বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ - ০৯:৫৪
তালিবে ইলমের দাওয়াত ও তাবলিগে অংশ না নেওয়া কর্তব্যে অবহেলার শামিল

আয়াতুল্লাহ শাব জিন্দেদার:

তালিবে ইলমের দাওয়াত ও তাবলিগে অংশ না নেওয়া কর্তব্যে অবহেলার শামিল

ধর্মীয় প্রচারকদের আমন্ত্রণ জানানোর সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে হবে

ইরানের হাওজায়ে ইলমিয়ার সর্বোচ্চ পরিষদের সচিব ধর্মীয় প্রচার ও তাবলিগের গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার তুলে ধরে বলেছেন, হাওজায়ে ইলমিয়ার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মানসিকতা আরও জোরদার করতে হবে। এমন পরিবেশ গড়ে উঠতে হবে, যাতে কোনো তালিবে ইলম তাবলিগে অংশগ্রহণ না করলে তা তার জন্য লজ্জার বিষয় এবং কর্তব্যে অবহেলার শামিল বলে বিবেচিত হয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ মুহাম্মদ মাহদী শাব জিন্দেদার হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন রাফিয়ি, হাওজার প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-প্রধান এবং ‘বালাগে মুবিন’ সমন্বিত যুদ্ধ মোকাবিলা কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, হাওজার শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান কাঠামো কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে, যেসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী তাবলিগের জন্য উপযুক্ত, তারা রমজান ও মহররম মাসে পাঠদান বা অধ্যয়নের কারণে কোমে অবস্থান করেন এবং তাবলিগে অংশ নিতে পারেন না।

তিনি অতীতের একটি ইতিবাচক সামাজিক প্রথার কথা স্মরণ করে বলেন, একসময় সাধারণ মানুষ নিজেরাই ধর্মীয় প্রচারকদের আমন্ত্রণ জানাতেন। এই সংস্কৃতিকে পুনরায় সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

আয়াতুল্লাহ শাব জিন্দেদার আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ ধর্মীয় আলেমদের কাছে শুধু জ্ঞান নয়, সেই জ্ঞানের বাস্তব প্রতিফলনও প্রত্যাশা করে। তাই ধর্মীয় প্রচারকে কখনোই পেশা বা আয়ের উৎস হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রচারকদের বক্তব্য ও বিষয়বস্তু সমাজের প্রয়োজন ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পর্যাপ্ত জ্ঞানসমৃদ্ধ হওয়া আবশ্যক।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি অতীতের একটি সুন্দর ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, আগে কোনো অঞ্চলের তালিবে ইলমরা কোমে অবস্থানরত সেই অঞ্চলের বিশিষ্ট আলেমদের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর বক্তৃতা ও ওয়াজ করতেন। এর মাধ্যমে তারা জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ লাভ করতেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha