বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল ২০২৬ - ১১:৫৬
পিতা-মাতার কল্যাণে শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর প্রতিদিনের বিশেষ দুই রাকাত নামাজ

ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.)-এর ব্যক্তিজীবনের এক অনন্য অধ্যায়; যেখানে উঠে এসেছে তাঁর বাবা-মা জীবিত থাকাকালীন তাঁদের প্রতি বিশেষ উপহার হিসেবে প্রতিদিন দুই রাকাত নামাজ আদায়ের এক হৃদয়স্পর্শী বিবরণ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের প্রজাতন্ত্র ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ীর সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই সাক্ষাৎকারটি ১৪০০ হিজরি শামসি সালে গ্রহণ করা হয়েছিল, যা নেতার শাহাদাতের পর জনসমক্ষে আনা হয়। সেখানে তিনি তাঁর পিতার ইবাদত ও পিতা-মাতার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের স্মৃতিচারণ করেছেন।

আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ী বলেন, “আমরা যখন কিশোর ছিলাম, বছরের শুরুর দিকের মাসগুলোতে ফজরের আজান বেশ ভোরে হয়ে যেত। ‘আগা’ (আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী) যেহেতু রাতের নফল ইবাদত বা তাহাজ্জুদে অত্যন্ত পাবন্দ ছিলেন, তাই সে সময় তাঁর ফজরের নামাজ দেখার খুব একটা সুযোগ আমাদের হতো না। তবে শীতের মৌসুমে, যখন তেহরানে ফজরের আজান সকাল ছয়টার ঠিক কিছুটা আগে হতো, তখন আমরা তাঁর নামাজ প্রত্যক্ষ করতাম। তিনি সকাল ছয়টার দিকে আমাদের ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন। আমরা প্রথমে নামাজ পড়ে নিতাম এবং এরপর সকালের নাস্তা সেরে স্কুলে যেতাম।

সেই সময়গুলোতে আমি প্রায়ই দেখতাম যে, ফজরের মূল নামাজের পর তিনি আলাদা করে আরও দুই রাকাত নামাজ আদায় করছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “একবার আমি কৌতূহলী হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম— এই দুই রাকাত নামাজ কিসের জন্য? তিনি উত্তরে বললেন, ‘এটি আমার পক্ষ থেকে আমার বাবা এবং মায়ের জন্য প্রতিদিনের বিশেষ উপহার।’ তিনি এই নামাজটি তখন পড়তেন যখন তাঁর বাবা-মা উভয়ই জীবিত ছিলেন। আমার প্রবল ধারণা, তিনি এখনও এই আমলটি চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে হয়তো এর সময় পরিবর্তন করে ফজরের আজানের আগে নিয়ে গেছেন। কারণ সম্প্রতি ফজরের নামাজের পর যখন তাঁর সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ হয়েছিল, তখন তাঁকে সেই নামাজটি পড়তে দেখিনি; সম্ভবত তিনি তা রাতের শেষ ভাগে বা তাহাজ্জুদের সাথে মিলিয়ে নিয়েছেন।”

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, “আমার অনুমান হলো, এই মহান ব্যক্তিত্বদের ইন্তেকালের পর তিনি হয়তো তাঁদের জন্য ইবাদত-বন্দেগির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। কারণ, তিনি বংশগতভাবে কিছুটা দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের জন্যও নিয়মিত বিশেষ কিছু আমল পালনে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান—তা সে মৃত ব্যক্তিদের জন্য হোক কিংবা জীবিতদের জন্য। এমনকি অনেক সময় দেখা যায়, তিনি এমন সব ব্যক্তিদের জন্যও আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করেন, যাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে হয়তো তাঁর সুসম্পর্ক বা হৃদ্যতা ছিল না।”

সূত্র: সর্বোচ্চ নেতার তথ্যকেন্দ্র (Khamenei.ir)

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha