মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০৯:১৪
হাওজার বইমেলা: ধর্মীয় গবেষণায় 'সমস্যাকেন্দ্রিক' পদ্ধতির ওপর জোর

ইরানের ইসলামী বিপ্লব শিয়া চিন্তাধারায় এক মৌলিক পরিবর্তন এনেছে। ব্যক্তিজীবনের গণ্ডি পেরিয়ে এখন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামী শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি দফতরের প্রধান এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হাওজার (ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) গবেষণাকর্মে 'পুনরুজ্জীবনবাদ' থেকে সরে এসে 'সমস্যা সমাধান কেন্দ্রিক' পদ্ধতি অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছেন।

সম্প্রতি ২৭তম হাওজা বর্ষসেরা গ্রন্থ সম্মেলনে পুরস্কারপ্রাপ্ত হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ড. সাইয়্যেদ মাহদী আলীজাদেহ মুসাভী হাওজা নিউজ এজেন্সি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মত প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “ইসলামী বিপ্লবের আগে ধর্মীয় চিন্তা মূলত ব্যক্তির ইহকাল ও পরকাল নিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বিপ্লবের পর যখন শিয়া মতবাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সামনে এল, তখন হাওজাকে সম্পূর্ণ নতুন তাত্ত্বিক শূন্যতার মুখোমুখি হতে হয়। শিয়া শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা অনাবিষ্কৃত ক্ষেত্রগুলোতে প্রবেশ করতে বাধ্য হন।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৪৭ বছরে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং বহু চমৎকার গ্রন্থ রচিত হয়েছে যা সমাজের বাস্তব চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েছে।

বর্তমান সমাজের দুটি মৌলিক সমস্যা চিহ্নিত করে ড. আলীজাদেহ মুসাভী বলেন, “আমাদের সমাজ আজ তাত্ত্বিক দারিদ্র্য ও দক্ষ জনবলের অভাব—এই দুই সমস্যায় জর্জরিত। অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতির মতো জটিল ক্ষেত্রগুলোর জন্য প্রয়োজন আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক নতুন ব্যাখ্যা। এই কাজ কেবল তারাই করতে পারেন, যারা একদিকে ধর্মীয় শিক্ষায় গভীর জ্ঞান রাখেন, অন্যদিকে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও সচেতন।”

সম্মেলনে গ্রন্থ মূল্যায়নের মানদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধু ভাষাশৈলী, তথ্যসূত্র বা গ্রন্থের ধরন দেখলেই হবে না। মূল প্রশ্ন হলো—একটি গ্রন্থ কীভাবে সমাজের কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধান দিচ্ছে। যদি একটি গ্রন্থ সমাজের পথ থেকে একটি বাধাও দূর করতে পারে, তবে তা-ই প্রকৃত অর্থে মূল্যবান। অন্যথায় আমাদের গবেষণা বিপথগামী হবে।”

সমসাময়িক ইসলামী গবেষণার একটি প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইরানের বর্ষসেরা গ্রন্থের তালিকা দেখলে মনে হয়, পাণ্ডুলিপি পুনরুজ্জীবন ও প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। অথচ ইসলামী মানববিদ্যার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে—এমন গ্রন্থের সংখ্যা খুবই কম। এটি একটি বড় সমস্যা। আমাদের গবেষণার মূল স্রোতকে সমস্যা সমাধানের দিকে পরিচালিত করতে হবে।”

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha