বুধবার ২৬ আগস্ট ২০২৬ - ২০:০৩
খুলনায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শিয়া-সুন্নির ঐক্যের বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস

নবীপ্রেমের স্লোগান ও দরুদে মুখরিত নগরী, ইসলামী ঐক্যের বার্তা

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে খুলনায় বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্মদিবস উপলক্ষে সম্মিলিত ওলামায়ে কেরাম ও মিনহাজুল কোরআন খুলনা এবং আঞ্জুমানে পাঞ্জাতনী খুলনা-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে খুলনা রয়েল চত্বরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সমবেত হন। সকাল ৯টায় সেখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসের যাত্রা শুরু হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র শুভাগমন ও জন্মদিবসের আনন্দকে স্মরণ এবং ইসলামী ঐক্যের চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ জুলুসে খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
জুলুসে শিশু-কিশোর, যুবক, প্রবীণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে নবীপ্রেমের স্লোগান, দরুদ ও সালাম এবং ইসলামী ঐক্যের আহ্বানে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। মহানবী (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জুলুসে শামিল হন।
ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতির চেতনাকে জোরদার করা। আয়োজকরা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে মুসলিম সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
জশনে জুলুস চলাকালে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জুলুসটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে তা শহীদ হাদিস পার্কে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন এস. এম. মোঃ হালিম, খুলনা ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের সম্মানিত অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম মওলানা সৈয়দ ইব্রাহীম খলীল রাজাভী, মিনহাজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ মাহমুদুর রহমান, মওলানা মোঃ মঞ্জুর আহমেদ এবং সম্মিলিত ওলামায়ে কেরামের সম্মানিত সভাপতি মওলানা মোঃ ইব্রাহিম ফায়জুল্লাহ।
বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, তাঁর শিক্ষা মানবতার মুক্তি, শান্তি, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা। বর্তমান সময়ে মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক বিভেদ ও মতপার্থক্য দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামের শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর আদর্শই হতে পারে মুসলমানদের ঐক্যের প্রধান ভিত্তি।
তারা আরও বলেন, ইসলামী ঐক্য সপ্তাহের মূল শিক্ষা হলো—মুসলমানদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যকে সুদৃঢ় করা এবং সব ধরনের বিভেদ, হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করে শান্তি ও সম্প্রীতির সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জন্মদিবস উদযাপনের পাশাপাশি তাঁর আদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান বক্তারা।
জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা মহানবী (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর আনন্দ ও ইসলামী ঐক্যের বার্তা সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জশনে জুলুসটি শহীদ হাদিস পার্কে এসে সমাপ্ত হওয়ায় আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্বেচ্ছাসেবক এবং অংশগ্রহণকারী ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিবস ও ইসলামী ঐক্য সপ্তাহের এ আয়োজন মুসলিম সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha