হাওজা নিউজ এজেন্সিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আলী নাকি সাহেব কিবলা শিক্ষক হাওজা ইলমীয়া আহলে বাইত (আ.) ও ঈমাম জুমা মাশিয়া জামে মসজিদ (পশ্চিম বঙ্গ ভারত)
ইসলামের সোনালী যুগের অন্যতম প্রধান ঘটনা হলো হযরত নবী মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পুত্র ইমাম হাসান (আ.) এর নেতৃত্বাধীন সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। সেই সময় ছিল নানা সংকট, বিভাজন ও সংঘাতের; তবে নেতাদের বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও নৈতিক মূল্যবোধের মাধ্যমে নানা সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছিল। আজকের বিশ্ব রাজনীতি ও সমাজে যেখানে পারস্পরিক বিভাজন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে নবী (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর সময়ের রাজনৈতিক অবস্থা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ঐতিহাসিক সেই দৃষ্টান্ত থেকে আমরা কি ধরনের মন্ত্র গ্রহণ করতে পারি, যা আজকের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাত সমাধানে সাহায্য করবে—এই আলোচনাই এই বিষয়টির মূল কেন্দ্রবিন্দু।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
আলী নাকি সাহেব, আপনাকে আমাদের সঙ্গে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আজকের আলোচনা মূলত নবী (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শেখার দিক নিয়ে। আপনি কি বলবেন, সেই সময়ের রাজনৈতিক অবস্থা থেকে কি শিক্ষাগুলো আজকের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাত মোকাবেলায় প্রাসঙ্গিক?
আলী নাকি: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ
ধন্যবাদ আমাকে এই আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য।
নবী করিম (সা.) এবং ইমাম হাসান (আ.) এর যুগ ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং রাজনৈতিক সময়। সেখানে কঠিন রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে বিরোধ, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার লোভ ছিল। কিন্তু এর পরেও তারা যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা আমাদের জন্য আজও দৃষ্টান্তমূলক।
নেতৃত্বের দিক থেকে তারা কী শিক্ষা দিয়েছেন?
আলী নাকি: নবী (সা.) ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, দয়ালু এবং সর্বদা জনতার কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। ইমাম হাসান (আ.) তার সুলহ ও শান্তির নীতি দিয়ে দেখিয়েছেন যে, শক্তি শুধু অস্ত্র ও যুদ্ধে নয়, বরং কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্য ধারণ করতেও।
তাহলে কি বলতে পারেন, এই শিক্ষা আজকের রাজনৈতিক বিভাজন ও সংঘাত সমাধানে কতটা কার্যকর?
আলী নাকি: অত্যন্ত কার্যকর। আজকের রাজনৈতিক ভাঙন ও সংঘাত মূলত স্বার্থান্বেষণ, অহংকার ও বিভাজনের কারণে। নবী (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ, ধৈর্য ও ঐক্যের জন্য আত্মত্যাগ করা গুরুত্বপূর্ণ। যখন নেতারা নিজেদের স্বার্থের পরিবর্তে জাতির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তখনই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমান সময়ে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের জন্য এর কী গুরুত্ব?
আলী নাকি: আজকের নেতাদের উচিত সেই ঐতিহাসিক শিক্ষা থেকে প্রেরণা নিয়ে দেশের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া। রাজনীতিতে শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে মানুষ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা বেশি জরুরি। আর জনগণকেও উচিত সচেতন হয়ে ন্যায়পরায়ণ নেতাদের সমর্থন করা।
সর্বশেষে, আপনি তরুণ প্রজন্মকে কী বার্তা দিতে চান?
আলী নাকি: তরুণেরা দেশের ভবিষ্যৎ। আমি তাদের বলব, ইতিহাস থেকে শিখুন, বিভাজনের চেয়ে ঐক্যের পথ বেছে নিন। নবী (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর আদর্শে চলুন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসুন।
ধন্যবাদ আলী নাকি সাহেব, আপনার মূল্যবান সময় ও জ্ঞান ভাগাভাগির জন্য। আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন।
আলী নাকি: আমীন, আপনাকেও ধন্যবাদ।
সাক্ষাত্কার গ্রহণ: মাজিদুল ইসলাম শাহ
আপনার কমেন্ট