হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী রেজা ইআরাফি, ইরানের হাওজা পরিচালনা পরিষদের প্রধান, সোমবার সন্ধ্যায় (৩রা মরদাদ মাস, পারস্য ক্যালেন্ডার অনুযায়ী) কোম প্রদেশের প্রথম স্তরের হাওজা মাদ্রাসাগুলোর পরিচালকদের এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এই সভাটি হাওজার পরিচালনা দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন: যেই বছরটিতে সর্বোচ্চ নেতা (রাহবার) নাহজুল বালাগা-র প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং একই সঙ্গে উৎপাদনে বিনিয়োগের স্লোগান ঘোষণা করেছেন—সে বছরেই আমরা নাহজুল বালাগা-র প্রতি মনোযোগ বাড়ানোর বিশেষ তাগিদ অনুভব করি। এ উপলক্ষে আমি নাহজুল বালাগা-র ২২২ নং খুতবা থেকে কয়েকটি লাইন পাঠ করছি এবং তারপর কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা করব।
তিনি আরও বলেন: সর্বোচ্চ নেতার নাহজুল বালাগা-র উপর যে গুরুত্বারোপ, তা বিবেচনায় রেখে আমাদের প্রত্যাশা হল—নতুন শিক্ষাবর্ষে হাওজা মাদ্রাসাগুলোতে এমন কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক যাতে শিক্ষার্থীরা এই মহান কিতাবের চিন্তা, ভাষা ও দার্শনিক ভাবনার সাথে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।
তিনি বলেন, শহীদ মুতাহহারী-র ‘নাহজুল বালাগা সফর’ বইটি এমন এক জীবন্ত অভিজ্ঞতা, যা মাদ্রাসাগুলোর পাঠ্যক্রমেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
নাহজুল বালাগার আলোচ্য খুতবার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: যে খুতবাটি বহুবার তোমরা পড়েছ এবং যা একাধিক দিক থেকে খুবই উজ্জ্বল ও আধ্যাত্মিক—তা হলো খুতবা ২২২। এ খুতবায় أَنْ تُرْفَعَ وَیُذْکَرَ فِیهَا اسْمُهُ... এই কুরআনের আয়াতের তাফসির করা হয়েছে।
তিনি বলেন: যদিও কুরআনের সব আয়াতই নূরানী, কিন্তু কিছু আয়াতের মর্যাদা আরও বেশি, এবং এই আয়াতটি অন্যতম। এই আয়াত আমাদের হাওজা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য পথপ্রদর্শক এবং নির্দেশ দেয় যে, আমাদের এমন লোক তৈরি করতে হবে যারা رجالٌ لَا تُلْهِیهِمْ تِجَارَةٌ অর্থাৎ, যাদেরকে দুনিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না।
তিনি বলেন: এই আয়াত যখন আমিরুল মোমিনীন আলী (আঃ)-এর কাছে পৌঁছায়, তখন তিনি এই আয়াতের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিক নিয়ে গভীর আলোচনা করেন। তিনি খুতবায় বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার যিকিরকে হৃদয়ের জন্য এক জ্যোতি ও পরিশোধক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন—যার মাধ্যমে শ্রবণ ফিরে আসে বধিরতার পর, দৃষ্টি ফিরে আসে অন্ধকারের পর, এবং মন হয় নম্র ও অনুগত অবাধ্যতার পর।"
তিনি বলেন, যিকির এক অন্তরজগতের বাস্তবতা, যা জ্ঞান ও কর্মে প্রকাশ পায়। যিকির হৃদয়কে নির্মল করে তোলে এবং এটিই আল্লাহর নূরের প্রতিফলনের আয়না।
যদি কারও অন্তরে যিকির না থাকে, সে কেবল বিভ্রান্তি ও ধোঁকার মধ্যে থাকে।
একটি পরিশুদ্ধ হৃদয়ের তিনটি গুণ হয়:
বধিরতার পর শ্রবণক্ষমতা,
অন্ধকারের পর দৃষ্টিশক্তি,
এবং অবাধ্যতার পর অনুগত্য।
তিনি আরও বলেন: আমিরুল মোমিনীন (আ.) বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা কখনোই পৃথিবীকে এমনভাবে ছেড়ে দেন না যে সেখানে আল্লাহর যিকিরকারীদের উপস্থিতি না থাকে। এমনকি নিঃস্তব্ধতা ও নিরবতার সময়েও, আল্লাহর এমন বান্দা থাকেন, যাঁরা নিজের চিন্তায় তাঁর সাথে মোনাজাত করেন এবং তাঁদের অন্তরের গভীরতায় আল্লাহ তাঁদের সাথে কথা বলেন।”
তিনি যোগ করেন: মোনাজাতের শুরু হল বান্দার আল্লাহর সাথে কথা বলা। কিন্তু এর চূড়ান্ত অবস্থান হলো—আল্লাহ নিজেই বান্দার সাথে কথা বলেন। যখন এই বাস্তবতা অর্জিত হয়, তখন সেই বান্দা আল্লাহর নামসমূহের আলোয় আলোকিত হয় এবং সে সমাজে কার্যকরী হয়ে ওঠে—একজন আলেমে রাব্বানী, যুগের ইমামসুলভ নেতা, এবং মানুষের জন্য হিদায়তের পথপ্রদর্শক।
আপনার কমেন্ট