হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহীদ মুর্তজা মুতাহহারি (রহ.) তাঁর এক বক্তব্যে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন, যেখানে জিয়ারতকে শুধু অর্থব্যয়ের বিষয় হিসেবে দেখা হয়। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন—মক্কা, মদিনা, কারবালা কিংবা মাশহাদে সফর না করে সেই অর্থ হাসপাতাল, স্কুল বা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হলে কি বেশি ভালো হতো না?
জবাবে তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলেন, আমরা কেন হজ বা মদিনা জিয়ারতে যাব এবং নিজেদের অর্থ বিদেশিদের পকেটে ঢেলে দেব? কিংবা কেন আমরা ইরাকে জিয়ারতে যাব? সেখানে যে অর্থ খরচ করতে চাও, সেই অর্থ এখানেই খরচ করো!
তাদের ধারণা, মানুষ শুধু অর্থ ব্যয় করে সওয়াব অর্জন করতে চায়। তাই তারা বলে, জিয়ারত করে যে সওয়াব পেতে চাও, তার পরিবর্তে এখানে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করো—তাহলেও তো একই সওয়াব পাবে।
বিষয়টি শুধু সওয়াবের নয়; এর চেয়েও ঊর্ধ্বতন কিছু।
তোমাকে বলা হয়, মক্কায় যাও এবং নতুন জীবন লাভ করো। মহানবী (সা.)-এর পবিত্র কবর জিয়ারত করো, আত্মিক শক্তি সঞ্চয় করো, ভালোবাসা অর্জন করো! ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর সঙ্গে আত্মিক সান্নিধ্য গড়ে তোলো এবং নিজের আত্মাকে জীবন্ত করে তোলো! হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর সঙ্গে আত্মিক সান্নিধ্য গড়ে তোলো এবং নিজের আত্মাকে জীবন্ত করে তোলো!
তারপর সেই জাগ্রত আত্মা নিয়ে ইরানে ফিরে এসো। যখন জীবন্ত আত্মা নিয়ে ফিরে আসবে, তখন হাসপাতালও নির্মাণ করবে; ১০০টি হাসপাতালও নির্মাণ করবে। হুসাইনিয়াও নির্মাণ করবে, সেতুও নির্মাণ করবে, স্কুলও নির্মাণ করবে এবং হাজারো কল্যাণমূলক কাজে অংশ নেবে।
এই দেশে যে জনকল্যাণমূলক কাজগুলো হচ্ছে, যারা মক্কায় যায় না, তারা কেন এসব কাজ করে না? যারা কারবালায় যায় না, তারা কেন এসব কাজ করে না? যারা কখনো মাশহাদে যায় না, তারা কেন এসব কাজ করে না?
আর যারা প্যারিস, লন্ডন, সুইজারল্যান্ড ও আমেরিকায় নিজেদের অর্থ ব্যয় করে, তারা কেন এসব জনকল্যাণমূলক কাজ করে না?
কারণ, সে সেখানে গিয়ে নিজের আত্মাকে কলুষিত ও অপবিত্র করে ফেলে। এরপর এখানে ফিরে আসে একজন বস্তুবাদী মানুষ হিসেবে। কেউ অসুস্থ হয়ে মারা গেল—‘যাক, তাতে আমার কী!’ কোনো শিশু স্কুলবিহীন—‘থাক, স্কুল না থাকলে আমার কী!’
কিন্তু এই মানুষটি জিয়ারতে যায় এবং মানুষ হয়ে ফিরে আসে; ভালোবাসা নিয়ে ফিরে আসে; মমতা ও সহমর্মিতা নিয়ে ফিরে আসে!”
আপনার কমেন্ট