বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৫:৫০
কোরআনের অবতরণ: রমজানের মহিমা

পবিত্র রমজান মাসের শ্রেষ্ঠত্বের মূল উৎস হলো মানবজাতির হেদায়েতের গ্রন্থ কুরআনুল কারিম-এর অবতরণ। এই বরকতময় মাসেই লাইলাতুল কদরের মহিমান্বিত রাতে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর নাজিল হয়েছিল আল্লাহর বাণী, যা বিশ্বমানবতার জন্য ন্যায়, সত্য ও মুক্তির দিকনির্দেশনা হিসেবে চিরন্তন আলোর উৎস হয়ে আছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা জয়নুল আবেদীন নাজাফী 'কোরআনের অবতরণ: রমজানের মহিমা' বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, পবিত্র রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। এই মাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মর্যাদা হলো-মানবজাতির হেদায়েতের গ্রন্থ পবিত্র আল-কোরআন এই মাসেই অবতীর্ণ হয়েছে। 

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিম-এ ঘোষণা করেন, “রমজান মাস—যে মাসে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, মানবজাতির জন্য পথনির্দেশ হিসেবে।”

মাওলানা জয়নুল আবেদীন বলেন, ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, কোরআন প্রথম অবতীর্ণ হয় পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতে। এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর প্রথম ওহি নাজিল হয় মক্কার নূর পর্বতের হেরা গুহায়। এই অবতরণ মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন আলোর সূচনা করে।

তিনি আরো বলেন, রমজান মাস কেবল সিয়াম সাধনার সময়ই নয়; এটি কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করারও উপযুক্ত সময়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা এ মাসে কোরআন তিলাওয়াত, খতম ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করেন। বিশেষ করে লাইলাতুল কদরের সন্ধানে ইবাদতে কাটে রমজানের শেষ দশক।

মাওলানা জয়নুল আবেদীন বলেন, কোরআনের অবতরণ মানবজাতির জন্য একটি চিরন্তন দিকনির্দেশনা। এর শিক্ষা ন্যায়, সাম্য ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রমজান সেই বার্তাকে নতুন করে উপলব্ধি ও অনুশীলনের সুযোগ এনে দেয়।

পরিশেষে তিনি বলেন, রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করা নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং কোরআনের শিক্ষাকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা। তাই কোরআনের অবতরণের এই মাস মুসলিমদের হৃদয়ে বিশেষ মর্যাদা ও ভালোবাসার আসন জুড়ে আছে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha