সোমবার ২০ জুলাই ২০২৬ - ১৩:০৯
শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আধিপত্যবাদী অবরোধ ভাঙার অগ্রদূত

বুশেহর প্রদেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ও জুমার ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন গোলামআলী সাফায়ি বুশেহরি বলেছেন, শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে জাতীয় শক্তি, স্বাধীনতা এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখতেন। তাঁর নেতৃত্বে ‘জ্ঞান উৎপাদন আন্দোলন’, গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পার্ক এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশের মাধ্যমে ইরান বৈজ্ঞানিক স্বনির্ভরতার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আধিপত্যবাদী অবরোধ ভাঙার অগ্রদূত।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বুশেহর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ নেতার স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বিশ্বাস করতেন, জ্ঞান কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা রাষ্ট্রের একচেটিয়া সম্পদ নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির ঐশ্বর্য। তাই তিনি শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক স্বাধীনতা অর্জন এবং দেশীয় জ্ঞান উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

তিনি জানান, পারমাণবিক প্রযুক্তি, ন্যানোপ্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, প্রতিরক্ষা শিল্প, ওষুধশিল্প এবং চিকিৎসা প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের অগ্রগতি শহীদ নেতার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ফল। তাঁর মতে, ইরানের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা রোধ করতে প্রতিপক্ষ নানা সময়ে নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ, এমনকি বিজ্ঞানীদের ওপর হামলার মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। কিন্তু এসব বাধা ইরানের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাফায়ি বুশেহরি বলেন, শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী জাতির মধ্যে ‘আমরা পারি’—এই আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও তরুণ গবেষকদের প্রতি তাঁর ধারাবাহিক উৎসাহ দেশে নতুন বৈজ্ঞানিক জাগরণের ভিত্তি তৈরি করে এবং ইরানকে জ্ঞান উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার নতুন পর্যায়ে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, শহীদ নেতার জীবন ছিল অত্যন্ত সরল ও জনমুখী। তিনি দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দিতেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতেন না এবং সর্বদা জনগণ, ইসলাম ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতেন। তাঁর এই আদর্শিক ও নৈতিক নেতৃত্বই তাঁকে ইরানসহ বিশ্বের বহু স্বাধীনতাকামী মানুষের কাছে সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

বক্তব্যের শেষাংশে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাফায়ি বুশেহরি বলেন, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ ইমাম হাজ্ব সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ীও জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আত্মনির্ভরতা এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির এই কৌশলগত ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক ও মেধাবী তরুণদের এই পথ অনুসরণ করে ইরানের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha