শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬ - ১২:৪০
বিপ্লবের দুই ইমাম ইসলামের একটি জীবন্ত, জীবনদায়ী ও গতিশীল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন

আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফি:

বিপ্লবের দুই ইমাম ইসলামের একটি জীবন্ত, জীবনদায়ী ও গতিশীল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন

‘ইসলামী চিন্তার সমন্বিত কাঠামো’ প্রকল্প-‘অগ্রগামী ও শ্রেষ্ঠ হাওজা’র দিকে এক পদক্ষেপ

দেশের হাওজাগুলোর পরিচালক জোর দিয়ে বলেছেন যে, বিপ্লবের দুই ইমাম ইসলামের একটি জীবন্ত, জীবনদায়ী ও আন্দোলন-সৃষ্টিকারী ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। তিনি ‘ইসলামী চিন্তার সমন্বিত কাঠামো’ প্রকল্পকে সভ্যতামুখী ও বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে একটি ‘অগ্রগামী ও শ্রেষ্ঠ হাওজা’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের হাওজাগুলোর পরিচালক আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফির ‘ইসলামের সমন্বিত চিন্তা ও সামাজিক জীবনব্যবস্থার কাঠামো’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে পাঠানো পূর্ণাঙ্গ বার্তাটি নিম্নরূপ:

بسمه تعالی

নবী ও ওলিদের আত্মার প্রতি, বিশেষত শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং শেষ ওয়াসির (আ.) পবিত্র আত্মার প্রতি সালাম নিবেদন করছি। একইসঙ্গে মরহুম ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর পবিত্র আত্মা, ইসলামের মহান শহীদগণ, ইসলামী বিপ্লবের শহীদগণ, যুদ্ধ ও তৃতীয় প্রতিরোধের শহীদগণ-বিশেষত সেই মহান ও প্রিয় শহীদ নেতা ও ইমামের (কুদ্দিসা সিররুহু) প্রতি সালাম জানাচ্ছি।

ইসলামী চিন্তার সমন্বিত কাঠামোর উন্নততর পর্যায়ের এই কোর্সে অংশগ্রহণকারী সম্মানিত শিক্ষক, ফজিলতপ্রাপ্ত আলেম ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের প্রতি এবং এই কোর্সের সম্মানিত আয়োজকবৃন্দ ও সম্মানিত ‘তাহযিব ও তারবিয়াত’ বিভাগের প্রতি, হযরত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র ভূমি ও পবিত্র মাজারের সান্নিধ্য থেকে আমার আন্তরিক সালাম ও গভীর কৃতজ্ঞতা নিবেদন করছি।

আমার ইচ্ছা ছিল সেই মহান ইমামের (আ.) জিয়ারতে উপস্থিত হওয়া এবং একইসঙ্গে শহীদ নেতার (রহ.) পবিত্র সমাধিতে গিয়ে সরাসরি শ্রদ্ধা, সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা। কিন্তু কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে সে সৌভাগ্য আমার হলো না।

এই সুযোগে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, হাওজার পরিবর্তনমূলক নথি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচির সমন্বিত ব্যবস্থায় এবং হাওজাকে ‘অগ্রগামী ও শ্রেষ্ঠ হাওজা’ হিসেবে বিকশিত, পরিণত ও উৎকর্ষের দিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘ইসলামী চিন্তার সমন্বিত কাঠামো’ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, বিশেষত উচ্চতর শিক্ষাস্তরের শিক্ষার্থীদের ইসলামী চিন্তার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো এবং ধর্মীয় ও বিপ্লবী জ্ঞানের বৃহৎ জ্ঞানবৃক্ষের সঙ্গে পরিচিত করা-সমকালীন হাওজার শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ এবং বিপ্লবের দুই ইমামের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, একটি সভ্যতামুখী ও বিপ্লবী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে।

একজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা ধর্মীয় আলেমের মধ্যে এ ধরনের ব্যাপক, সভ্যতামুখী ও জীবনদায়ী দৃষ্টিভঙ্গির অনুপস্থিতি বা দুর্বলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা, যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। এই ঘাটতি পূরণ এবং এই অপূর্ণতা সংশোধনের লক্ষ্যেই এ ধরনের প্রকল্প, ‘তারহে ভেলায়াত’ এবং শহীদ মুর্তজা মোতাহহারি (রহ.)-এর রচনাবলি অধ্যয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাস্তবতা হলো, আমরা সবসময়ই প্রিয় ইসলামের এবং মহান রাসুল (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত (আ.)-এর মহান শিক্ষার অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যা, সীমিত পাঠ, সভ্যতাবিমুখ দৃষ্টিভঙ্গি এবং খণ্ডিত ও সংকীর্ণ পদ্ধতির মুখোমুখি হয়েছি।

কিন্তু আধুনিক যুগে হযরত ইমাম খোমেনি (রহ.), শহীদ ইমাম খামেনেয়ী (রহ.), আল্লামা তাবাতাবায়ী (রহ.), শহীদ মুহাম্মদ বাকের সদর (রহ.), তাঁদের বিশিষ্ট শিষ্যবৃন্দ এবং হাওজার অন্যান্য বিশিষ্ট আলেম ইসলামের প্রতি একটি পূর্ণাঙ্গ ও সভ্যতামুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে ইসলামের একটি জীবন্ত, জীবনদায়ী ও আন্দোলন-সৃষ্টিকারী ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন।

এই চিন্তা বাস্তব জীবনে মহিমান্বিত ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে প্রকাশ লাভ করেছে। এটি একটি নতুন বিশ্বের জন্ম দিয়েছে। আল্লাহর অনুগ্রহে, সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বে, মরজায়ে তাকলিদদের, চিন্তাবিদদের এবং হাওজার মহান ব্যক্তিত্বদের সহযোগিতায় এই জ্ঞানভিত্তিক আন্দোলনের প্রতিধ্বনি ইরান ও বিশ্বজুড়ে অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে, সম্মানিত আলেমসমাজ ও হাওজার সদস্যদের-বিশেষত তরুণ ফজিলতপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের, যারা হাওজা ও ইসলামী বিপ্লবের ভবিষ্যতের সম্পদ-প্রতি আমার অনুরোধ, এসব কৌশলগত বিষয়, পরিবর্তনমূলক প্রকল্প এবং বিশেষ করে ‘ইসলামী চিন্তার সমন্বিত কাঠামো’ প্রকল্পের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব ও মনোযোগ দিন।

জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির বিকাশের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক, সামাজিক, প্রচারমূলক ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।

এই পবিত্র ও কঠিন পথে আপনাদের এবং সকল প্রিয়জনের সাফল্যের জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি। আন্তরিকভাবে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, আপনাদের জন্য দোয়া করছি এবং ক্ষমাপ্রার্থী। আশা করি, আপনারা হযরত ইমাম রেজা (আ.) এবং হযরত ওলিয়ে আসর (আ.)-এর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করবেন।

এবং আমাদের শেষ প্রার্থনা-সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আলীরেজা আরাফি

দেশের হাওজাগুলোর পরিচালক

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha