসঙ্গীর অনুভূতিকে স্বীকৃতি দিন
সহমর্মিতা দেখানোর অর্থ হলো—জীবনসঙ্গীর অনুভূতিকে বোঝা এবং সেই অনুভূতি প্রকাশের অধিকারকে স্বীকার করা; তবে তার অনুভূতির কারণে করা প্রতিটি আচরণকে সমর্থন করা নয়।

এক্ষেত্রে অনুভূতি ও আচরণের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। মানুষ সবসময় নিজের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; কিন্তু সেই অনুভূতির ভিত্তিতে কী আচরণ করবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তাই জীবনসঙ্গী কোনো কারণে কষ্ট পেলে বলা যেতে পারে, ‘আমি বুঝতে পারছি তুমি কষ্ট পেয়েছ এবং তোমার এমন অনুভূতি হওয়ার কারণটাও বুঝতে পারছি।’ এতে তিনি অনুভব করবেন যে, তার অনুভূতিকে উপেক্ষা করা হচ্ছে না; বরং তাকে বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।

৪. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন
কৃতজ্ঞতা ভালোবাসা ও আন্তরিকতা বাড়ানোর অন্যতম চাবিকাঠি। দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজ—যেমন খাবার তৈরি করা, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা কিংবা ঘরের ছোটখাটো কাজ করা—অনেক সময় দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তারপরও এসব কাজের জন্য জীবনসঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।

‘ধন্যবাদ’, ‘কষ্ট করেছ’, ‘খুব পরিশ্রম করেছ’ কিংবা ‘ক্লান্ত হয়েছ, একটু বিশ্রাম নাও’—এ ধরনের ছোট ছোট কথাও সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা বাড়ায়।

অন্যদিকে, সন্তানরাও বাবা-মাকে পরস্পরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখলে বাস্তব জীবনের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতার শিক্ষা লাভ করে।

৫. ভালোবাসা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন
ভালোবাসা শুধু হৃদয়ে ধারণ করে রাখলেই হবে না; তা প্রকাশ করাও প্রয়োজন। ভালোবাসাকে শুধু আর্থিক দায়িত্ব পালন বা জীবনসঙ্গীর প্রয়োজন মেটানোর মধ্যেও সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভালোবাসার মানুষকে নিজের ভালোবাসার কথা জানাতে উৎসাহিত করেছেন। কারণ ভালোবাসা প্রকাশ করলে তা হৃদয়ে আরও দৃঢ় হয়।

ভালোবাসা প্রকাশের ধরনেও বৈচিত্র্য থাকা উচিত। কখনো ভালোবাসার কথা বলা, কখনো কাজের মাধ্যমে সহযোগিতা করা, কখনো উপহার দেওয়া, কখনো স্নেহপূর্ণ আলিঙ্গন এবং কখনো শুধু জীবনসঙ্গীর জন্য সময় বের করা—বিভিন্নভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়।

বিশেষ করে অনেক পুরুষের জন্য মুখে ভালোবাসার কথা বলা কঠিন হতে পারে। তারা মনে করেন, পরিবারের খরচ বহন করা কিংবা জীবনসঙ্গীর আর্থিক প্রয়োজন পূরণ করাই ভালোবাসা প্রকাশের যথেষ্ট প্রমাণ। কিন্তু ভালোবাসার অনুভূতি মুখেও প্রকাশ করা প্রয়োজন। শুরুতে বিষয়টি কঠিন মনে হলেও নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ও আনন্দদায়ক অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

দাম্পত্যজীবনে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা বাড়ানোর জন্য সবসময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সময় দেওয়া, মনোযোগ দিয়ে শোনা, অনুভূতিকে বোঝা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ভালোবাসা স্পষ্টভাবে জানানো—এই সহজ বিষয়গুলোই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে আরও গভীর, উষ্ণ ও দৃঢ় করে তুলতে পারে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha