বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই ২০২৬ - ১২:৫৭
ঐক্য রক্ষা কখনোই সংশোধনের প্রয়োজন উপেক্ষা করার অর্থ নয়

আয়াতুল্লাহ সাঈদী বলেছেন, ঐক্য রক্ষা কখনোই সমাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনকে উপেক্ষা করা বা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ (আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার) পরিত্যাগ করার অর্থ নয়। ইসলামী বিপ্লবের মূল্যবোধের প্রতি অটল থেকে সমাজ সংস্কারের পথ অনুসরণ করা সম্ভব, সমাজের ঐক্য ও সংহতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করেই।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যিদ মুহাম্মদ সাঈদী বুধবার হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.)-এর পবিত্র দরগাহের মিহরাব হলে অনুষ্ঠিত কুম প্রদেশের গণসংস্কৃতি পরিষদের সভায় ইসলামী শিক্ষায় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শহীদ ইমামের বক্তব্যসমূহ এবং সম্প্রতি ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার বিবৃতিতে ইসলামী ঐক্য রক্ষা এবং মহান আল্লাহকে কেন্দ্র করে মুমিনদের ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন সর্বদা মুমিনদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজেদের অবস্থান, বক্তব্য ও আচরণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ইসলামী সমাজে মতভেদ ও বিভক্তির পরিবেশ সৃষ্টি না হয়।

কুমের জুমার ইমাম আরও বলেন, ঐক্য রক্ষা কখনোই সমাজ সংস্কারকে উপেক্ষা করা বা আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার ত্যাগ করার নাম নয়। বরং ইসলামী বিপ্লবের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার বজায় রেখেই সমাজ সংস্কারের পথ অনুসরণ করা যায়, সমাজের সংহতিকে ক্ষুণ্ন না করে।

তিনি যোগ করেন, কখনও কখনও একজন ব্যক্তি এমন কিছু তথ্য জানেন যা অন্যরা জানেন না। এমন পরিস্থিতিতে তা প্রকাশের সম্ভাব্য প্রভাব ও পরিণতি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সম্ভব হলে আলোচনা, মতবিনিময়, উপদেশ এবং মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিষয়গুলোর সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।

বিশেষজ্ঞ পরিষদের (মাজলিসে খোবরেগান) সদস্য আয়াতুল্লাহ সাঈদী বলেন, যদি কোনো বক্তব্য সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং শত্রুরা তা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়, তাহলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই বক্তব্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

তিনি আরও বলেন, এই সুপারিশ এমন এক বাস্তবতার মধ্যেই করা হচ্ছে যে, বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় নেতারাও কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবুও তাঁরা সবসময় ইসলামের স্বার্থ ও ইসলামী সমাজের কল্যাণকে অন্যান্য বিষয়ের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

আয়াতুল্লাহ সাঈদী জোর দিয়ে বলেন, কুরআনের কাঙ্ক্ষিত ঐক্য হলো আল্লাহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঐক্য; রাজনৈতিক বা দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে গঠিত ঐক্য নয়।

তিনি বলেন, মতপার্থক্য ও সমস্যাগুলো যুক্তিসঙ্গত ও সংস্কারমূলক পদ্ধতিতে সমাধান করা উচিত এবং এমন বিষয় জনসমক্ষে উত্থাপন করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন, যা সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে।

তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগের ইসলামী সমাজের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সেই সময়েও নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কিছু ব্যক্তি সমাজে উপস্থিত ছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে আচরণের পদ্ধতি সবসময় ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থ ও মুসলিম সমাজের কল্যাণ বিবেচনা করেই নির্ধারণ করা হতো।

কোমের জুমার ইমাম পবিত্র কুরআনে আবু লাহাবের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মহান আল্লাহ কুরআনে স্পষ্টভাবে আবু লাহাবের নাম উল্লেখ করেছেন। কিন্তু একই সময়ে এমন কিছু লোকও ছিল যারা বাহ্যিকভাবে নবী (সা.)-এর পাশে অবস্থান করলেও ইসলামী সমাজের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছিল। তবুও তাদের সঙ্গে আচরণ সমাজের স্বার্থ ও তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করেই করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী সমাজের অভ্যন্তরেও কখনও কখনও এমন কিছু ব্যক্তি থাকতে পারে, যারা বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। তবে তাদের মোকাবিলা করতে হবে বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা এবং জনস্বার্থকে সামনে রেখেই।

আয়াতুল্লাহ সাঈদী সমালোচনার সামাজিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, কোনো ব্যক্তি হয়তো সংশোধনের উদ্দেশ্যে একটি কথা বলতে পারেন। কিন্তু সবাই সেই বক্তব্য গ্রহণ করার মানসিকতা নাও রাখতে পারে। ফলে এমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলাফল হবে সমাজে বিভেদ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি।

তিনি শেষ পর্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, সমাজের পরিস্থিতি এবং বক্তব্যের সামাজিক প্রভাব সবসময় বিবেচনায় রাখা জরুরি। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইসলামী সমাজের ঐক্য ও সংহতি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা, প্রজ্ঞা ও সচেতনতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha