শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬ - ১৮:৪৩
অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে শত্রু দেশের ক্ষতি করতে চায়

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ সাঈদ হুসাইনি বলেন, শত্রু অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে দেশের ক্ষতি করতে চায়। এ পরিস্থিতিতে সম্পদের সাশ্রয় এবং জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, কাশান শহরের বাকিয়াতুল্লাহ আল-আযম (আ.) মুসাল্লায় এ সপ্তাহের জুমার নামাজের খুতবায় হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ সাঈদ হুসাইনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে শত্রুর পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল ওয়ালিয়ে ফকিহকে কেন্দ্র করে জনগণের প্রতিরোধ ও ঐক্য। এই ঐক্য ও সংহতি অবশ্যই ধরে রাখতে হবে।

তিনি ৩৩ দিনের যুদ্ধের বিভিন্ন দিক পুনর্বিবেচনা করে বলেন, লেবাননের হিজবুল্লাহর বিজয়ে ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতার ঐতিহাসিক বার্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শহীদ কাসেম সোলাইমানি ওই বার্তা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এর ফলে হিজবুল্লাহর মনোবল বৃদ্ধি পায় এবং যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তিত হয়।

কাশানের জুমার ইমাম চলতি সপ্তাহের ঐতিহাসিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বাহরাইনের আয়তন আলবোর্জ প্রদেশের প্রায় সমান। মুহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনামলে ব্রিটিশ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাহরাইন ইরান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ১৩৩২ ফার্সি সালের ২৮ মোরদাদ (১৯ আগস্ট ১৯৫৩)-এর অভ্যুত্থান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য শত্রুতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। কারও কারও ধারণার বিপরীতে, ওয়াশিংটনের বৈরিতা শুধু মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়; বরং এর শিকড় সেই জাতীয়তাবিরোধী অভ্যুত্থানের মধ্যেই নিহিত।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন হুসাইনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের জ্বালানির দাম কমানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, শত্রুর মূল লক্ষ্য শুরু থেকেই ছিল ইরানের ওপর পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, দেশটিকে বিভক্ত করা এবং সরকারব্যবস্থার পরিবর্তন। আজ তারা তাদের স্লোগান ও বক্তব্য থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে-এটি ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ও অভূতপূর্ব ঐক্যের সামনে তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ারই প্রমাণ।

তিনি শত্রুর নতুন ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকা আশা করছে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে দেশে ১৮ দে-এর অভ্যুত্থানের মতো একটি অনিরাপদ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। কিন্তু এই অশুভ পরিকল্পনার নিশ্চিত প্রতিষেধক হলো-বেলায়েতে ফকিহকে কেন্দ্র করে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক ধারার ঐক্য এবং জনগণের পক্ষ থেকে জ্বালানি, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ব্যবহারে কঠোর সাশ্রয় করা।

কাশানের জুমার ইমাম গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ নেতার করা নিয়োগগুলোর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বিদেশি বিশ্লেষকরা এসব নিয়োগ সম্পর্কে বলেছেন যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কৌশল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানে পরিবর্তিত হয়েছে এবং কমান্ডারদের আক্রমণাত্মক কৌশল বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি সৎকাজের নির্দেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার ধর্মীয় কর্তব্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, শালীনতা ও হিজাবের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে তাদের আইনগত ও শরিয়তসম্মত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha