হাওজা নিউজ এজেন্সি: রেজা ইউসুফজাদে বলেন, পরামর্শক হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি অসংখ্য দম্পতির কাছ থেকে একই অভিযোগ শুনেছেন—“আমরা যেন এখন শুধু একসঙ্গে থাকি, কিন্তু আগের মতো সম্পর্ক নেই।” তাঁর মতে, এ অনুভূতির অর্থ হলো, সম্পর্কের জন্য প্রয়োজনীয় আবেগিক শক্তি বা ইতিবাচক বিনিয়োগ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
প্রশ্ন
একজন দাম্পতি জানতে চান— “আমাদের বিয়ের আট বছর হয়েছে। আমাদের একটি সন্তানও রয়েছে। কিছুদিন ধরে আমাদের সম্পর্ক খুবই শীতল ও প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। আমার স্বামী অফিস থেকে ফিরে ক্লান্ত থাকেন এবং বেশিরভাগ সময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন। অন্যদিকে আমি ঘরের কাজ ও সন্তানের দেখাশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকি। আগের মতো আর গল্প করা হয় না। মনে হয়, আমরা যেন শুধু একই বাড়িতে বসবাস করছি। কীভাবে বিয়ের শুরুর দিকের সেই আন্তরিকতা ও উচ্ছ্বাস আবার ফিরিয়ে আনতে পারি? আর এমন পরিস্থিতি কি স্বাভাবিক?”
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
রেজা ইউসুফজাদে বলেন, পরিবারকে একটি বাগানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। বাগানে নিয়মিত পানি না দিলে যেমন গাছপালা শুকিয়ে যায়, তেমনি সম্পর্কেও নিয়মিত যত্ন, সময় ও আবেগের পরিচর্যা না করলে তা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, অনেকেই সংসার থেকে প্রত্যাশা করতে জানেন, কিন্তু সম্পর্কে নতুন প্রাণ সঞ্চার করার জন্য কীভাবে নিয়মিত আবেগিক বিনিয়োগ করতে হয়, তা জানেন না। এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে দাম্পত্য সম্পর্ক আবারও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে।
এ জন্য তিনি তিনটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়ের কথা উল্লেখ করেন।
১. প্রতিদিনের ‘সোনালি ১৫ মিনিট’
প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট শুধুমাত্র একে অপরের জন্য নির্ধারণ করুন। এ সময় মোবাইল ফোন দূরে রাখুন, টেলিভিশন বন্ধ রাখুন এবং মন খুলে কথা বলুন।
কথার বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। দিনের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, অনুভূতি কিংবা যেকোনো সাধারণ বিষয় নিয়েই আলাপ হতে পারে। একজন প্রশ্ন করবেন, অন্যজন উত্তর দেবেন—এভাবেই কথোপকথনের ধারাবাহিকতা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক দম্পতি দিনে ১০ মিনিটেরও কম সময় একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন। তাই প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট আন্তরিকভাবে কথা বলার অভ্যাসও সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। পরে চাইলে এ সময় ধীরে ধীরে ২০ মিনিটে বাড়ানো যেতে পারে।
২. নিয়মিত দুজনের জন্য আলাদা সময় রাখুন
স্বামী-স্ত্রীর উচিত নিয়মিত একান্তে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করা। এর জন্য ব্যয়বহুল কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই।
একসঙ্গে পার্কে হাঁটতে যাওয়া, কোনো ক্যাফেতে বসে চা পান করা কিংবা বাড়িতেই নিরিবিলি বসে এক কাপ চা ভাগাভাগি করে পান করা—এসব ছোট ছোট মুহূর্তও সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তুলুন
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত একটি বিষয়ের জন্য একে অপরকে ধন্যবাদ জানান।
হতে পারে, “আজ তুমি সন্তানের দেখাশোনা করেছ, ধন্যবাদ”, অথবা “আজ আমার কাজে সহযোগিতা করার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।”
ইউসুফজাদে বলেন, অনেক সময় একটি ছোট ইতিবাচক আচরণ বা আন্তরিক কৃতজ্ঞতার প্রকাশই সম্পর্কে নতুন শক্তি সঞ্চার করে। নিয়মিত এ ধরনের ছোট ছোট আবেগিক বিনিয়োগই দাম্পত্য জীবনের ‘আবেগের সঞ্চয়’ বাড়ায় এবং সম্পর্ককে আরও দৃঢ়, আন্তরিক ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আপনার কমেন্ট