বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১১:৩৬
শিক্ষার্থীদের নৈতিক গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা কখনও কখনও পিতা-মাতার চেয়েও বেশি

ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমের ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষক পরিষদের সভাপতি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ হাশেম হুসাইনি বুশেহরি বলেছেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর নৈতিক ও ধর্মীয় বিকাশে যে প্রভাব রাখেন, অনেক সময় তা পিতা-মাতার প্রভাবকেও অতিক্রম করে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: কোমের “তারবিয়াত হোসাইনি” মাদরাসার পরিচালক হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ আলীরেজা তারাশিয়ান একদল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীকে নিয়ে শিক্ষক পরিষদে উপস্থিত হয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ হাশেম হুসাইনি বুশেহরি প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলদের প্রশংসা করে বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও টানা ১৪ বছর ধরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা তাদের ধৈর্য, আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব কেবল অবকাঠামো বা অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে পরিচালকদের নিষ্ঠা, লক্ষ্যনিষ্ঠা ও সঠিক দিকনির্দেশনার ওপর।

শিক্ষকদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না; বরং শিক্ষার্থীর চরিত্র, চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অনেক সময় একজন শিক্ষকের প্রভাব একজন কিশোরের জীবনদৃষ্টিকে বদলে দিতে পারে। এ কারণে শিক্ষকতা কেবল পেশা নয়, এটি একটি আমানত ও দায়িত্ব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন প্রদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে আসছে। এমনকি কিছু পরিবার সন্তানকে ভর্তি করানোর জন্য কোমে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে অনেক পরিবার তাদের সন্তানের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সব সময় মনে রাখতে হবে— আপনারা আল্লাহর সামনে অবস্থান করছেন। আপনাদের কথা, আচরণ ও কর্মে যেন আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও জবাবদিহিতার চেতনা প্রতিফলিত হয়। আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতগুলো উপলব্ধি করা, সেগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকা একজন সচেতন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কখনোই এমন আচরণ করবে না, যাতে বিরোধীরা সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।

শিক্ষার্থীদের নৈতিক গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা কখনও কখনও পিতা-মাতার চেয়েও বেশি

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ আমাদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করেন, তা জানা এবং করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বোঝা প্রত্যেকের দায়িত্ব। কেবল জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; সেই জ্ঞানকে অন্তরে ধারণ করে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করাই প্রকৃত সাফল্য।

শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সচেতনতা ও বিচক্ষণতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। কোন বিষয় মানুষকে ধর্মের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে—তা চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে দূরে থাকার মানসিক প্রস্তুতি গড়ে তুলতে হবে।

উল্লেখ্য, বৈঠকের শুরুতে মাদরাসার পরিচালক সাইয়্যেদ আলীরেজা তারাশিয়ান প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha