রবিবার ৪ জানুয়ারী ২০২৬ - ১২:২৩
মার্কিন আক্রমণ ও মাদুরো আটকের পিছনে একটি নারী অপরাধী'র সন্ধানে 

গত রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলায় বড় ও প্রশস্ত সামরিক অভিযান চালিয়েছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে, এমনটাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন। 

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, 

রিপোর্ট: মুস্তাক আহমদ 

গত রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলায় বড় ও প্রশস্ত সামরিক অভিযান চালিয়েছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে, এমনটাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন। 
এই অভিযান শুধুমাত্র মাদকচক্র-অপরাধের দায়ে, তাই বেশকিছু  সংবাদে বলছেন — মাদক অপরাধ৷ 
কিন্তু এর পেছনে বহু রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক কারণ জড়িত৷ 

আসলে ভেনেজুয়ালার অভ্যন্তরে একটি নারী কেন দায়ী নয়?? এই প্রশ্ন তোলা উচিত৷ 
তিনি হলেন, মারিয়া কোরিনা মাচাদো:

 কে তিনি?
— মারিয়া কোরিনা মাচাদো একজন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী ও লোকতান্ত্রিক কার্যকারি। তাকে জায়োনীষ্ট লবি ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়েছে ৷ দেশের সরকার বিরোধী আন্দোলন প্রতিষ্ঠার জন্য।  পুরস্কারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে তিনি “অন্ধকারের মধ্যে গণতন্ত্রের আলো জ্বালানো একজন নারী”। আসলে এসব জায়োনিষ্ট শয়তানী৷ 

মারিয়া মাচাদো বছরের পর বছর ধরে প্রেসিডেন্ট মাদুরো সরকারের কঠোর বিরোধিতা করেছেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বাধা পেয়েছিলেন। 

 মার্কিন আক্রমণে মারিয়াকে দায়ী হিসাবে কেন ধরা হলো??
 মারিয়া তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলন-চিন্তাবিদ। তার আন্দোলনটি ছিল সরকার বিরোধী ও জায়োনিষ্টদের বাস্তবতা প্রতিষ্টার তীব্র সমর্থন৷ আর এজন্যই জায়োনিষ্ট লবি মার্কিন প্রশাসনের একাংশ মাচাদোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং তাকে সমর্থন করেছে, একে বলা হয় 'গাদ্দার মহিলা' দাজ্জালকে সাহায্য করা মানবিক অপরাধ৷ 

তাকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লংঘন করেছে জায়োনীষ্টরা৷ এই মূল্যায়নে মারিয়া পদক্ষেপ আমাদের পছন্দ নয়।

এদিকে আজকের মার্কিন বাহিনী যে অজুহাতে আক্রমণ করেছে, তা  “মাদক অপরাধ”–এর দায়ে৷ 
কিন্তু এর পেছনে রয়েছে—
১- ভেনেজুেলার তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ
২- মাদক, অর্থ Laundering ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকানা
৩- ভেনেজুেলার রাজনৈতিক সংকটকে দেখিয়ে নতুন পুতুল সফকারকে ক্ষমতা'কে প্রতিষ্টা করা৷
৪- বিপুল আন্তর্জাতিক সমালোচনা সত্ত্বেও বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বাড়াতে ইচ্ছা

বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এই পদক্ষেপ মার্কিন রিয়ালিজম ও মোনরো নীতির পুনরুজ্জীবন হিসেবে দেখা হচ্ছে — যেখানে হেমিস্ফিয়ার (পশ্চিম গোলার্ধ)-র রাষ্ট্রগুলোর রাজনীতি-তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। 

আমার প্রশ্ন, 
 কোন ধরনের শান্তি'তে  “নোবেল” কমিটি বিশ্বাসী ?? 
— যে মহিলা দেশের ভাগ্যকে দাজ্জালের হাতে তুলে দেয়, সেই দাজ্জাল কি বিগত ৫০ বছরে পুরো বিশ্বেকে যুদ্ধ আর সন্ত্রাস উপহার দেয় নি?? 

 “মার্কিন প্রভাবের একটি হাতিয়ার হিসেবে নারী হয়ে যে কাজ করেছে, তাকে শান্তি নোবেল না দিয়ে কি পারা যায়??  হিসেব করে দেখলে মারিয়া  মাচাদোর নোবেল পুরস্কারের আসল ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক অমানবিক ও অগণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha