হাওজা নিউজ এজেন্সি: শাইখ আল-কাত্তান ইরনা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, গত কয়েক দশক ধরে প্রতিরোধ সর্বদা লেবাননের শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করেছে। হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা মূলত আমেরিকা–জায়োনিস্ট মহলের চাপ ও ষড়যন্ত্রের অংশ। তবে, অধিকাংশ লেবাননী নাগরিক এ ধরনের অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্রের বিরোধিতা করে।
সেনা–জনগণ–প্রতিরোধের সমীকরণ
শাইখ আল-কাত্তান বলেন, লেবাননের সেনাবাহিনী দেশের গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হলেও এককভাবে ইসরাইলের মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়। কারণ পশ্চিমা দেশগুলো কখনোই সেনাবাহিনীকে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সহায়তা দেয়নি। অথচ আজ যারা প্রতিরোধকে নিরস্ত্রীকরণের কথা বলছে, তারাই সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাস্তবে “সেনা–জনগণ–প্রতিরোধ” এই সমীকরণই লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইল নিয়মিত লেবাননের আকাশ, স্থল ও সমুদ্রসীমা লঙ্ঘন করছে। তাই প্রতিরোধের অস্ত্র ছাড়া দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।
নিরস্ত্রীকরণের আগে দখলদার উৎখাত
এই আলেম বলেন, ইসরাইলি আগ্রাসন চলমান থাকা অবস্থায় প্রতিরোধকে নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। প্রতিরোধের অস্ত্র আজ লেবাননের প্রকৃত শক্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলোকে বুঝতে হবে যে, লেবানন কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করবে না। বরং দেশ প্রতিটি ষড়যন্ত্র, বিশেষ করে আমেরিকা–জায়োনিস্ট ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে।
শাইখ আল-কাত্তান বলেন, আন্তর্জাতিক মহলকে উচিত ইসরাইলকে চাপে রাখা, যাতে তার আগ্রাসন বন্ধ হয়। কেবল তখনই প্রতিরোধের অস্ত্র নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেটিও হবে জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে, অস্ত্র সমর্পণের জন্য নয়।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করছি। কোনোভাবেই প্রতিরোধের অস্ত্র শত্রুর হাতে তুলে দিয়ে নিজেদের অসহায় করে দেব না। প্রতিরোধের অস্ত্র সমর্পণ একেবারেই অসম্ভব।”
জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন
শাইখ আল-কাত্তান বলেন, লেবাননের জাতীয় ও ইসলামী ঐক্য কেবল তখনই শক্তিশালী হবে, যখন সর্বসম্মতিক্রমে ইসরাইলি দখলদারিত্ব সমাপ্ত করার লক্ষ্যে আমরা একসাথে দাঁড়াব। এরপর নাগরিক হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের আলোকে দেশকে প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখে শক্তিশালী রাখব।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট লেবাননের মন্ত্রিসভা, মার্কিন দূত টম বারাকের চাপের মুখে এবং শিয়া মন্ত্রীরা (হিজবুল্লাহ ও আমল আন্দোলন) অনুপস্থিত থাকা অবস্থায়, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এ সিদ্ধান্ত শিয়া রাজনৈতিক দলগুলো তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আপনার কমেন্ট