সোমবার ৫ জানুয়ারী ২০২৬ - ১৪:১২
উলুবেড়িয়া বইমেলার তৃতীয় দিন: বইয়ের নীরব আর্তনাদ

উলুবেড়িয়া পৌরসভা প্রাঙ্গণে বসেছে ঐতিহ্যবাহী উলুবেড়িয়া বইমেলা। রঙিন আলো, ভিড়ের কোলাহল আর নানা স্টলের সাজে মেলা প্রাণবন্ত হলেও তৃতীয় দিনের বাস্তবতা যেন এক নীরব প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে আমাদের বিবেকের দিকে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, 

প্রতিবেদন: মুস্তাক আহমদ 

প্রতি বছরের মতো এবছরও উলুবেড়িয়া পৌরসভা প্রাঙ্গণে বসেছে ঐতিহ্যবাহী উলুবেড়িয়া বইমেলা। রঙিন আলো, ভিড়ের কোলাহল আর নানা স্টলের সাজে মেলা প্রাণবন্ত হলেও তৃতীয় দিনের বাস্তবতা যেন এক নীরব প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে আমাদের বিবেকের দিকে।

আমরাও অংশগ্রহণ করেছি ‘আহলে বাইত বুক সেন্টার’ নামের একটি স্টল নিয়ে। সকাল থেকে সন্ধ্যা—হিন্দু-মুসলিম, নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ—সবারই আনাগোনা রয়েছে। অনেকেই বই হাতে তুলে নিচ্ছেন, কয়েক পৃষ্ঠা উল্টে দেখছেন, আগ্রহভরে শুনছেন বইয়ের কথা। কিন্তু সেই আগ্রহ বেশিরভাগ সময়েই রয়ে যাচ্ছে চোখের পাতায়, হৃদয়ের গভীরে পৌঁছচ্ছে না। 

ছবি দেখুন
আজকের মানুষ বইয়ের কাছে আসে, কিন্তু বইকে আপন করে নেয় না। এর কারন মোবাইল ফোনের আলোর নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে জ্ঞানের প্রদীপ। স্ক্রল করতে করতে মানুষ ভুলে যাচ্ছে পড়ার আনন্দ, ভাবার অভ্যাস, ভুলেই গেছেন বইয়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা সেই নীরব বন্ধুত্ব। বই যেন আজ মেলায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী পথিক—যার দিকে সবাই তাকায়, কিন্তু হাতে  তুলে ঘরে আর নিয়ে যায় না।

কিন্তু মজার বিষয় খাবারের স্টগুলি'তে উপচে পড়েছে ভিড়৷ তেলে ভাজা, চিনির রসে তৈরী কৃত্তিম রঙ ক্যামেকেলে তৈরী খাবার পেটে ভরার জন্য লাইন পড়েছে- তা দেখার মত৷ 

তবুও এই বইমেলাই আমাদের শেষ আশ্রয়। এখানেই এখনও বই কথা বলে, মানুষ শোনে। এখানেই কিছু চোখে আলো জ্বলে ওঠে, কিছু মনে প্রশ্ন জন্মায়। হয়তো আজ নয়, কিন্তু কোনো একদিন এই মানুষগুলোর হাতেই আবার ফিরবে বই। সেই প্রত্যাশা নিয়েই উলুবেড়িয়া বইমেলার তৃতীয় দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বই এখনও বেঁচে আছে, শুধু তাকে ভালোবাসার মানুষের অপেক্ষা।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha