মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬ - ২০:১২
‘ইরানের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর শেষযাত্রা বিশ্বকে পাঁচটি শিক্ষা দিয়েছে’

তানজানিয়ার শিয়া সম্প্রদায়ের (TIC) নেতা হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন শাইখ হামিদ জাল্লাহ মুকিন্দেঙ্গে সম্প্রতি সরকারি সফরের অংশ হিসেবে রুফিজি জেলায় যান। সফরকালে তিনি পওয়ানি অঞ্চলের ইকুইরিরি এলাকায় অবস্থিত হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.) হুসাইনিয়ায় আয়োজিত ‘ইরানের শহীদ নেতা’র স্মরণসভায় অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে বক্তব্য রাখেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: তিনি বলেন, ইরানের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উযমা সাইয়্যিদ আলী খামেনেয়ী (রহ.)’র শেষযাত্রা শুধু একটি শোকানুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি ছিল এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনা, যা বিশ্ববাসীর সামনে ঐক্য, ন্যায়বিচার, দেশপ্রেম এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক মুমিনের উচিত এ ঘটনার অন্তর্নিহিত শিক্ষাগুলো অনুধাবন করে সেগুলোকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা।

প্রথম শিক্ষা: শিয়া মুসলিমদের ঐক্য
শাইখ হামিদ জাল্লাহ বলেন, এ ঘটনার প্রথম শিক্ষা হলো শিয়া মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য আরও সুদৃঢ় করা। একটি সম্প্রদায়ের প্রকৃত শক্তি তার সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সংহতি এবং সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, ছোটখাটো মতপার্থক্য কখনো বিভেদের কারণ হতে পারে না; বরং ইসলাম এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে।

দ্বিতীয় শিক্ষা: মাজহাবগত ভিন্নতা সত্ত্বেও মুসলিম ঐক্য
তিনি বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে মাজহাবগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকা অপরিহার্য। মুসলমানদের মধ্যে যে বিষয়গুলো ঐক্যের বন্ধন সৃষ্টি করে, তা বিভেদের কারণগুলোর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান এবং সহযোগিতার মাধ্যমে ইসলাম, সামাজিক শান্তি ও জাতীয় উন্নয়নের জন্য একযোগে কাজ করা উচিত।

তৃতীয় শিক্ষা: বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মধ্যে সম্প্রীতি ও মানবিক মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা
শাইখ হামিদ জাল্লাহ বলেন, তৃতীয় শিক্ষা হলো বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সমাজকল্যাণে সহযোগিতার গুরুত্ব। ধর্মীয় ভিন্নতা কখনো ঘৃণা বা সংঘাতের কারণ হওয়া উচিত নয়; বরং তা পারস্পরিক বোঝাপড়া, মানবিক মর্যাদার প্রতি সম্মান এবং ন্যায়বিচার, শান্তি ও জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

চতুর্থ শিক্ষা: দেশপ্রেম ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা
তিনি বলেন, চতুর্থ শিক্ষা হলো দেশপ্রেম। তিনি তানজানিয়ার জনগণকে নিজ দেশকে ভালোবাসতে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবা করতে এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব দেশের শান্তি, ঐক্য ও অগ্রগতি রক্ষা করা। কারণ একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে তার জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও অংশগ্রহণের ওপর।

পঞ্চম শিক্ষা: সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্বের প্রতি সম্মান
তিনি বলেন, সমাজের উচিত এমন নেতৃত্বকে সম্মান ও সমর্থন করা, যারা ন্যায়পরায়ণতা, সততা এবং আত্মত্যাগের চেতনায় জনগণ ও দেশের সেবা করেন। এ ধরনের নেতৃত্ব সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও দোয়ার দাবিদার, যাতে তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকরভাবে কাজ করে যেতে পারেন।

বক্তৃতার শেষে শাইখ হামিদ জাল্লাহ মুকিন্দেঙ্গে উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা এসব শিক্ষা কেবল শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রাখেন; বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে তা বাস্তবায়ন করেন। তিনি বলেন, একটি সমাজ তখনই স্থায়ী শান্তি, প্রকৃত সংহতি এবং টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে, যখন প্রত্যেক ব্যক্তি আল্লাহভীতি, পারস্পরিক ভালোবাসা এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশ ও সমাজের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করে।

অনুষ্ঠানটি দোয়া ও নৈতিক-ধর্মীয় উপদেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এ সময় উপস্থিতদের আহলে বাইত (আ.)-এর আদর্শ অনুসরণ, মুসলিম ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

‘ইরানের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর শেষযাত্রা বিশ্বকে পাঁচটি শিক্ষা দিয়েছে’

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha