তেহরানে হাওজা নিউজ এজেন্সি’র এক সংবাদদাতাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, বরং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ ও সামাজিক সেবার কেন্দ্র। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের সময় মসজিদগুলো নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা এবং শত্রুর মানসিক যুদ্ধ প্রতিহত করতে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মসজিদের এ ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। এ সহযোগিতা কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত হতে হবে। আজকের সময়ে মসজিদ উন্নয়নের এমন এক পর্ব চলছে, যা ৫০ ও ৬০-এর দশকের গৌরবময় ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ এই আলেম আক্ষেপ করে বলেন, প্রতি বছর বিশ্ব মসজিদ দিবসে মসজিদের কার্যক্রম উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয় না। অথচ মসজিদ হলো সামাজিক সহায়তার কেন্দ্র, সমস্যার সমাধানের ভিত্তি এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের অগ্রভাগ। তাই এগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে সমর্থন দিতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এক সময় এমন পরিকল্পনা করা হয়েছিল যে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মসজিদগুলো দরিদ্র মসজিদগুলোকে সহায়তা করবে। কিন্তু তা কখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে কিছু মসজিদে পর্যাপ্ত সম্পদ ও দান থাকলেও অন্য অনেক মসজিদ অর্থনৈতিক সংকট ও বাজেট ঘাটতির কারণে কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আলী পানাহ শেষে বলেন, মসজিদের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য। যদি এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই সামাজিক সমস্যা ও সাংস্কৃতিক সংকট কমে আসবে। বাস্তবে, মসজিদের উন্নয়নে যত বেশি ব্যয় করা হবে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক খাতে অন্য ব্যয়ের চাপ ততটাই হ্রাস পাবে।
আপনার কমেন্ট