হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পবিত্র জামকারান মসজিদের ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠানে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সামাদি সূরা আলে ইমরানের শেষ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘সবর, মুসাবারা, মুরাবাতা ও তাকওয়া’-এই চারটি নির্দেশনাকে কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম, শত্রুর মোকাবিলা এবং হযরত ওয়ালিয়ে আসর (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য মুমিনদের কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধৈর্য ঈমানের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। যে ব্যক্তি বা সমাজ সমস্যা, হুমকি ও কঠিন পরিস্থিতির সামনে দৃঢ়ভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে, সে তার উচ্চতর লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। পক্ষান্তরে দুর্বলতা, শৈথিল্য ও অসহিষ্ণুতা পরাজয় ও ক্ষতির পথ তৈরি করে।
পবিত্র জামকারান মসজিদের এই বক্তা ধৈর্যকে তিনটি ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করেন: আনুগত্য ও ইবাদত পালন, পাপ থেকে বিরত থাকা এবং বিপদ-মুসিবত সহ্য করা। তিনি বলেন, একজন মুমিনের ইবাদত পালনের জন্য, গুনাহের বিরুদ্ধে নিজেকে সংযত রাখার জন্য এবং জীবনের নানা সমস্যায় ধৈর্য ধারণের জন্য সহনশীলতা ও দৃঢ়তা প্রয়োজন।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সামাদি আল্লাহর নবীদের ধৈর্যের বিভিন্ন কোরআনিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, হযরত ইসমাঈল, হযরত ইদরিস, হযরত যুলকিফল ও হযরত আইয়ুব (আ.) ধৈর্য ও দৃঢ়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একইভাবে মহানবী (সা.)-কেও মুশরিকদের নির্যাতন ও চাপের মুখে ধৈর্য ও সহনশীলতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘মুসাবারা’ মূলত শত্রুর মোকাবিলায় প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। একজন মুমিন শত্রুর চাপ ও হুমকির মুখে দুর্বল হয়ে পড়বে না; বরং শত্রুর চাপ যত বাড়বে, তার দৃঢ়তা ও প্রতিরোধও তত বাড়াতে হবে।
হাওজা ইলমিয়ার এই শিক্ষক শিয়া মুসলিমদের দৃঢ়তার ফলাফল সম্পর্কে ইমাম সাদিক (আ.)-এর একটি বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিরোধ ও দৃঢ়তা ফেরেশতাদের সাহায্য লাভ, আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ অবতরণ, মুমিন সমাজের মর্যাদা ও বিজয়, সমস্যার সমাধান এবং দোয়া কবুলের পথ প্রশস্ত করে।
এরপর হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সামাদি কোরআনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে ‘মুরাবাতা’-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মুরাবাতা অর্থ সতর্ক প্রহরা ও সীমান্তরক্ষা। যেভাবে সৈনিকেরা ভৌগোলিক সীমান্ত পাহারা দেন, তেমনি ধর্মীয় আলেমদেরও ইসলামী সমাজের বিশ্বাস ও চিন্তার সীমান্ত রক্ষা করার দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হযরত ওলিয়ে আসর (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও মুরাবাতার গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত। একজন মুমিনের উচিত নয় তার ইমাম ও হযরত ইমাম মাহদী (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা। দোয়ায়ে আহদ ও দোয়ায়ে নুদবা-র মতো দোয়াগুলো আল্লাহর হুজ্জতের সঙ্গে এই সম্পর্ক ও বন্ধনেরই প্রকাশ।
পবিত্র জামকারান মসজিদের বক্তা হযরত ওয়ালিয়ে আসর (আ.)-এর শায়খ মুফিদের কাছে লেখা চিঠির কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই চিঠিতে হযরত ইমাম মাহদী (আ.) শিয়াদের প্রতি তাঁর মনোযোগ ও বিশেষ অনুগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন। তাই মুমিনদেরও ইমাম মাহদী (আ.)-এর সুস্থতা ও আবির্ভাবের জন্য দোয়া করার মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা উচিত।
শেষে তিনি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আবুল হাসান ইসফাহানির জীবনের একটি ঘটনা বর্ণনা করে শিয়াদের প্রতি হযরত ওয়ালিয়ে আসর (আ.)-এর বিশেষ অনুগ্রহের একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইমাম মাহদী (আ.)-এর সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক কঠিনতম পরিস্থিতিতেও একজন মুমিনের জন্য আশা, প্রশান্তি ও দৃঢ়তার উৎস হতে পারে।
আপনার কমেন্ট