সোমবার ৫ জানুয়ারী ২০২৬ - ১৩:৪৬
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন ও মানবিক সংকট

নিরব ঘনাঘটার মতো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বেদনার ইতিহাস। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত নিপীড়ন, সহিংসতা ও নাগরিকত্বহীনতার নীতির ফলাফল আজ এক মর্মান্তিক মানবিক সংকট।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠী এখন চরম মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছে। তাদের অনেকেরই নেই স্থায়ী আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাদ্য কিংবা প্রয়োজনীয় পোশাক। মৌলিক চাহিদা অপূরণীয় হওয়া সত্ত্বেও তারা সংগ্রাম করে জীবন-যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছে।

মানবিক সাহায্যের হাত প্রসারিত:

এই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিয়া আলেম ও বাংলাদেশ শিয়া উলামা কাউন্সিলের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা সৈয়দ ইব্রাহিম খালিল রিজভী সাহেবের নেতৃত্বে এবং আঞ্জুমানে পঞ্জতানির সমন্বিত উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন মানবসেবী সংগঠনগুলি। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বিশেষ কার্যক্রম: শিশুদের খৎনা ও বস্ত্র বিতরণ:

মাওলানা সৈয়দ ইব্রাহিম খালিল রিজভী সাহেবের তত্ত্বাবধান ও আয়োজনে রোহিঙ্গা মুসলিম শিশুদের জন্য একটি বিশেষ ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যগত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ইসলামি রীতি অনুযায়ী শিশুদের খৎনা (সুন্নত) করার আয়োজন করা হয়, যা তাদের ধর্মীয় পরিচয় ও প্রথা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এর পাশাপাশি, উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র শিশুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পোশাক ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগটি শিবিরে বসবাসরত শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে এবং পরিবারগুলোর প্রতি এক শক্তিশালী মানবিক বার্তা বহন করে।

সামগ্রিক প্রচেষ্টা ও আহ্বান:

এই ত্রাণ কার্যক্রম কেবল বস্তুগত সাহায্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি নিপীড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং তাদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিকে আরও জোরদার করে। সংগঠনগুলোর এই মহৎ উদ্যোগ শরণার্থী শিবিরে আশার আলো জাগিয়েছে এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে অনুপ্রাণিত করছে।

রোহিঙ্গা সংকট একটি গভীর মানবিক ট্র্যাজেডি, যার সমাধানের জন্য প্রয়োজন বৈশ্বিক ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ। মাওলানা রিজভী সাহেব ও আঞ্জুমানে পঞ্জতানির মতো সংগঠনগুলোর এ ধরনের কর্মসূচি এই বার্তাই প্রচার করে যে, মানবতা ও সহমর্মিতা যেকোনো সংকটে সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশ্ববাসীর কাছে তাদের আহ্বান, এই সংকটে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha