হাওজা নিউজ এজেন্সি: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ও ব্যাপকভাবে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি মুমিনদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইমাম যামান (আ.ফা)–এর স্মরণ জীবন্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি সাইয়্যিদ ইবন তাউসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ইমাম মাহদী (আ.ফা.)–এর প্রতি সম্বোধিত ‘জিয়ারতে জুমা’, যা মাফাতিহুল জিনান–এ সংকলিত রয়েছে, সেখানে মুমিনদের বিশেষভাবে জুমার দিনে ইমামকে স্মরণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জিয়ারতে জুমায় উল্লেখ আছে—এ দিনটি ইমাম আসরের (ইমাম মাহদী) দিন; মানুষ যেন নিজেকে তাঁর মেহমান মনে করে।
এই হাওজায়ে ইলমিয়ার শিক্ষক বলেন, ইমাম মাহদী (আ.ফা.)–এর স্মরণ মানুষের জীবনে দৃশ্যমান ও প্রবহমান হওয়া উচিত। অন্তত মাসে একবার হলেও ঘরোয়া পরিবেশে—দাওয়াত বা পারিবারিক সমাবেশে—ইমামের নামে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠকের আয়োজন করা যেতে পারে। দীর্ঘ কর্মসূচির প্রয়োজন নেই; একটি হাদিস, একটি আয়াত নিয়ে ভাবনা, কিংবা তাঁর শানে একটি কবিতা পাঠই যথেষ্ট।
তিনি আরও বলেন, ইমাম আসর (আ.ফা.)–এর সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখা জরুরি। আল্লাহর রহমতের ধারা সর্বদা অব্যাহত—মানুষকে নিজেকে সেই অনুগ্রহের মুখোমুখি করতে হবে। ইমামের সালামাতির নিয়তে সদকা দেওয়া, সৎকর্ম সম্পাদন বা দোয়া পাঠ—সবই কল্যাণকর। তবে উত্তম কাজগুলোর একটি হলো—সমাবেশ বা অনুষ্ঠানের শুরু কিংবা সমাপ্তি ইমাম মাহদী (আ.ফা.)–এর স্মরণে করা।
হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি বলেন, সভা-সমাবেশ বা দাওয়াত শেষে ‘আল্লাহুম্মা কুন লিওয়ালিয়্যিকা…’ দোয়া পাঠ করা উচিত।খতিব ও আয়োজকদেরও বক্তব্যের শুরু বা শেষে দোয়া সংযুক্ত করার প্রতি যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। যে বৈঠকের সমাপ্তি দোয়ার মাধ্যমে হয়, তা আল্লাহ ও তাঁর ওলির স্মরণেই পরিসমাপ্ত হয়।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইমাম মাহদী (আ.ফা) জীবিত, উপস্থিত ও অবগত ইমাম—যদিও তিনি দৃষ্টির আড়ালে আছেন। মানুষের দুঃখে তিনি দুঃখিত হন এবং আনন্দে আনন্দিত হন। তাই তাঁর স্মরণ মানুষের জীবনে জাগ্রত রাখা অপরিহার্য।
শেষে তিনি আগ্রহীদের—ইমাম আসর (আ.ফা.)–এর সালামাত ও দ্রুত আবির্ভাবের নিয়তে ‘জাতীয় ঘরোয়া মাহফিল’ উদ্যোগে অংশ নিতে ১৪ লিখে ৩০০০১৪২১ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, একটি মাহদাভী ঘর মানেই হুসাইনি ঘর, ফাতেমি ঘরও বটে।
আপনার কমেন্ট