শুক্রবার ২৯ আগস্ট ২০২৫ - ১৯:০৬
মেকানিজম ট্রিগার: অর্থনীতি ও সংস্কৃতি থেকে দৃষ্টি সরাতে শত্রুর মানসিক যুদ্ধ

ইরানের ধর্মীয় নগরী মাশহাদের জুমার খুতবায় আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আহমদ আলামুল হুদা বলেন, শত্রুরা তথাকথিত “মেকানিজম ট্রিগার” (Mechanism Trigger) নামক বিষয়টিকে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর উদ্দেশ্য হলো জনগণের মনোযোগ অর্থনীতি ও সংস্কৃতি থেকে সরিয়ে দেওয়া।

হাওজা নিউজ এজেন্সি:  আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আহমদ আলামুল হুদা জোর দিয়ে বলেন—ঐক্য, প্রতিরোধ এবং বাসিরাত (সচেতনতা)-ই ইরানি জাতির প্রধান শক্তি, যা শত্রুর যৌথ ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম।

শত্রুর প্রকৃত লক্ষ্য: মনোবল ভেঙে দেওয়া
আয়াতুল্লাহ আলামুল হুদা বলেন, বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে বিশ্বশক্তিগুলো নানামুখী শত্রুতা চালাচ্ছে। তারা কেবল সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সংস্কৃতি, নৈতিকতা, অর্থনীতি ও গণমাধ্যম—সবখানেই আক্রমণ চালাচ্ছে। শত্রুর আসল উদ্দেশ্য হলো জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসকে নষ্ট করা এবং ঈমানকে দুর্বল করা।

তরুণদের লক্ষ্য করে নৈতিক অবক্ষয় ছড়ানো
তিনি সতর্ক করে বলেন, শত্রুরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তরুণদের ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যদি তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে ইমাম হুসাইন (আ.) ও ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর প্রতি আবেগ ও বিশ্বাস দুর্বল হয়ে যায়, তবে তারা আর দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, শত্রুর পরিকল্পনা হলো তরুণদের নৈতিকভাবে ভেঙে ফেলা, তাদেরকে অশ্লীলতা ও অসচ্চরিত্রতার দিকে ঠেলে দেওয়া, যাতে পবিত্রতা ও শালীনতা নষ্ট হয়।

হিজাব: প্রতিরোধের প্রতীক
আয়াতুল্লাহ আলামুল হুদা বিশেষভাবে নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন— “যেসব নারী শত্রুর মোকাবিলায় নিজেদের প্রতিরোধযোদ্ধা মনে করেন, তাদের বুঝতে হবে যে হিজাব অবহেলা করা মানেই শত্রুর হাতে খেলা করা। যদি তারা সত্যিকার অর্থে প্রতিরোধের অংশ হতে চান, তবে হিজাব রক্ষা করা এবং এটিকে গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক।”

আস্থা ভাঙার ষড়যন্ত্র
তিনি উল্লেখ করেন, শত্রুরা জনগণের আস্থা ভাঙতে চাইছে। এজন্য তারা প্রচার চালাচ্ছে:
▪️রেডিও-টেলিভিশনের খবর শুনবে না,
▪️সরকারি রিপোর্ট বিশ্বাস করবে না,
▪️এমনকি বলছে, সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্যও শুনো না—সেগুলো নাকি পুনরাবৃত্তি।

এগুলোর সবই একই ষড়যন্ত্র, যার লক্ষ্য জনগণের মনে অবিশ্বাস ও নেতিবাচকতা সৃষ্টি করা।

অর্থনৈতিক ফ্রন্ট: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
তিনি বলেন, শত্রুরা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চায়। তথাকথিত “মেকানিজম ট্রিগার”-এর হুমকিও আসলে একটি মনস্তাত্ত্বিক খেলা মাত্র। তাদের উদ্দেশ্য হলো জনগণকে ভীত করা এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা দুর্বল করে দেওয়া।

ডলার-সোনা নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো
আয়াতুল্লাহ আলামুল হুদা সতর্ক করেন, মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে অনেকেই ডলার ও সোনা কেনার দিকে ঝুঁকে পড়ে, ফলে বাজারে অস্থিরতা বাড়ে। এটি শত্রুর কৌশল। তাই দায়িত্বশীলদের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এবং জনগণেরও সচেতন থাকা।

তিনি বলেন— “ডলার ও সোনার কোনো স্থায়ী মূল্য নেই। এক রাজনৈতিক পরিবর্তনেই দাম পড়ে যেতে পারে। আসল বিষয় হলো আমাদের অর্থনৈতিক ফ্রন্টকে শক্তিশালী রাখা।”

পরিসমাপ্তি: ঐক্যই বিজয়ের চাবিকাঠি
আয়াতুল্লাহ আলামুল হুদা বলেন, শত্রুরা সংস্কৃতি, নৈতিকতা, অর্থনীতি ও সামরিক—সব ময়দানে আমাদের বিরুদ্ধে নেমেছে। তাদের লক্ষ্য হলো তরুণদের ঈমান ধ্বংস করা, জনগণের আস্থা নষ্ট করা, অর্থনীতি ভেঙে দেওয়া এবং সমাজকে অস্থিতিশীল করা। কিন্তু গত ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে—ঈমান, নেতৃত্ব ও ঐক্যের মাধ্যমে ইরানি জনগণ শত্রুদের প্রতিটি ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছে।

আজও যদি বাসিরাত (সচেতনতা) ও  অটল প্রতিরোধের সাথে আমরা এগিয়ে যাই, তবে ইনশাআল্লাহ সব ফ্রন্টেই বিজয় আসবে এবং আমেরিকা ও জায়োনিস্ট শত্রুরা লাঞ্ছিত হয়ে পরাজিত হবে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha