হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্ব১-হুসী নেতৃত্বাধীন আনসারুল্লাহর হাতে আল-মুখা (المُخا) বন্দর সম্প্রতি মুক্ত হয়েছে। এছাড়াও আল-মুখা অঞ্চলে আল-খালেদ সামরিক ঘাঁটি এবং জাবালুন নারও আনসারুল্লাহর হাতে এসেছে।তায়েয্ (تَعِز) প্রদেশের চার এলাকায় যুদ্ধ চলছে।
আল-মুখা বন্দরের গুরুত্ব:এ বন্দরটি কৌশলগত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাবুল মান্দাব প্রণালীর কাছে অবস্থিত। আনসারুল্লাহ উল্লেখযোগ্য দ্রুত গতিতে দক্ষিণ পশ্চিম দিকে লোহিত সাগরের ইয়ামানী উপকূলের দিকে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে যা মাযুরার দৃষ্টিতেও খুবই বিস্ময়কর।
আনসারুল্লাহর অনুগত ইয়ামানী সেনাবাহিনী সৌদী আরব এবং সৌদী সমর্থিত গোষ্ঠীর সামরিক অবস্থান সমূহ সুক্ষ্ম ভাবে ও সাফল্যের সাথে নিশানা ও আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করছে। হিসার ফী মুকাবিলিল হিসার (حصار في مقابل الحصار) আর্থাৎ অবরোধের মোকাবেলায় অবরোধ -এই কৌশল অবলম্বন করেছে আনসারুল্লাহ।
বাবুল মান্দাব ও বাব ইস্কান্দারে পৌঁছানো এক বিরাট বড় সামরিক কৌশল এবং সামরিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আনসারুল্লাহ এখন বাবুল মান্দাবের ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে গেছে যা সত্যিই অভূতপূর্ব।
আনসারুল্লাহর অনুগত ইয়ামানী সেনাবাহিনী অভ্যন্তরীণ আরব গোত্র সমূহের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল সমূহে প্রবেশ এবং তাদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত না হয়ে ইয়ামানের উপকূল ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা এবং সমুদ্র তীর রেখা বরাবর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে যা হচ্ছে অত্যন্ত চাতুর্যপূর্ণ, বুদ্ধিদীপ্ত এবং আনসারুল্লাহর কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রজ্ঞার সাক্ষর স্বরূপ।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদী আরব ও আরব আমিরাত দক্ষিণ ও পূর্ব ইয়ামানের নিজেদের অনুগত গোষ্ঠী ও প্রক্সি দল সমূহকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে বাবুল মান্দাবকে নিয়ন্ত্রণ করতে কৌশলগত অস্ত্র যেমন: বিভিন্ন ধরনের মূশক (ক্ষেপণাস্ত্র) ,ড্রোন এবং দূর ও মাঝারি পাল্লার অস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হত আনসারুল্লাহকে যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল।আর এখন বাবুল মান্দাবের অতি নিকটবর্তী হওয়ার কারণে দ্রুত এই ব্যয় ও খরচ বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
এমনকি বাবুল মান্দাব সম্পূর্ণ করায়ত্ত না করলেও ভৌগলিক ভাবে খুব নিকটবর্তী হওয়ার জন্য খুব সহজেই এবং অল্প খরচে সাধারণ অস্ত্র ব্যবহার করেই আনসারুল্লাহ বাবুল মান্দাব অচল ও বন্ধ করে দিতে পারবে।
চলবে…
মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট