মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারী ২০২৬ - ২৩:৫১
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর প্রতি শত্রুতাপূর্ণ দৃষ্টি মহাযুদ্ধের সমতুল্য

ইরাকের সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠন আন্ নুজবা আন্দোলনের রাজনৈতিক কাউন্সিলের সদস্য শেখ ফিরাস আল-ইয়াসির ইসলামি বিপ্লবের রাহবারের প্রতি 'শত্রুতাপূর্ণ দৃষ্টি'কে এক মহাযুদ্ধের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ইরাকের জনগণ ইরানি জাতির পাশাপাশি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: শেখ ফিরাস আল-ইয়াসির ইসলামি বিপ্লবের রাহবারের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকিমূলক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মহান রাহবারের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ দৃষ্টিপাতই একটি বৃহৎ যুদ্ধের সূচনা।

তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকিমূলক বক্তব্যকে 'অহংকারপূর্ণ ভাষণ' আখ্যা দিয়ে বলেন, শিয়া মতাদর্শীরা কোনো ধরনের আগ্রাসন মেনে নেবে না। তিনি যোগ করেন, আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বিশ্বের শিয়া মুসলমানদের একজন অত্যন্ত মর্যাদাবান নেতা এবং তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণের চিন্তাও অঞ্চল ও বিশ্বের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

আল-ইয়াসির মতে, ইরানের রাহবারের প্রতি ট্রাম্পের রোষ গত কয়েক দশকে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন পরিকল্পনায় ব্যর্থতারই ফল। তিনি ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতাকেও 'বারো দিনের যুদ্ধ'-এর মতো একটি ব্যর্থতা বলে বর্ণনা করেন।

তিনি আরও বলেন, অঞ্চলে অনুরূপ অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ওয়াশিংটন ইরাকে কিছু গোষ্ঠীর মাধ্যমে এবং ইরানে 'রঙিন বিপ্লব'-এর পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু তাদের গণনা ভুল ছিল, কারণ ইরানে সামরিক অভ্যুত্থান বা 'রঙিন বিপ্লব' সংঘটিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

শেখ ফিরাস আল-ইয়াসির দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ইরাকি শিয়ারা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে একা ছাড়বে না। নুজবা আন্দোলন ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল কার্যক্রম সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি জানান।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আইনুল-আসাদ বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ছিল কেবল একটি প্রহসন। বাস্তবে তারা ইরাকের উত্তরাঞ্চলে নতুন ঘাঁটি স্থাপন করেছে। সিরিয়ার সঙ্গে কুর্দিস্তান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চুক্তি এবং আল-জোলানী বাহিনীর পূর্ব ইউফ্রেটিস অঞ্চলে অনুপ্রবেশ উদ্বেগের কারণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি শেষে আগামী দিনগুলোতে পালানো চরমপন্থী বন্দীদের মাধ্যমে ইরাকে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির মার্কিন পরিকল্পনা সম্পর্কেও সতর্কতা জারি করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি পলিটিকো ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জন্য ‘নতুন নেতৃত্ব-এর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখের মাধ্যমে দেশটির সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পরোক্ষ হুমকি দেন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha