হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকা, বাংলাদেশ – মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান নির্যাতন ও নিপীড়নের মর্মান্তিক খবর বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের ফলে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে এখন নেই কোনো স্থায়ী আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পোশাকের ব্যবস্থা। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মানবিক সংকটে পড়া এই জনগোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।
এই ক্রান্তিলগ্নে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিয়া আলেম ও বাংলাদেশ শিয়া উলামা কাউন্সিলের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা সৈয়দ ইব্রাহিম খালিল রিজভী। তার এই মানবিক মিশনে সমর্থন ও অংশীদারিত্ব প্রদান করছেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতার বাংলাদেশের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা সৈয়দ আলীজাদে মুসাভি এবং জামিয়াতুল মুস্তাফা বাংলাদেশের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী।
মাওলানা সৈয়দ ইব্রাহিম খালিল রিজভী শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা সরজমিনে দেখেছেন এবং তাদের জন্য জরুরি খাদ্য, পানীয়, চিকিৎসা সামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণের কার্যক্রম তদারকি করছেন। তার নেতৃত্বে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংগঠনগুলোর সাথে সমন্বয় করে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি টেকসই সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
একইসাথে, ইরানের প্রতিনিধি মাওলানা সৈয়দ আলীজাদে মুসাভি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ এবং আরও বৈশ্বিক সাহায্য ও হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও জোরালোভাবে উপস্থাপন করছেন।
ধর্মীয় নেতাদের এই যৌথ উদ্যোগ কেবল মানবিক সাহায্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বিশ্ববাসীকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং গণসংহতি প্রদর্শনেরও একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা অর্জন করেছে।
বর্তমানে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের কোনো শেষ নেই। বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগ, শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্যহানি এবং আশ্রয়ের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন চলছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন এনজিওর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সংকটের মাত্রা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
এই অবস্থায় মাওলানা রিজভী ও মাওলানা মুসাভির মতো ধর্মীয় ও মানবিক নেতাদের এগিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে তাদের আহ্বান, রোহিঙ্গা মুসলমানদের এই দুঃসময়েই সবচেয়ে বেশি সহানুভূতি ও সাহায্যের প্রয়োজন। এই সংকটের বিস্তার ও গভীরতা কোনো একক দেশ বা সম্প্রদায়ের সীমায় আবদ্ধ নয়; এটি সমগ্র মানবতার নৈতিক চেতনা ও বিবেকের সামনে উপস্থিত এক কঠিন পরীক্ষার নাম।
আপনার কমেন্ট